বাংলাদেশে করোনার থাবা ও সংকটের দিশারি শেখ হাসিনা

  শামসুজ্জোহা লোটাস

২৪ মে ২০২০, ২৩:৪০ | আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ১৬:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ইংরেজি বাক্য আছে- No Risk No Gain অর্থাৎ সফল হতে হলে ঝুকি নিতে হয়। ঝুঁকি নিলেই সফল হওয়া যায় এটাও আবার ঠিক নয়। সফলতা ও ব্যর্থতা দুটোই ঘটতে পারে। সফল হলে সকলের কাছে যেমন প্রশংসা পাওয়া যায় তেমনি ব্যর্থ হলে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হয়। কারণ সফলতা কিংবা ব্যর্থতার প্রভাব সবসময় আগামীর প্রজন্মকেই বহন করতে হয়। জনগণ কিংবা জাতির সম্পূর্ন দায়ভার একটি সরকারকেই নিতে হয়। তাই কোনো ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্রের নেওয়া ঝুঁকির বিশালতা অসীম। রাষ্ট্রের নেওয়া ঝুঁকির ভালো মন্দের উপর নির্ভর করে একটি দেশের ভূত-ভবিষ্যত। যেমন পিতার কর্মের প্রভাব সন্তানে বর্তায়। সুদীর্ঘ কালের রোগতত্ত্বের লিখিত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বর্তমানে বিশ্বে চলমান কোভিড ১৯ বা করোনা একটি ভয়ংকর রোগ হিসেবে সাতশ কোটি মানুষকে ঘরবন্দি করতে সক্ষম হয়েছে। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই প্যান্ডেমিকে পরিণত হয়েছে। সমগ্র বিশ্ব আজ টতস্থ হয়ে পড়েছে ভয়ংকর করোনার মৃত্যুর নীল বিষে। বিশ্ব মড়োলদের ঘুম হারাম করে ছেড়েছে এই করোনা। পৃথিবীর তাবত বিজ্ঞানীরা নিরাসল পরিশ্রম করে চলেছেন করোনার প্রতিষেধক বা প্রতিরোধক আবিষ্কারের জন্য। কিন্তু দুর্ধর্ষ করোনা প্রতিনিয়ত তার ডিএনএ পরিবর্তন করার কারণে প্রতিষেধক বা প্রতিরোধক তৈরি করতে বিজ্ঞানীরা গলদঘর্ম হয়ে পড়েছেন। আপাতত হোম কোয়ারেনটাইনকেই একমাত্র প্রতিষেধক হিসাবে বাতলে দিয়েছেন। ফলে সারা বিশ্ব লকডাউন এ চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। আবার দীর্ঘ লক ডাউনের ফল পেতেও শুরু করেছে অনেক দেশ। মানুষ সামাজিক জীব। মাসের পর মাস ঘরবন্দী থাকা মানুষের জন্য অসম্ভব একটি ব্যাপার কারণ জীবনের সাথে জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। করোনার ভয়াল থাবা সত্ত্বেও জীবনের তাগিদে জীবিকার কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। করোনায় সর্বাধিক ভূক্তভোগী বিশ্ব মোড়ল আমেরিকাও আর লকডাউন মেনে নিতে পারছে না। করোনার বিভৎস থাবায় আমেরিকা আজ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব করোনার চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও আমেরিকায় প্রতিনিয়ত জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

শুধু উন্নত রাষ্ট্রই নয়, আক্রান্ত ১৮৮ টি রাষ্ট্রের মানুষিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা দুটোই চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছে । বিবিসি এর সংবাদ অনুযায়ী আমেরিকার মত দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৩ লাখ নাগরিক চাকুরীচ্যুত হয়েছেন। এমন বাস্তবতায় অর্থনৈতিক ধ্স ঠেকাতে দিশেহারা ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন - "আমেরিকানদের কাজে ফিরে যেতে হবে। দেশকে কাজে ফিরে যেতে হবে। " এই ভয়াবহতার মধ্যেও ট্রাম্প বিভিন্ন রাজ্যের লকডাউন শিথিল করছেন। আমেরিকানরা প্রথমে তার সমালোচনা করলেও এখন অনেকেই ট্রাম্পের সাথে একমত হয়েছেন। ট্রাম্প আমেরিকার জন্য এবং আমেরিকার আধিপত্য ধরে রাখার জন্য ঝুঁকি নিচ্ছেন।

বিশ্ব নেতৃত্ব যখন কি হবে, কি করবেন ইত্যাদি ভেবে হতবিহবল হয়ে ঝুঁকি নিবেন কি নিবেন না ভাবছেন তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশাল ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন। যান ও জন চলাচল সীমিত করলেও উৎপাদন প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ করলেন না। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে খুব দ্রুততার সাথে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন বিশ্বের আনপ্রেডিক্টেবল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা। যা দেশীয় জিডিপির প্রায় ৩.৬ শতাংশ। যেকোনো সংকটে দ্রততার সাথে সঠিক স্বীদ্ধান্ত নেওয়ার বিচক্ষণতা বিশ্বের বুকে শেখ হাসিনাকে ডায়নামিক নেতৃত্বে পরিণত করেছে। সংকটে গৃহীত তাঁর পদক্ষেপগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এক, বাংলাদেশে করোনা মহামারি মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ। দুই, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করায় গৃহীত পদক্ষেপ। তিন, করোনা পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপ।

বাংলাদেশে করোনার মহামারীর প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেই অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতিকে চালু রাখতে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা করোনা পরবর্তী সময়ে এগিয়ে নিতে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রততার সাথে একটি সমন্বিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সর্বোচ্চ ঝুকি নিয়ে দেশের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম ও উৎপাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অব্যাহত রেখেছেন। যে কারণে দেশে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়নি পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। শেখ হাসিনার এমন দুঃসাহসিকতা বিশ্বের অন্যান্য দেশর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে যা ইতিমধ্যে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রথমেই পোশাক শ্রমিকদের শতভাগ বেতন নিশ্চিত করণে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের পিছনে ৩০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, প্রবর্তিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের জন্য ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, প্রাক শিপমেন্ট ক্রেডিটের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে ভর্তুকি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, কৃষি পনঃ তফসিল ৫ হাজার কোটি টাকা, অসহায় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনরায় ফিনান্সিং স্কিম ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করণে দেশে করোনার প্রভাব পড়ার সাথে সাথে ৪ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহযোগিতায় আওতায় নেন। পরিবারকে ত্রাণ সহযোগিতা করেন, ৫০ লাখ পরিবারকে ১০টাকা কেজি দরে মাসে ২০ কেজি চাল ক্রয়ের সুযোগ দেন, পাঁচ কোটি মানুষের এক কোটি পরিবারকে আর্থিক ও খাদ্য সহযোগিতার আওতায় আনেন, যেকোনো পর্যায়ে সরকারি সুবিধা বঞ্চিত ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন ২৫০০টাকা করে প্রদান করেন, দেশের কওমি মাদ্রাসার জন্য দু দফায় ১৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ করেন। দেশের চিকিৎসক, নার্স এবং করোনা পরিস্থিতিতে মাঠে থাকা প্রশাসন, সেনা, পুলিশ, সাংবাদিক,ব্যাংক কর্মকর্তা সহ সার্বিক স্বাস্থ্য খাতের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ করেন। বাদ দেননি দেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরকেও । এভাবে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকি নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মার্চের ৮ তারিখে প্রথম করোনা শনাক্ত হলেও তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত জনজীবন স্বাভাবিক রেখেছিলেন, সনাক্ত হারের সাথে সাথে তিনি তাঁর গৃহীত সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গুলোর বাস্তবায়ন করছেন। মার্চের ২৬ তারিখ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও সারা বাংলাদেশে এক সাথে লকডাউন ঘোষণা না করে জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়ে যান ও জন চলাচল সীমিত করেন। এরপর তিনি বিশ্ব করোনা পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে করোনার জন্ম ও পিক আওয়ার গণনার সাথে সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়াতে থাকেন। পাশাপাশি করোনা সনাক্তের উপর ভিত্তি করে একেক জেলাকে লকডাউন করলেও দেশের কোনো ধরণের উৎপাদন বন্ধ করেননি। বহুল আরাদ্ধের কাঙ্খিত মুজিব বর্ষের উদযাপন বাতিল করেন। কিন্তু দেশের স্বার্থে চলমান উন্নয়ন কাজ ও আরেক স্বপ্ন, দেশের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ চীনের শ্রমিক ফেরত গেলেও দেশীয় শ্রমিকদের সহযোগিতায় এগিয়ে নিচ্ছেন । করোনার মধ্যেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৪৩৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট উৎপাদনে চলে এসেছে। চলতি ১৫ মে থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ হওয়া শুরু করেছে । কৃষক ও কৃষি খাত বাঁচাতে দেশের ধান উৎপদনের প্রধান বোরো মৌসুমে কৃষকদের লকডাউনের আওতার বাইরে রাখেন। মহামারি ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কথা বিবেচনা করে দলী নেতা কর্মীদের কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে সহযোগিতা করার জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের নির্দেশ প্রদান করেন। ঘোষণা দেন চলতি মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে রেকর্ড ২১ লাখ মেট্রিকটন ধান কেনার, যার কার্যক্রম চলমান। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স শ্রমিক অর্থাৎ প্রবাসীদের বিশেষ নজরে নিতে ভুল করেননি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। দেশে যখন আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধের দাবি উঠছে তখন মানবতার কান্ডারী শেখ হাসিনা পরম মমতায় প্রবাসী যোদ্ধাদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। তাদেরকে সযত্নে নিজেস্ব তত্বাবধানে এবং বাড়িতে রেখে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেন। আজ যখন বহির্বিশ্বে প্রবাসীদের উপর কাজ হারানোর চাপ বাড়ছে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ দেশে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উৎসাহ জাগিয়ে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড সোজা রাখতে ক্ষতি গ্রস্থ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি মুখি শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, প্রবর্তিত রফতানি উন্নয়ন তহবিলে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, প্রাক শিপমেন্ট ক্রেডিট ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে ভর্তুকি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, কৃষি পুণঃতফসিল ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনরায় ফিনান্সিং স্কিম ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেন। বিশ্ব অর্থনীতির গবেষণায় দ্যা ইকোনমিস্ট প্রকাশ করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দূরদর্শিতা কথা। করোনাকালীন অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম তম। যেখানে ভারত, চীনের মত রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন, জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ফোর্বস পত্রিকায় বিশ্বনেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনা কে প্রশংসা করে বলেন,"বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ। যার নেতৃত্বে আছেন শেখ হাসিনা। যিনি সংকটে (করোনার বিশ্বমারি) আতংকিত হননি। তিনি এই বিষয়ে এক হাতে শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক সংগঠন (দ্যা ইকোনমিস্ট) যার প্রশংসা করেছে এবং তিনি অনেক দিন ধরে দেশের (বাংলাদেশের) প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে তিনি চাইনা থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফেব্রুয়ারি মাসেই ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। প্রথম শনাক্ত শুরু হয়েছে মার্চের প্রথমদিকে। তিনি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছেন। তারপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রত্যেক আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পরিক্ষা কীট স্থাপন করায়। এরপর ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে পরিক্ষা করে ৩৭ হাজার মানুষকে দ্রুত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যেটা যুক্তরাজ্যও করতে পারেনি।" এভাবেই ফোর্বস বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে প্রশংসিত করেছে। শেখ হাসিনার মতো দেশপ্রেমে অন্ধ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই জাতির ভবিষ্যতের জন্য যেকোনো ঝুকি নেয়া সম্ভব। সম্ভব হবেইবা না কেনো! তাঁর ধমনীতে প্রবাহিত রক্তে মিশে আছে ঝুকি নেয়ার সাহস আর উদ্দিপনা। তিনি যে জাতির জনকের কন্যা। পিতার মতোই তাঁর রয়েছে তাৎক্ষণিক ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার অপার গুণ। পিতার মতোই জীবনের ঝুকি উপেক্ষা করে আত্মনিয়োগ করেছেন দেশ গঠনে জাতির সেবায়। যেকোনো ব্যাপারে ঝুকি নেয়ার ক্ষমতা তার ঐরসজাত সহজাত স্বভাব। ছোট শেখ মুজিবের দুঃসাহসিক বিলাসী স্বপ্ন জাতিকে স্বাধীনতা দিয়েছে, তার দৃঢ়তা তাকে এগিয়ে নিয়েছে নেতৃত্বের সিংহাসনে বসিয়েছে, তাঁর সততা ও কর্তব্য পরায়নতা মানুষের মাঝে তাকে বিশ্বস্ত করেছে, জাতির উপলব্ধি তাকে বঙ্গবন্ধু বানিয়েছে, প্রগাঢ় দেশপ্রেম তাকে জাতির পিতা বানিয়েছে। তেমনি শেখের বেটির দুঃসাহসিক স্বপ্ন বিলাসে বাংলাদেশ শক্তিশালী উন্নত দেশের পথে হাঁটা শুরু করেছে, তাঁর দৃঢ়তা জীবনের ঝুকি মাড়িয়ে সামনে এগিয়ে নিয়েছে, তাঁর সততা শুধু দেশবাসীর কাছে নয়, সারাবিশ্বে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে, তাঁর কর্তব্য পরায়নতা দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে তাকে বিশ্ব নেতৃত্বের কাতারে নিয়ে গেছে, তাঁর উদার মানসিকতায় কৃতজ্ঞ বিশ্ব তাকে "মাদার অব হিউম্যাননিটি" ঘোষনা করেছে, তাঁর প্রগাঢ় দেশপ্রেমে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, জাতির প্রতি ভালোবাসা তাঁকে জননেত্রী বানিয়েছে।

আবার এরই মধ্যে, ষাট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দেশের ২৬টি জেলায় তান্ডব চালায় ঘুর্ণিঝড় আম্ফান। আর্থিকভাবে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হওয়ার পরেও ভারতের থেকে বাংলাদেশে প্রাণহানি কম ঘটেছে। কারণ আপনার চৌকস স্বীদ্ধান্ত ও দ্রুততম সময়ে তার বাস্তবায়ন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ৫২ লক্ষ মানুষের আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সরিয়ে নেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালী জেলা। একইভাবে আশ্রয়হীন মানুষদের ঘর নির্মানের কাজ দ্রুত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের জন্য অতিরিক্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন।

কঠোর কর্তব্যপরায়ণতা, নিটুট সততা, অকৃত্রিম মানবতা, দ্বায়িত্ব পালন ও গ্রহনের দক্ষতা , অটুট দেশপ্রেমে রাষ্ট্র গঠনে গভীর প্রজ্ঞা, ঝুকি নেয়ার অসীম ক্ষমতা, স্পষ্টবাদিতা, উদারতা দক্ষ রাষ্ট্র নায়ক থেকে করেছে বিশ্ব নেতা। যে কারণে প্রায়শই বিশ্ব মিডিয়া শিরোনাম হয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ যেনো রক্ত কথা বলে। জাতির পিতার কোলিন রক্ত প্রবাহিত তাঁর ধমনীতে। পিতার দুঃসাহসিক রক্তের তেজ আর স্বপ্ন বিলাসী উন্নত দেশ গঠনের সেই একই স্বপ্নে বলিয়ান। আপনার অবিচল থাকার শানিত ছুরির ধার আর অপার বিশ্বাস ১৬ কোটি মানুষের বুকে সর্বদা আশা জাগায়, স্বপ্ন দেখায়। আগামীকাল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। মানবতার মা ভুলে যাননি রোহিঙ্গা স্মরণার্থীদের কথা। ভুলে যাননি বাংলার দুঃখী মানুষের কথা। দেশের ক্রান্তিকালে সকলের মুখে হাসি ফোটাতে সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার। একারণেই আপনি বাংলার আশার বাতিঘর। বাংলার ১৬ কোটি মানুষ আজ শেখ হাসিনায় স্বপ্ন দেখে। শেখ হাসিনা মানেই আস্থা, অবিচল বিশ্বাস। ঈদ মোবারক বাংলার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপা।

লেখক: কলামিস্ট

এই বিভাগের আরো সংবাদ