নৌকা হারলে বঙ্গবন্ধু হেরে যায়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০১ | আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:১৩

প্রথমেই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কন্যার লেখা সরাসরি আপনাদের অবগতির জন্য পেশ করছি  

"দুঃখ পেয়েছিলাম,যখন দেখলাম একজন রাজাকার পিসকমিটীর চেয়ারম্যানের পোতা রাশেদুল বাসার ডলারকে আওয়ামীলীগের কান্ডারী দেখে।।

আমার বাবা ছিলেন ৮ নম্বর সেক্টর এর বীরমুক্তিযোদ্ধা।এবং সারা বাংলাদেশের নড়াইলে ও গোপালগঞ্জে বেশী মুক্তিযোদ্ধা।

সেই নড়াইলে যদি উপজেলা চেয়ারম্যান হয় একজন কুক্ষাত রাজাকার যার নির্দেশে শত শত ঘর বাড়ীতে আগুন দেওয়া,মেয়েদের ধরে নিয়ে খানসেনাদের হাতে তুলে দেওয়া সেই রাজাকার নড়াইলের  লোহাগড়ার পাচুড়ীয়া গ্রামের আদাড়ে/ইসহাক মৌলুভী।এর মত কুক্ষ্যাত রাজাকার নড়াইল জেলাতে ছিল না,,নড়াইলের লোহাগড়া অঞ্চলের বর্বরতার কথা সবাই জানেন।

১৯৭১ সালের ৮ই ডিসেম্বরে লোহাগড়া থানা এটাকের দিনে কালি বাড়ী ঘাটে বীরমুক্তিযোদ্ধা ইউনুসের গুলিতে এই ডলারের দাদা মারা যায়।।

ধন্যবাদ লোহাগড়া বাসিকে এজন্য যে,রাজাকার রাজাকারই,
সঠিক জবাব দিয়েছে লোহাগড়া বাসী রাজাকারের পোতাকে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন,আমাদের বাবা,চাচারা তাদের জীবনের বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন এই সব রাজাকারের রক্ত প্রতিনিধিত্ব করবে তাই দেখার জন্য না,
তাই কখন কাকে নৌকার কান্ডারী বানাবে তাদের বংশ পরিচয় জেনে বানানো দরকার ,

এ নৌকা পবিত্র প্রতীক,এই নৌকাকে যেনো আর কলুষিত না করি।।

নৌকা হেরে গেলে বঙ্গবন্ধু হেরে যায়, নৌকা হেরে গেলে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হেরে যায়।

আনারস মার্কায় যে জিতেছেন তিনি লোহাগড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি,
অভিনন্দন নবনির্বাচিত লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান রুনু ভাইকে। রুনু ভাই ১৬ হাজারের বেশী ভোট পেয়ে জিতেছেন।

বিঃদ্রঃ ডলারের পোস্টারে জাতির জনকের ছবি নাই,আলহামদুলিল্লাহ্‌

রাজাকারের পোতার পোস্টারে জনকের ছবি থাকলে সত্যিই জনকের আত্মা বিদ্রোহ করতেন।

হ্যা, রাশিদুল বাসার ডলারের কথাই বলছি।

যিনি এ বছর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর লোকজন বলতে শুরু করলো 'কে এই ডলার'?কারণ,এর আগে তাকে কেউ ই চিনতো না।

তাহলে আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে "একটা লোক উপজেলা নির্বাচনের মতো বড় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলো, তবে এলাকার লোক তাকে চিনলো না কেন???

এর কারণটা শুনবেন!

আসল কারণটা হলো, ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর লোহাগড়া শত্রুমুক্ত হওয়ার পর ডলারের দাদা, অত্র অঞ্চলের কুখ্যাত রাজাকার ইসহাক শেখকে লোহাগড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা কালিবাড়ির ওইখানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে -লোহাগড়ার মাটিকে পবিত্র করে। তার লাশ -নবগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দাফন হয়নি ওই কুলাঙ্গার দেশদ্রোহীর।

আর ওই কুলাঙ্গার ইসহাক শেখের ছেলের ছেলে এই ডলার।জনাব ডলারকে তার দাদার কবর কোথায় একটু জিজ্ঞেস করবেন তো!!! দেখাতে পারবে কিনা কবরটি কোথায়???

ওনার দাদাকে হত্যা করার পর ওনার দাদি ও ওনার বাবা-চাচারা সবাই নড়াইল থেকে ভয়ে পালিয়ে কুষ্টিয়া চলে যায় ও সেখানে বসতি গড়ে।

নড়াইলের লোহাগড়ার লোকজন একারণেই ডলারকে চিনতো না।

এমনকি এখনো,সে নিজেকে যে গ্রামের লোক বলে দাবী করে-মল্লিকপুর ইউনিয়নের সেই পাচুড়িয়া গ্রামে ডলারের কোন বাড়ি বা ঘর নেই।

নৌকার টিকেট পেয়েও যে লোক নৌকার মান রক্ষা করতে পারলো না,তার আর রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকে না।তবুও এখনও সে উড়ে এসে জুড়ে বসে, লোহাগড়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফাটল ধরিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে!!!

লোহাগড়ার পথে-প্রান্তরে যুগের পর যুগ হেটে- হেটে,জেল-জুলুম,বিরোধীদলের অত্যাচার -নির্যাতন সহ্য করে যারা লোহাগড়ায় আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করেছেন, সেই সকল নেতাদের কারো কারো নামে মিথ্যা অপপ্রচার রটিয়ে,কয়েকজনকে ভুল বুঝিয়ে গ্রুপিং সৃষ্টি করে রেখে নিলর্জ্জ ডলার এখন তার নিজের আখের গোছাচ্ছেন।

শেষ মুহূর্তে হলেও লোহাগড়ার জনগণ এই নব্য হাইব্রীড রাশিদুল বাসার ডলারকে বর্জন করে-এই অঞ্চলের একজন বর্ষীয়ান নেতা -উপজেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সভাপতি,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান (রুনু) কে পুনরায়  বিজয়ী করেছেন।

ডলারের পরিবারের প্রায় সকলেই বিএনপি-জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার চাচা ওলিয়ার শেখ থানা বিএনপির নেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ডলার ক্যাম্পাসে "গাছ-চুরা ডলার"নামে পরিচিত ছিল।কারণ সে তার হল এস.এম হল থেকে চুরি করে গাছ বিক্রি করতো।

নমিনেশন পাওয়ার পর নড়াইলে যেয়ে সবার সাথে ডলারের অসৌজন্যমূলক আচরণ ,মুরব্বীদের সাথে বেয়াদবি করা এবং সম্মানিত  মানুষকে সম্মান না দেওয়ায় ডলার ব্যাপকভাবে নির্বাচনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের থেকে পিছিয়ে পড়েছিলেন,
এছাড়া গ্রুপিং রাজনীতিকে আরো বেশি উসকে দেওয়া এবং তার স্ত্রী রুম্পার সীমাহীন  দাম্ভিকতাকে জনগণ মেনে নেয়নি।হাতের কাছের কিছু দালালরা যেমন তাদের বেয়াদবি আর দাম্ভিকতাকে মেনে নেয়,ডলার দম্পতি ভেবেছিল, লোহাগড়ার জনগণ ও তাই মেনে নেবে।কিন্তু জনগণ এই বেয়াদবি আর দাম্ভিকতার জবাব দিয়েছিল ভোটের দিন ব্যালট পেপারে।

ডলারের স্ত্রী রুম্পাকে বলছি "আপনি নিজেকে কি বঙ্গবন্ধু বা জননেত্রী শেখ হাসিনার থেকেও বড় আওয়ামী লীগার ভাবেন?

এতো নৌকা নৌকা করছেন, নৌকার প্রতি এতো দরদ দেখাচ্ছেন,তো -আপনার আব্বা ওসি খান সাহেব যখন নৌকার বিপক্ষে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন -তখন আপনার এই আদর্শ কোথায় ছিল!এমনকি এবার উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আপনার আব্বা দলের বিপক্ষে গিয়ে মনোনয়ন কিনেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জনগণ যাতে আপনার পরিবারের ভেলকিবাজি না বুঝে  ফেলে তাই বাবা কে বসিয়ে দিয়ে, স্বামীকে জেতাতে কাজ করলেন।

পাশাপাশি দুটি উপজেলা কালিয়া আর লোহাগড়া -একটায় জামাই-নৌকা নিয়ে, আরেকটায় শ্বশুর নৌকার বিপক্ষে, এটা তো জনগণ মানবে না।তাই দূকুল হারানোর ভয়ে বাবা কে বসিয়ে দিলেন।

তবে জনগণ এর আগেই আপনাদের ছলচাতুরী বুঝে গিয়েছিল, তাই দূ'কুল ই হারিয়েছেন আপনারা স্বপরিবারে।নিজেকে বড় আওয়ামীলীগার সাজাতে চান-জনগণ জানে-আপনারা কতবড় হাইব্রীড আওয়ামী লীগার!!!

লোহাগড়াবাসী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে।

লেখক : কাজী আরিফুর রহমান
সাংস্কৃতিক সম্পাদক, একুশে হল ছাত্র সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ