রোহিঙ্গা ইস্যুর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক মোমেন্টাম অর্জন

  মোহাম্মদ জমির

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা মুসলিম ইস্যুর ডায়নামিকসটি নতুন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগের সামনে আসা শুরু হয়েছে। বিশেষত গত ১১ নভেম্বরের পর থেকে আলোচ্য বিষয়টি তাত্পর্যপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসি সম্মিলিতভাবে জেনেভা, হেগ ও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করেছে। তারা মিয়ানমারে ঘটে চলা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের বর্বরতা প্রতিরোধে দেশটিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার ব্যাপকতর করা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জোর দিয়েছে। এটিও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। আরো বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়া ও চলাচলের স্বাধীনতা সম্পর্কিত আনান অ্যাডভাইজরি কমিটির সুপারিশগুলো রাখাইন রাজ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত।

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গত ১৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সহপৃষ্ঠপোষকতায় নিউইয়র্কে উত্থাপিত প্রস্তাবেও রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সমতা ও বৈষম্যহীন নীতির ভিত্তিতে দেশটির প্রতিটি নাগরিকের পূর্ণ মানবাধিকার সুরক্ষা এবং মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের মতামতেও প্রতিফলিত হয়েছে যে, অধিকতর অস্থিতিশীলতা ও অনিরাপত্তা প্রতিরোধ রোহিঙ্গাদের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে, আলোচ্য সংকটের মূল কারণ উন্মোচনে সাহায্য করবে এবং একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ রচনা করবে।

রোহিঙ্গা সংকটের আইনগত উন্নয়নের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক স্পটলাইটে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গত ১৪ নভেম্বর মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ওপর একটি তদন্ত প্রক্রিয়া উন্মোচনে কৌঁসুলিদের অনুমোদন দিয়েছেন। স্মর্তব্য, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন গত সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদন দিয়েছে যে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের বিদ্রোহ দমন অভিযানের কারণে—যেটিকে তারা গণহত্যা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে—৭ লাখ ৪০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

আইনজীবী ফাতৌ বেনসৌদার তদন্তের আবেদন খতিয়ে দেখা বিচারকদের প্যানেল সিদ্ধান্ত টেনে বলেছেন যে, ব্যাপকতর সহিংসতা ছড়ানোর ভিত্তি আছে—যেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের নির্বাসনে বাধ্য করা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জাতীয়তা পরিচয় কিংবা ধর্মের অধিকার ক্ষুণ্নের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আরো উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এই আইসিসির সিদ্ধান্তকে মিয়ানমারে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বর্বরতা চালানোর মূল হোতাদের একটি দৃঢ় বার্তা পাঠানো হচ্ছে যে তাদের দায়মুক্তির দিন শেষ।

এক্ষেত্রে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক নিকোলাস বেকুলিনের মন্তব্য উল্লেখ করা জরুরি। তিনি বলেছেন, আজকের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানালেও এটি মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর করা অনেক অপরাধের মধ্যে কেবল কিছু অপরাধের তদন্তের সুযোগ দেবে আইসিসিকে। এজন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দেশটির পুরো পরিস্থিতি আইসিসির কাছে রেফার করা অত্যাবশ্যক থেকে যায়। এ দায়িত্ব পালনে আলোচ্য পরিষদের চলমান ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতায় চিড় ধরাবে।

এ সিদ্ধান্ত ঠিক কয়েক দিন পরই আসে, যখন গাম্বিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুরু হওয়া প্রসিডিংসে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনে এবং রোহিঙ্গা কর্মীরা আর্জেন্টিনিয়ান আদালতে একটি মামলা রুজু করে।

যেমনটা আশা করা হয়েছিল, চীন ও রাশিয়ার জোরালো পৃষ্ঠপোষকতার কারণে মিয়ানমার তাদের বিরুদ্ধে আনা নানা অভিযোগ বিষয়ে আইসিসির তদন্তের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছে। চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র ‘জ’ হতে আইসিসির তদন্তকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।

মিয়ানমার পৌনঃপুনিকভাবে জঙ্গিদের উত্খাতের জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৭ সালের অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছে এবং বরাবরই আইসিসির কর্তৃত্ব অস্বীকার করে এসেছে। দেশটি আবারো তাদের একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করল। তবে এক্ষেত্রে এটি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে যে যদিও মিয়ানমার সদস্যভুক্ত নয়, তবু গত বছর আইসিসি বলেছিল রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারে সংস্থাটির আইনি কর্তৃত্ব আছে, যেহেতু তারা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে, যেটি সংস্থাটির সদস্য। সমালোচকরা বর্বরতা ঢাকতে মিয়ানমারের সর্বশেষ এ প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

গত ১১ নভেম্বর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া একটি স্বতন্ত্র মামলা রুজু করার পর পরই আইসিসির আলোচ্য সিদ্ধান্ত আসে। গাম্বিয়া ওআইসির ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। উল্লিখিত মামলার প্রথম শুনানি হবে আগামী ডিসেম্বরে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে আইসিজে সাধারণত বিভিন্ন দেশের মধ্যকার আইনগত বিরোধ বেশি নিষ্পত্তি করে, তবে আলোচ্য আদালত অনেক সময় জাতিসংঘ কনভেনশনের কথিত লঙ্ঘনের ওপরও বিধি জারি করে। মিয়ানমারের মুখপাত্র জ হতে অবশ্য বলেছে যে, ‘আন্তর্জাতিক আইনি উপায় অনুযায়ী’ দেশটি সাড়া দেবে।

এখানে এটি পর্যবেক্ষণ করা তাত্পর্যপূর্ণ যে, রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত ফৌজদারি অপরাধের জন্য মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে মিথস্ক্রিয়ামূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা এগিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে কানাডা নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছে। এটি ২০১৮ সালে গৃহীত তাদের আগের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। ওই সময় কানাডীয় সংসদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নেতৃত্ব দিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিল, মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রকৃতপক্ষে ছিল ‘গণহত্যার’। কানাডীয় বিশেষ দূত বব রে দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় আনা ও মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক নীতিভিত্তিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি জোরালো বিবৃতিও দিয়েছিলেন। এসব সমর্থন সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাস্তব কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এটি ছিল হতাশাজনক। এ সময় গাম্বিয়া এবং ওআইসি একটি ভিন্ন কর্মপ্রণালি নিয়েছে। তারা বিদ্যমান ডায়নামিকস জেনোসাইড কনভেনশনের ৯ নং অনুচ্ছেদ ব্যবহার করেছে। আলোচ্য ধারা অনুযায়ী, ব্যাখ্যা ও কনভেনশন প্রয়োগ সম্পর্কিত চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলোর বিরোধের ক্ষেত্রে যেকোনো দেশেরই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা রুজুর সুযোগ রয়েছে।

আশা করা হচ্ছে, পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পক্ষভুক্ত হয়ে কানাডা গাম্বিয়ার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে। কিংবা মিয়ানমারের রাষ্ট্র-পোষিত পদ্ধতিগত যৌন-সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জোরালো বিচারের সমর্থনে দেশটি ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে। ওই প্রাসঙ্গিকতার দিক থেকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং মিয়ানমারের গ্রামে ধর্ষণের শিকার নারীদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কানাডার সমর্থন নীতিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে এটি হত্যাযজ্ঞে বেঁচে যাওয়া বাকিদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করবে। এটি কাচিন, কারেন, শান ও শিনসহ অন্য সংখ্যালঘুদের (যাদেরও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হরদম খুন, নির্যাতন ও ধর্ষণ করে) ওপর অব্যাহত থাকা বর্বরতা থেকে নিবারণে মিয়ানমারের জন্য প্রতিবন্ধকের কাজ করবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের সহপৃষ্ঠপোষক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৪ নভেম্বর দেয়া একটি বিবৃতিতে যথার্থভাবে উল্লেখ করেছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা ও একাত্মতার বার্তা পাঠানো দরকার। সংস্থাটি মিয়ানমার সরকারের মানবাধিকার অব্যাহত লঙ্ঘন ও অপব্যবহার বন্ধ, জবাবদিহিতা ও দুষ্কৃতকারীদের বিচার নিশ্চিত, রোহিঙ্গা ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি কাঠামোগত বৈষম্যের অবসান এবং আনান প্রতিবেদনে দেয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

বোঝা জরুরি যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে আলোচিত হওয়া প্রস্তাবে কেবল রোহিঙ্গা নয়; রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যের অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর চালিত নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়েও গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের সবিস্তার অনুসন্ধানকৃত তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক আইনের চোখে হওয়া গভীরতর অপরাধ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে; আলোচ্য মিশনের ভাষ্যানুযায়ী যেখানে নারী, শিশু ও পুরুষরা নিজের পরিবারের সদস্য, বন্ধু-স্বজনের খুন এবং গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব ও অন্য ধরনের সহিংসতার বলি হওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছে।

আলোচ্য প্রস্তাবে গণনৃশংসতার প্রতিকার ও বিচার নিশ্চিত এবং একটি স্বাধীন তদন্তমূলক প্রক্রিয়া পরিচালনারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। ওই রেজল্যুশনে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা স্মরণ করে মিয়ানমারকে ১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

‘সিচুয়েশন অব হিউম্যান রাইটস অব রোহিঙ্গা মুসলিম অ্যান্ড আদার মাইনরিটিজ ইন মিয়ানমার’ নামের প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে ওআইসির পক্ষে উপস্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিনল্যান্ড। ১৪০ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা এটি প্রাথমিকভাবে অনুমোদন হয়। চীন, মিয়ানমার, রাশিয়া, বেলারুস, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও জিম্বাবুয়ে এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ৩২টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। প্রয়োজন হলে ভোটিংয়ের জন্য খসড়াটি এখন সাধারণ পরিষদের পূর্ণ অধিবেশনে উপস্থাপিত হবে।

যদিও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন সমর্থনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে তারা আলোচ্য প্রস্তাবের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। তিনি যথার্থভাবে চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর্যবেক্ষণের প্রতিও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি (আমাদের প্রধানমন্ত্রী) বিশ্ব সম্প্রদায়কে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রদর্শন এবং রাখাইন রাজ্যে আস্থা প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে বেসামরিক পরিদর্শক নিয়োগে রাজি করাতে মিয়ানমারকে বোঝানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এটি ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটি উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবে।

লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত; পররাষ্ট্র, তথ্য অধিকার ও সুশাসন বিষয়ক বিশ্লেষক; সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার
email : [email protected]

এই বিভাগের আরো সংবাদ