ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০১৮, ১৬:১১

আবদুল মান্নান, ৩০ জুন, এবিনিউজ : ২৩ জুন বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে। ১৯৭৫ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই দিন পালনের ওপর অলিখিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। কাজটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া অত্যন্ত নির্দয়ভাবে করেছিলেন। এমনকি ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর জীবিত কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষ করে দেশে ফিরলে তাঁকে তাঁর মা-বাবা আর পরিবারের অন্যান্য সদস্য, যাঁরা ঘাতকদের বুলেটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ পড়তে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি সামনের রাস্তায় বসে মিলাদ পড়েছিলেন। এই বছর আওয়ামী লীগ ২৩ জুন কিছুটা ভিন্ন মাত্রার তাৎপর্য নিয়ে পালন করেছে। নিয়মিত কর্মসূচি ছাড়াও দলের প্রধান শেখ হাসিনা ৬৯ বছর পর দলের একটি স্থায়ী ও আধুনিক কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশে অন্য কোনো দলের এমন দৃষ্টিনন্দন কার্যালয় নেই। বিকেলে গণভবনে দলের এক বর্ধিত কর্মিসভায় দলের প্রধান দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য দেন। এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যেহেতু এই বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেহেতু সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে কিছু সত্য কথা বলেছেন এবং দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কিছু কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন, যা অন্য কেউ করলে অনেকের পক্ষে মেনে নিতে কষ্ট হতো।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে যে কয়টি বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তার মধ্যে ছিল—ক. দলের ভেতর অন্তঃকলহ বা কোন্দল; খ. দলে ভাঙন ও অনৈক্য সৃষ্টি করার জন্য অন্য দল থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের দলে অনুপ্রবেশ; গ. কিছু নেতার দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি করা। উনসত্তর পার হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সত্তরে পা দিয়েছে। দলে বড় ধরনের ভাঙন হয়েছে দুইবার। প্রথমটি ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনের পর। আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করেন। ১৯৬৬ সালে ছয় দফাকে কেন্দ্র করে দলের তৎকালীন সভাপতি মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ দল থেকে বের হয়ে যান। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকেসহ সপরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয়। নিষিদ্ধ করা হয় সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ১৯৭৯ সালে জেনারেল জিয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার চালু করার অনুমতি দিলে বেগম জোহরা তাজউদ্দীন, আবদুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন প্রমুখ আবার আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন। কিন্তু দলের সিনিয়র নেতা মহিউদ্দিন আহমদ, আবদুর রাজ্জাকসহ আরো কয়েকজন সিনিয়র নেতা আওয়ামী লীগে ফিরে না এসে বাকশালকে পুনরুজ্জীবিত করেন। পরে অবশ্য তাঁরা আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। দলের সিনিয়র নেতা মিজানুর রহমান একবার আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে নিজে একটি আওয়ামী লীগ গঠন করার চেষ্টা করেন। এরশাদের জাতীয় পার্টি হয়ে জীবনের শেষ বয়সে আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন।

৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শেখ হাসিনা যে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন তার মধ্যে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, যা আগে এতটা প্রকট বা দৃশ্যমান ছিল না। স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু দুর্নীতির বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। সেই সময় দলে অনুপ্রবেশ বিষয়টা একটু ভিন্ন মাত্রার ছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে অসংখ্য সুযোগসন্ধানী রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা বনে যায়। তাদের প্রচলিত নাম ছিল ষোড়শ ডিভিশন। তাদের অন্যতম কুকর্ম ছিল লুটপাট আর লাইসেন্স পারমিটের ব্যবসা। ১৯৭৩-৭৪ সালে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে অন্য অনেক কারণের মধ্যে এদের অবদানও কম ছিল না। এর ফলে বদনামটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সরকার তথা আওয়ামী লীগের। বঙ্গবন্ধু হত্যার পটভূমি রচনার পেছনে এসব ষোড়শ ডিভিশনের অবদান কম ছিল না। স্বাধীনতার পরবর্তী তিন বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা বিদেশি সাহায্যনির্ভর ছিল। কারণ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এসব সুযোগসন্ধানীর দুর্নীতির বিষয়ে এতই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে তিনি এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘মানুষ পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি।’ বাংলাদেশে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর পূর্ব ইউরোপসহ অনেক দেশ ও সাহায্য সংস্থা থেকে সাহায্য হিসেবে প্রচুর কম্বল এসেছিল। তখন এক দল আবার এই কম্বল চুরিতে বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠে। তখন বঙ্গবন্ধু বেশ আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘যত কম্বল সাহায্য হিসেবে এসেছে আমারও একটা পাওয়ার কথা। আমার ভাগের কম্বলটা গেল কোথায়?’ ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু এক দীর্ঘ ভাষণ দেন। দুর্নীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘...আমাদের একটা কথা মনে রাখা দরকার। আওয়ামী লীগ কর্মীদের, কোথায় যেন গোড়ায় একটু গলদ রয়ে গেছে। মানুষ এত অর্থের পাগল হয়েছে কেন? শুধু টাকা কামাই করবে কী করে, এই চেষ্টা।...বাংলার কৃষক, বাংলার দুঃখী মানুষ—এরা কিন্তু অসৎ নয়। ব্ল্যাকমার্কেটিং করে কারা কারা? রাগ করবেন না। আপনারা শিক্ষিত, বুদ্ধিমান, চিন্তাশীল, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় আছেন, আপনারা রাগ করবেন না। ...যাঁদের পেটের মধ্যে দুই কলম বিদ্যা হয়েছে, তাঁরাই ব্ল্যাকমার্কেটিং করেন। স্মাগলিং করে কারা? যাঁরা বেশি লেখাপড়া করেছেন তাঁরা বেশি করেন।’

১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশে সামরিক একাডেমিতে (তখন কুমিল্লায়) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম পাসিং আউট প্যারেডে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দুর্নীতি সম্পর্কে আরো বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমরা অমানুষ হয়ে যাই। আমরা এত রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। তবু অনেকের চরিত্র পরিবর্তন হয়নি। ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি আর মুনাফাখোররা বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দীর্ঘ তিন বছর আমি তাদের কাছে অনুরোধ এবং আবেদন জানিয়েছি, তাদের হুমকি দিয়েছি।’ কিন্তু ‘চোরে নাহি শোনে ধর্মের কাহিনি।’ বঙ্গবন্ধু যখনই প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছেন তাঁর বক্তৃতার প্রধান বিষয় ছিল দুর্নীতি। বঙ্গবন্ধুর আমলে দুর্নীতিটা রিলিফ আর চোরাকারবারিতে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। কানাডা, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়ায় কোটি ডলারের সেকেন্ড হোমের অর্থের কতটুকু সৎপথে এসেছে, এমন প্রশ্ন তো করা যেতেই পারে। যে সরকারি কর্মকর্তা ৪০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করেন, তাঁর চারটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার অর্থের জোগান কে দেয়? পাঁচ-সাত লাখ টাকা খরচ করে কিভাবে তিনি তাঁর সন্তানকে দামি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান? বাবার মতো কন্যা শেখ হাসিনাও এসব সামাজিক পরগাছাকে নিয়ে সেদিন বেশ কিছু সত্য কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দলে এমন দুর্নীতিবাজ থাকলে তিনি আগামী নির্বাচনে তাঁদের মনোনয়ন দেবেন না। বঙ্গবন্ধু নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে মোট ৪২ জন সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তীকালে এমন সাহস আর কোনো সরকারপ্রধান দেখাতে পারেননি। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে যে কয়জন ক্ষণজন্মা মানুষ বুকের পাটা, অদম্য সাহস আর তেজ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে একজন। তাঁর এই অমিত তেজ বৈশিষ্ট্য তাঁর রক্তের উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে কিছুটা হলেও দেখা যায়। তবে শেখ হাসিনা বাবার মতো তেমন ভাগ্যবতী নন। বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, কামরুজ্জামান, মনসুর আলী, জিল্লুর রহমানের মতো বিশ্বস্ত আর নির্লোভ সহকর্মীরা। মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে, শেখ হাসিনা যাঁদের ওপর নির্ভর করে দেশ ও দল পরিচালনা করেন তাঁদের অনেকেই বিশ্বস্ত বটে; কিন্তু প্রয়োজন পড়লে অনেকেই আবার চোখের পলকে আনুগত্য বদল করতে দ্বিধা করবেন না।

এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সামনে শক্ত কোনো প্রতিপক্ষ নেই। তবে দলের অন্তঃকলহের কারণে অনেক জায়গায় এখন আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ। বিগত সময়ে সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম (যেবার এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ওয়ার্ড কমিশনার মনজুর আলমের কাছে পরাজিত হলেন), কুমিল্লা, গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হলে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল দলীয় কোন্দল। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কমপক্ষে ৭০টি আসনে পরাজিত হয়েছেন একই কারণে। শেখ হাসিনা তাঁর ২৩ তারিখের বক্তৃতায় এ বিষয়ে তাঁর শক্ত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি তৃণমূল কর্মীদের এ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তবে তৃণমূল কর্মীদের কোন্দল সৃষ্টিতে ব্যবহার করেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। নেতারা দলের চেইন অব কমান্ড ঠিক রাখলে কর্মীদের অন্য পথে যাওয়ার তেমন একটা সুযোগ নেই। দলে অনুপ্রবেশ এখন একটি সংক্রামক ব্যাধির রূপ ধারণ করেছে। এদের কিভাবে জামায়াত-বিএনপি ব্যবহার করতে পারে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে বিএনপির একজন নেতা, জনৈক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানের টেলিফোনের কথোপকথন শুনলে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। রাতারাতি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক সেজে কত জামায়াত-বিএনপি ঘরানার ব্যক্তি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তা হিসাব করা কঠিন। প্রয়োজনে ভোল পাল্টাতে তাঁরা কোনো কালক্ষেপণ করবেন না। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্যসচিব ছিলেন বিএনপি নেতা ড. মঈন খানের বাবা আব্দুল মোমেন। দেশে যে একটি খাদ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে, তা তিনি বঙ্গবন্ধুকে সময়মতো অবহিত করেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনি জিয়ার একজন উপদেষ্টা হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার জন্য জেলার দু-একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেন। শেখ হাসিনার অনমনীয় মনোভাবের কারণে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি কালবিলম্ব না করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। নির্বাচনের আগের রাতে ভোটারদের মধ্যে ৪২ লাখ টাকা বিলি করতে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। বর্তমানে সেই ব্যক্তি একজন বড় মাপের ঋণখেলাপি। বলা বাহুল্য এই দুধের মাছি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।

যেমনটি বলছিলাম, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ২৩ তারিখের বক্তৃতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক আওয়ামী লীগ নেতা যেমনটি ধারণা করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য তেমন একটা সহজ না-ও হতে পারে। মনে রাখা ভালো, এটি হবে আওয়ামী লীগ বনাম অন্যরা। বিএনপি-জামায়াত তো আছেই, তাদের সঙ্গে আছে দেশের এক শ্রেণির মিডিয়ার বশংবদ ‘সুশীল’ সমাজ আর পাকিস্তানের আইএসআই। একই সঙ্গে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের দাবি নিয়ে আরো কিছু আন্তর্জাতিক মুরব্বি নাজিল হবে। কলকাঠি নাড়া হবে লন্ডন থেকে। এরই মধ্যে একজন স্বঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ভূতপূর্ব আওয়ামী লীগ নেতা ঘোষণা করেছেন, ‘সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফেলে দিতে হবে।’ যতই নির্বাচন ঘনিয়ে আসবে ততই এই ‘ফেলে দেওয়ার দল’ ভারী হবে। এসব মোকাবেলা করতে হলে দলের প্রধান শেখ হাসিনা যে কথাগুলো সেদিন বলেছিলেন, তা যাতে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। দলে অনুপ্রবেশকারীরা স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করা সুযোগ ও সময়ের ব্যাপার। শেখ হাসিনা একটি কথা বলেন, ‘দলের নিবেদিত নেতাকর্মীরা অভিমানী হয়, বিশ্বাসঘাতক হয় না।’ এর চেয়ে সত্য কথা আর কিছু হতে পারে না। ২৩ তারিখের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য শেখ হাসিনাকে আবারও ধন্যবাদ।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক
(সংগৃহীত)

এই বিভাগের আরো সংবাদ