ডিজিটাল বাংলাদেশ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০১৮, ১১:৩০

জুবাইদা গুলশান আরা হেনা, ০২ জুন, এবিনিউজ : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ’ সংকল্প ’ কবিতার শেষ ৪ লাইন দিয়ে শুরু করছি–

“পাতাল ফেড়ে নামবো নীচে/ উঠবো আবার আকাশ ফুঁড়ে, বিশ্ব– জগৎ দেখবো আমি/ আপন হাতের মুঠোয় পুরে।”

জননেত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সমুদ্র জয় করেছে, সমুদ্রের তলদেশ থেকে “ফাইবার অপটিক ক্যাবল”র মাধ্যমে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশ্বময় যোগাযোগ স্থাপন করেছে। মহাকাশে জ্বল জ্বল করছে “বঙ্গবন্ধু –১” স্যাটেলাইট। ৪এ মোবাইলের মাধ্যমে বিশ্বজগত আমাদের হাতের মুঠোয়।

পাহাড়, সমুদ্র, পরিবেশ বিজয়ের পরে ডিজিটাল বাংলার সুফলে বাংলাদেশ জয় করলো মহাকাশ।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ” বলতে আমরা বুঝি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক দেশ যেখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, উন্নত নেটওয়ার্ক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সর্বত্র সফটওয়্যারের ব্যবহার, ই ব্যাংকিং, ই–কমার্স ইত্যাদি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সকল সুবিধা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়া ‘ভিশন ২০২১’ ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের রূপকল্প ঘোষণা দিয়েছিলেন বর্তমান সরকার।

ল্যান্ডফোন, মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ই–ম্যাগাজিন, ডায়েরি, ই– বুক রিডার সবকিছুই তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবে সম্ভব।

জনগণ আগে লাইনে দাঁড়িয়ে বাস, ট্রেন, কোন প্রোগ্রামের টিকিট, খেলার টিকেট কাটতো। কিন্তু এখন অনলাইন থেকে টিকেট সংগ্রহ করা হয়। বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইংরেজি শিক্ষার হার বেড়ে গেছে, উন্নত কৃষি উৎপাদন, আধুনিক চিকিৎসাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করছি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট –১, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে বাংলাদেশ সময় ১১ মে রাত ২টা ১৪ মিনিটে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স –৯ রকেটের ব্লক ফাইডের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়।

মিশনের ১৫ বছর মেয়াদকালে এটি সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশনের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য স্যাটেলাইটটিতে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার, এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন চালু করা হয়েছে। রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় আরেকটি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে যেটি ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে।

এরইমধ্যে বিসিএসসিএলষ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, তাজিকিস্তান, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তানের সাথে যোগাযোগ করে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। সব ঠিক থাকলে পরবর্তীকালে চুক্তি হতে পারে দেশগুলোর সঙ্গে এবং শীঘ্রই বিপণনের কাজ শুরু হবে। বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বজ্রপাত, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের গতিবিধি আগাম আরো নিখুঁতভাবে জানা যাবে।

প্রকৃতির নিষ্ঠুর থাবা থেকে মানুষকে বাঁচানোর সর্বাধুনিক কৌশল ব্যবহার করবে স্যাটেলাইটটি। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু–১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে নতুন মাত্রা সংযোজিত হচ্ছে। মহাবিশ্বে মহাকাশে জ্বল জ্বল করছে আমার প্রিয় ’বঙ্গবন্ধু’ নামটি।

“এ জ্যোতির্ময়! তোমার জ্যোতিতে আলোকিত করে দিলে সারাবিশ্ব!

হে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু! প্রণমি তোমায় শ্রদ্ধাভরে।”

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বিশ্বনন্দিত নেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং নেতৃত্বে এবং আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মহাকাশে “বঙ্গবন্ধু–১” স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত ও প্রযুক্তিগত শক্তিধর ৫৭তম দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত ও দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাইলফলক স্পর্শ করে বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই বিশ্বজোড়া সাফল্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাই।

“একটি সত্তাকে ঘিরে আবর্তিত / কোটি বাঙালির প্রাণ, বিশ্ব মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা অপূর্ব মানবীয়, হে পুণ্যবান!” জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত হওয়ায় উন্নয়ন–অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশকে আইটিইউ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে উপযুক্ত সন্মান দিয়েছে ২০১৫ সালে।

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত তথ্য প্রযুক্তি মেলায় সাউথ এশিয়া ও এশিয়া–প্যাসিফিক ‘মন্থন অ্যাওয়ার্ড’ ২০১৩ সাল। জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্ষুদ্র্র, মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্প, নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা সঞ্চালন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সম্পদের সুষম বন্টন, রাষ্ট্রীয় মৌলিক সেবাসমূহ কার্যকর এবং দক্ষতার সাথে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যূনতম সময়ে পৌঁছে দিচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি।

ইতিমধ্যে দেশে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফোরজি সেবা চালু করা হয়েছে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে যথাযথভাবে অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
(সংগৃহীত)

এই বিভাগের আরো সংবাদ