সবুজ অর্থায়নকে আরও এগিয়ে নিতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫৪

ড. আতিউর রহমান, ১৯ জুলাই, এবিনিউজ : বর্তমান সরকারের জোরালো সমর্থনের কারণে বাংলাদেশে সবুজ অর্থায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উন্নয়নমূলক ভূমিকার কারণে সবুজ অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে গৌরবময় আসনে স্থান করে নিয়েছে। এই অভিযাত্রাকে টেকসই করার স্বার্থেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সদা সচেতন ও সক্রিয় থাকা এখন আবশ্যক। টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হলে সবুজ অর্থায়নের বিষয়টিকেও অধিক গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বিশ্ব আর্থিক মন্দার গোলমেলে পরিবেশের মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি সবুজ অর্থায়ন সহায়ক রেগুলেটর হিসেবে দাঁড় করানোর। একই সঙ্গে জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা ইউনেপের টেকসই অর্থায়নবিষয়ক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও আমি বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে।

অনেক আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সবুজ পণ্য উৎপাদনের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়নে প্রায় দ্বিগুণ মূলধন (৪৭৮ মিলিয়ন টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২০ মিলিয়ন টাকা) জোগান সরবরাহ করে। এই উদ্যোগের আওতায় সর্বোচ্চ পরিমাণে ঋণ গ্রহণকারী ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে- পরিবেশবান্ধব ইটের ভাটা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি এবং তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এ জন্য পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালার মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত কার্বন মনো-অক্সাইড উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের অর্থ জোগানে ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে সেসব কাটিয়ে ওঠার জন্য সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঋণ প্রস্তাবনার শুরুতে উদ্যোক্তার পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয় খতিয়ে দেখার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি সবুজ বিনিয়োগ বা সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগকে দৃঢ় সর্মথন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন (সৌরবিদ্যুৎ), জ্বালানি সাশ্রয়ী দক্ষতার অভিযোজন (যেমন- এলইডি বা লাইট ইমিটেটিং ডায়োড সংযোজন), কারখানায় ন্যূনতম বর্জ্য উৎপাদনের অনুশীলন, সূর্যের আলো বেশি করে ব্যবহার ইত্যাদি। সবুজ পুনঃঅর্থায়ন চালু রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গঠন করেছে ‘বিশেষ তহবিল’। বহিরাগত উন্নয়ন সহযোগীরাও এই তহবিলের অংশীদার (যেমন- এডিবি ও বিশ্বব্যাংক)। এভাবে পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত সবুজ প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পারিবারিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুতের ক্ষুদ্র কেন্দ্র স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থার প্রবর্তন, সৌরবিদ্যুতের প্যানেল সংযোজন, জৈব জ্বালানি, বায়োগ্যাস ও ইটিপি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ইটভাটায় পরিবেশ দূষণকারী কাঠ ব্যবহার বা পরিবেশ বিধ্বংসী ইট পোড়ানোর পরিবর্তে জ্বালানি সাশ্রয়ী বিকল্প উপায়ে ইট পোড়ানো, জৈব সার উৎপাদন, ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, পুরনো প্লাস্টিক বোতল পুনর্ব্যবহার, সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারি রিসাইক্লিং, লাইট ইমিটেটিং ডায়োড বা এলইডি বাতি, এলইডি মনিটর উৎপাদন এবং সবুজ গার্মেন্টস কারখানা ও বাড়ি নির্মাণের মতো নানামুখী অর্ধশতাধিক সবুজ পণ্যের বিনিয়োগের উদ্যোগ কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকিং খাতকে কাগজবিহীন ও আধুনিক করে তোলার জন্য লেনদেন ও নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপক ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে যা চূড়ান্ত অর্থে একটি সবুজ উদ্যোগই। অর্থনীতির চাকাকে সবুজ করার জন্য দু’শ কোটি টাকার রিভলভিং সবুজ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে, যা দিয়ে প্রাথমিকভাবে রপ্তানিশিল্প যেমন- তৈরি পোশাক, চামড়া ইত্যাদিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালিত চৌকস পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিশ কোটি ডলার মূল্যের সবুজ রূপান্তর তহবিল। এটি আমাদের নিজস্ব রিজার্ভ থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তা ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও জাইকাও সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থ জোগানে এগিয়ে এসেছে। এসব সবুজ অর্থায়ন কর্মসূচির যথার্থ বাস্তবায়ন করা গেলে নিশ্চয় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য (যেমনÑ সবুজ টেক্সটাইল পণ্য, চামড়া) বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নয়া সবুজ ব্র্যান্ডিংয়ের উৎসও হয়ে উঠতে পারবে। সবুজ অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বীকার করতে হবে, আমাদের সামনে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। যেমন- সীমিত সম্পদ, চাহিদার অপ্রতুলতা, দক্ষতার অভাব, উচ্চ ঝুঁকি গ্রহণ, অধিক ব্যয় ইত্যাদি। এ ছাড়া বর্তমান পুঁজিবাজারের পরিবেশ এই সবুজ ব্যাংকিংয়ের অনুকূলে নেই। এ ক্ষেত্রেও সবুজ অর্থায়নের সূচনার কথা বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে সবুজ করার জন্য সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে পারে পুঁজিবাজারের রেগুলেটর। রাজস্বনীতিতে সে জন্য যথেষ্ট সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক খাতের ভূমিকা, নীতি-পলিসি তৈরির প্রেক্ষাপটগুলো নজিরবিহীন মনোযোগ আকর্ষণ করেছে গোটা বিশ্বে। সবুজ অর্থায়ন বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের নীতিনির্ধারকরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে একযোগে কাজ শুরু করেছে। চীনের কথাই ধরা যাক। দেশটির অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে উচ্চাভিলাষী সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার। চীনের গৃহীত নানাবিধ উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে পুরোমাত্রায় কাজ করে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নেদারল্যান্ডস সরকার ব্যাংক-বীমা খাতের পাশাপাশি দেশটির পেনশন শিল্পের টেকসই অর্থায়ন আলোচনা জাতীয় কৌশলের অন্তর্ভুক্ত করেছে। জলবায়ু ঝুঁকি সম্পর্কিত বিআইএস টাস্কফোর্সের কাজের জন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নরকে প্রধান করে আর্থিক স্থিতিশীলতা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তা ছাড়া আগেই জানিয়েছি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমন্বিত ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ওই দেশের বীমা খাতের রূপান্তর ঘটিয়েছে। এভাবে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্রহণ করছে সবুজ অর্থায়ন কৌশল। কেনিয়ার কথা উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে। কেনিয়া এখন ডিজিটাল অর্থায়নে গোটা বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অবশ্য বাংলাদেশও কম যায় না। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি বিষয়টি মনে রেখে তারা উদ্ভাবনীমূলক সবুজ ডিজিটাল অর্থায়নের জন্য মোবাইল পেমেন্ট প্লাটফর্মে অ্যাপস যুক্ত করে সবুজ অর্থায়নের ধারণা সুকৌশলে কাজে লাগিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ করছে। ‘নেট মিটারিং’-এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ব্যবহার করছে ব্লকচেইন, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো আধুনিক ডিজিটাল সবুজ লেনদেন মাধ্যম। বিশ্বের প্রথম টেকসই অর্থায়ন রোডম্যাপ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক রেগুলেটরি অথরিটি। ব্রাজিলের প্রভাবশালী ‘ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশন’ সে দেশের ব্যাংকিং সম্প্রদায়কে সবুজ অর্থায়নে একীভূত করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। অথচ আমাদের দেশের ব্যাংকের মালিকরা সবুজের বদলে উল্টো কাজেই মনে হয় বেশি আগ্রহী।

বাংলাদেশে সবুজ অর্থায়ন একটি সূচনামাত্র, গন্তব্য নয়। সবুজ অর্থায়নে আমাদের বাংলাদেশের প্রচেষ্টা, উদ্যোগ, সফলতা এবং অর্জন সম্পর্কে আলোকপাত করার আগে এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের এখনো অনেকদূর পথচলা বাকি রয়েছে। আর্থিক খাতের সবুজায়ন প্রক্রিয়া বাড়ানোর কাজে দেশের শীর্ষ নীতি-কৌশল প্রণেতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, নিরীক্ষায়ন ও বাস্তবায়নের পথে আমাদের আরও অনেক কিছুই করার আছে। সবুজ অর্থায়নের জন্য নিবেদিত একটি ‘উইং’ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করতে পারে। সবুজ অর্থনীতির স্বার্থে মুদ্রা ও রাজস্বনীতির সমন্বয়ের জন্যই এমন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যাদের কাজ হবে সবুজ অর্থায়নে উচ্চতর নীতি-কাঠামো প্রণয়ন ও ধারাবাহিকভাবে তার উন্নয়ন করা। দেশের বৃহৎ আর্থিক কর্মকা-ের সঙ্গে সমন্বয় করে সবুজ অর্থায়ন বাড়ানোর কাজে তারা নিবেদিত থাকবেন। তবে এ ধরনের যে কোনো প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতকে তাদের স্থান ছেড়ে দিতে হবে। তা হলেই আমাদের চাহিদাতাড়িত সমস্যার চিহ্নিত সমাধান আমাদের হাতে চলে আসবে। সবুজ প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি খাতের অর্থ তহবিল, বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজারের ‘লেভারেজ’ বা কর্মকা- বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। প্রাসঙ্গিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ প্রণোদনা দিয়ে এগিয়ে নিতে পারে। যেমন- যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবুজ অর্থায়নে মনোযোগী হয়েছে তাদের তালিকা প্রকাশ এবং যথাযথভাবে ‘ক্যামেলস রেটিং’র মাধ্যমে পুরস্কৃত করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শীর্ষ ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবুজ ব্যাংকিংয়ের জন্য প্রতিবছর পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সবুজ অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ এবং সুনাম দুই-ই বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিক্ষেত্রে, বিশেষ করে মসলা ফসল উৎপাদন ও গবাদিপশু পালনের ভর্তুকি ঋণের সহায়তা নিশ্চিত করে নয়া মডেল সৃষ্টি করেছে। মডেলটি সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক সবুজ আর্থিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রবর্তন করেছে সিএসআর। বর্তমানে সিএসআরের ১০ শতাংশ ব্যয়িত হচ্ছে সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এই তহবিল ব্যয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই অনুপাত ২৫ শতাংশে উন্নীত করা দরকার। সামাজিক উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে সহযোগিতা পাচ্ছে। নয়া উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতা করে এই তহবিল থেকে সহযোগিতা নিচ্ছেন। সবুজ অর্থায়ন কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্ভাবনী ক্ষেত্রগুলোর এগিয়ে আসার আরও প্রেরণা জোগাতে হবে। পারিবারিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ উদ্যোক্তা থেকে অব্যবহৃত বিদ্যুৎ কিনে ‘নেট মিটারিং’-এর মাধ্যমে অফগ্রিড লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলার কাজ অনেকটাই সম্ভব করা যেতে পারে। আমাদের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে উৎসাহী করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে সবুজ উদ্ভাবনী কাজে সহযোগিতা করা হলে নিজেদের উৎপাদিত জ্বালানি ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করতে আগ্রহী হবেন আরও বেশি পরিবার। সে জন্য প্রণোদনা প্যাকেজটি যথার্থ করার প্রয়োজন রয়েছে। শুনতে পাচ্ছি, সরকার এরই মধ্যে ‘নেট মিটারিং’ নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে করে রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ অনেকটাই বেড়ে যাবে। সত্যি সত্যি এটা হবে একটি স্মার্ট কার্যক্রম।

জলবায়ু ঝুঁকি ও টেকসই অর্থায়নের জন্য নিবেদিত বৈশ্বিক অর্থের উৎস বাংলাদেশের হাতে এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট নেই। থাকলে বাংলাদেশের এসব প্রত্যাশা পূরণ করতে অনেকটাই সহায়ক হতো। এ ক্ষেত্রে উচ্চতম পর্যায়ের নীতিগত অঙ্গীকার প্রয়োজন। সংসদের নিবিড় তত্ত্ব¡াবধানে বিশ্বাসযোগ্য শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে এগিয়ে আসা সম্ভব হলে সবুজ বিদ্যুৎ তৈরি ও বিতরণে এক নয়াযুগের সূচনা আমরা নিশ্চয় করতে পারব। (আমাদের সময় থেকে সংগৃহীত)

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এই বিভাগের আরো সংবাদ