করোনাকালের বাজেট

বাস্তবায়নে চাই সব অংশীজনের অংশগ্রহণ

  ড. আতিউর রহমান

১৩ জুন ২০২০, ১২:৫৭ | আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ১৩:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

নতুন অর্থবছর শুরু হতে যাচ্ছে এমন একটা সময় যখন সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আর এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অচলাবস্থা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক মূল্যবান জীবন চলে গেছে। ভয়ের পরিবেশে জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে। সরকার মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস- মৃত্যু, রোগবালাই ও ভয়ের পরিবেশ। অন্যদিকে লকডাউন ও সামাজিক দূরত্বের ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান আর আয়-উপার্জন প্রায় বন্ধ। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় অবিস্মরণীয় মাত্রায় সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বেকারত্ব বাড়ছে, মানুষের আয় কমে গেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতির সফল বাস্তবায়নের ফলে গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য প্রায় ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন করোনার ফলে দারিদ্র্য বেড়ে ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারে।

এ অবস্থায় প্রধানতম চ্যালেঞ্জ হলো এই মহামারিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পাশাপাশি অর্থনীতির প্রায় অচল হয়ে যাওয়া চাকাকে আবার সচল করা। সামাজিক পিরামিডের পাটাতনে থাকা মানুষের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। প্রবৃদ্ধির হার নয়, বরং এদের দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা দূর করা এখন মূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, একই সঙ্গে মানুষের হাতে নগদ অর্থ সরবরাহ এমন মাত্রায় সচল রাখতে হবে যাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বজায় থাকে। ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃহত্তর জনসমাজের সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তা না করা গেলে আমাদের এত দিনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অর্জন হুমকির মুখে পড়ে যাবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পুরো দায়িত্ব এককভাবে সরকারের নয়- এটা সত্য। তবুও সংকট উত্তরণের দিকনির্দেশনা এবং নেতৃত্ব সরকারের দিক থেকেই আসবে- এমনটাই প্রত্যাশা করেন সব অংশীজন। তাই এবারের বাজেটকে ঘিরে জনপ্রত্যাশাও অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। এই প্রেক্ষাপটেই জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত হলো আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ মহলসহ সাধারণ মানুষ যে রকম ‘আউট অব দ্য বক্স’ বাজেট আশা করেছিলেন প্রস্তাবিত বাজেট সে রকম উদ্ভাবনী উদ্যোগ ওই মাত্রায় নেই এ কথা মানতেই হবে। তবে সম্ভবত সরকার মধ্যমমেয়াদি বাজেট কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওই পরিমাণ সৃষ্টিশীল বা উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়নি। সম্পদের সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই অগ্রাধিকার পুনর্বণ্টনের পরামর্শ ছিল। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা করা হয়তো সম্ভব হয়নি।

৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঘোষিত বাজেটের আকার নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অনেকটাই উচ্চাভিলাষী মনে হচ্ছে। এ কথা ঠিক যে, সরকারের বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী নীতির কারণে আমরা দ্রুত প্রবৃদ্ধির ধারার মধ্যে ছিলাম। করোনা সংকট না এলে এক দুই বছরের মধ্যে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধির হার অর্জন খুবই সম্ভব ছিল। কিন্তু এই মহাসংকটের মধ্যেও ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দেখে মনে হচ্ছে নীতি-নির্ধারকরা হয়তো ধরে নিচ্ছেন যে অল্প সময়ের মধ্যে করোনা সংকট কেটে যাবে এবং আমরা প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারায় দ্রুতই ফিরে আসব। কিন্তু বাস্তবতা বলছে এই সংকট সহসাই কেটে যাচ্ছে না। তবে বিশ্বব্যাংক যে নিম্ন প্রবৃদ্ধির কথা বলছে সেটিও খুব কম হয়ে যায়। আমি মনে করি, কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক খাতকে যথাযথ সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হলে এই দুয়ের মাঝামাঝি একটি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন খুবই সম্ভব। বাজেট ঘাটতি নিয়েও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। অনুদানসহ সামগ্রিক ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশের নিচে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ অনুপাত ৫.৩ শতাংশ। আমি মনে করি এক দশক ধরে বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের আশপাশে ধরে রাখা গেছে এবং আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে বাজেট ঘাটতি ৭ শতাংশ পর্যন্ত করা যেত। বাড়তি অর্থ আমরা স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষির জন্য ব্যয় করতে পারতাম। তবে এই বাড়তি অর্থের জন্য (অর্থাৎ জিডিপির আরো ১ শতাংশ বাজেট ঘাটতির অর্থায়নের জন্য) অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। বরং আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী (যেমন : বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ) প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হওয়া উচিত আরো বেশি মাত্রায়। করোনাজনিত আর্থিক স্থবিরতা মোকাবিলা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে আমাদের ধারাবাহিকতার বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তুলনামূলক সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া আমাদের জন্য সহজই হওয়ার কথা। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি মনে করি, কার্যকর অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে এ অনুপাত দ্বিগুণ করা সম্ভব।

বাজেট অর্থায়নের জন্য সরকার খুব বেশি পরিমাণে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়াও ইতোমধ্যে ঘোষিত প্রণোদনাগুলোও বহুলাংশে ব্যাংকনির্ভর। কাজেই ব্যাংকগুলোর ওপর বাজেট অর্থায়নের চাপ খুব বেশি না দেয়াই কাম্য। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুসারে সরকার ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। আর প্রস্তাবিত বাজেটে এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া ঋণের অনুপাত বেড়েছে ৪ শতাংশের কম। মোট জাতীয় বাজেটের আকার বেড়েছে ১৩ শতাংশের বেশি। সে হিসাবে বলা যায় সরকার সচেতনভাবেই অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলোর ওপর কম চাপ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাজেটে ৩ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব (অনুদানসহ) প্রাপ্তির প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষীই মনে হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতির বিচারে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের রাজস্ব প্রাপ্তির যে ৩ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে সেটাও উচ্চাভিলাষী। এটা এনবিআরের ওপর অবাস্তব চাপ তৈরি করবে। বরং এনবিআর কর্মকর্তাদের এ অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দিলে তারা হতাশ হবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি আরো বাড়বে। তবে বাজেট ঘাটতি বাড়লে খুব বড় বিপদ হবে না। আগেই বলেছি আমরা জিডিপির আরো এক শতাংশ বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি করলে ঝুঁকি খুব বাড়বে না। সুতরাং প্রবৃদ্ধির হার ও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সময় মাটির যতটা কাছাকাছি থাকতে পারব ততই সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে। এই দুর্যোগের সময় জনগণের আস্থা বজায় রাখা খুবই জরুরি। সেই বিচারে রাজস্ব আহরণে আরো উদ্ভাবনী ও মনোযোগী হয়ে যত বেশি সম্ভব কর আহরণ করতে হবে। করযোগ্য আয়ের সীমা বৃদ্ধি, ৫ শতাংশের ট্যাক্স স্ল্যাব, সর্বোচ্চ ট্যাক্স স্ল্যাবের পুনর্বিন্যাস ইত্যাদি উদ্যোগের কারণে আগের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে বেশি কর আহরণ সম্ভব হতে পারে। করপোরেট ও ব্যক্তিগত আয়কর হার হ্রাসকরণের মতো উদ্যোগও একদিকে সরকারের আয় বাড়াবে অন্যদিকে বাজারে টাকার সরবরাহ বৃদ্ধি করবে।

খাতওয়ারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের মতো আসন্ন অর্থবছরেও সর্বোচ্চ বরাদ্দ গিয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে (যথাক্রমে ১৫.১ শতাংশ এবং ১১.৪ শতাংশ)। অনেকেই মনে করেন পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ কিছুটা কমিয়ে সেটা করোনা মোকাবিলার অগ্রাধিকার খাতগুলোতে বরাদ্দ দেয়া যেত। তবে এটাও মনে রাখতে হবে করোনাজনিত আর্থিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার একান্ত প্রয়োজনীয়। সে বিচার থেকেই হয়তো পরিবহন ও যোগাযোগকে এ রকম অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দ আশা করেছিলেন প্রায় সবাই। তবে বাজেটের শতাংশ হিসাবে বেড়েছে সামান্যই। চলতি বছরের ৪.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে আসন্ন অর্থবছরে ৫.১ শতাংশ হয়েছে। আকস্মিকভাবে বরাদ্দ বাড়ালে তা কার্যকরভাবে ব্যয় করা কতটা সম্ভব সে বিবেচনার জায়গা থেকেই হয়তো এমন বরাদ্দ এসেছে স্বাস্থ্য খাতে। আশা থাকবে বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে। বাজেট অধিবেশনের আলোচনা সাপেক্ষে হয়তো এ বরাদ্দ কিছুটা বাড়তেও পারে। এবার স্বাস্থ্য খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি কোভিড মোকাবিলা তহবিলে থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে এ বরাদ্দের কত অংশ ব্যয় করা হবে তা অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করেননি। আমার মতে এর বড় অংশটিই সরাসরি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা উচিত। বিশেষ করে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মতো এ খাতের ফ্রন্ট লাইন যোদ্ধাদের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত নিরাপদ থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও আরো বেশি সংখ্যায় কর্মী নিয়োগে বরাদ্দ ব্যয় করা উচিত। আমরা ধারণা সরকার এমনটিই ভাবছে। পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকার স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা এসেছে তা খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে এ বাবদ বরাদ্দ আরো বাড়ানো দরকার হবে বলে মনে হচ্ছে। কেবল সরকারি সামর্থ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্বাস্থ্য-গবেষণায় এবং সুরক্ষায় কীভাবে ব্যক্তি খাত এবং বৃহত্তর অর্থে সমাজকে যুক্ত করা যায় তা নিয়েও ভাবা দরকার। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য খাতে নিয়োজিত এনজিও কর্মীদের এখনই যুক্ত করা সম্ভব। এবারের বাজেটে নগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে বেশি কিছু বলা হয়নি। বিশেষ করে নগর দরিদ্রদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাড়তি বরাদ্দ দেয়া যেত।

সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ মোট বাজেটের ৪.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৬ শতাংশে প্রস্তাব করা হয়েছে। করোনায় নতুন করে দরিদ্র হওয়া মানুষকে রক্ষা করতে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। তবে আরো বেশি মাত্রায় বাড়ানো যেত বলে আমরা মনে করি। মোট বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ করলে দারিদ্র্য নিরসনে গত এক দশকের অর্জন ধরে রাখা সুনিশ্চিত হতো।

করোনাজনিত আর্থিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কৃষিই আমাদের রক্ষাকবচ। গত এক দশক ধরে কৃষিতে ধারাবাহিক সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের সুফল আমরা পেয়েছি- দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এমনকি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী কৃষির জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করায়, আশা করা হয়েছিল আসন্ন বাজেটেও তার ধারাবাহিকতা থাকবে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এর কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে। চলতি বছর বাজেটের ৪ শতাংশের কম এ খাতে বরাদ্দ থাকলেও, প্রস্তাবিত বাজেটে এ অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৩ শতাংশে। তবে অন্য কিছু খাতে বরাদ্দ কিছু কমিয়ে এ খাতের বরাদ্দের অনুপাত আরো কয়েক শতাংশ বাড়ানো যেত বলে মনে হয়। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন দ্রুত হচ্ছে। অ-ফসলি কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের জন্য বিশেষ কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। কৃষির বিকাশে ই-কমার্স ইতোমধ্যেই কাজে লাগানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পরিধি আরো জোরদার করা দরকার। যেসব স্টার্টআপ ই-কমার্সের মাধ্যমে কৃষির বিকাশে ভূমিকা রাখছে তাদের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।  আমাদের আগামী দিনের অর্থনীতি হবে সবুজ অর্থনীতি। আগামীর জ্বালানি হতে হবে সবুজ জ্বালানি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রাকৃতিক অবকাঠামোতে (জলভূমি, ম্যানগ্রোভ বন, অন্যান্য বনভূমি ইত্যাদি) বিনিয়োগ করতে হবে। করোনায় কার্বন দূষণ কমে আসায় প্রকৃতি অনেকটাই সজীব-সতেজ হয়েছে। সংকট কেটে গেলেও যেন প্রকৃতির এই সতেজতা ধরে রাখা যায় তার জন্য সবুজ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের কথা এখন থেকেই পরিকল্পনায় থাকা দরকার।

অগ্রাধিকার খাতে বরাদ্দ বাড়ানো যাচ্ছে না কারণ বাড়তি বরাদ্দ ব্যয় করার মতো দক্ষতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর নেই- এমন শোনা যাচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে বাড়তি বরাদ্দ কার্যকরভাবে ব্যয় করার দক্ষতা যেন বাড়ে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কারণ করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তত আরো কয়েক বছর স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সে অনুসারে বরাদ্দও দিতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রত্যাশিত বরাদ্দ বৃদ্ধি হলেও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো রয়েই গেছে। মনে রাখতে হবে, দুর্যোগ ও আর্থিক মন্দা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের থাকলেও, করোনা মহামারির মতো পরিস্থিতি আমরা আগে মোকাবিলা করিনি। কাজেই বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে আগের তুলনায় বহুগুণে উদ্ভাবনী হতে হবে এবং সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সুসমন্বিত সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে।

লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।

এই বিভাগের আরো সংবাদ