বাংলাদেশে দুর্নীতিবিষয়ক বিতর্ক

  মোহাম্মদ জমির

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

বিষয়টি স্বস্তিদায়ক না হলেও সত্যি, নিজেদের আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় খুঁজে পেয়েছি। গেল জানুয়ারির শেষ দিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে দুর্নীতির ধারণা সূচক, ২০১৮-তে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনমন ঘটেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যানুসারে, ১০০ পয়েন্টের এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৬। যার অর্থ, দুর্নীতিগ্রস্ত ১৮০টি দেশের মধ্যে এ পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯তম। যেখানে ২০১৭ সালে অবস্থান ছিল ১৪৩তম। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন ভুটান, ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ এ তালিকায় বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি ভালো ও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।

দুর্নীতিবিষয়ক এ মূল্যায়নে বাংলাদেশের অধঃপতন এক ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছে। বিএনপি ও বিরোধীদলীয় জোটের অন্য দলগুলো ওই প্রতিবেদনটিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শাসনামলে সুশাসনের অভাব সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা হিসেবে কাজে লাগানোর অপচেষ্টায় নিয়োজিত। বিপরীতভাবে শাসক দলটি বেশ ন্যায়সংগতভাবেই প্রতিবেদনটির বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

তথ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুর্নীতির ধারণা সূচক পরিমাপের অস্পষ্ট পদ্ধতি সম্পর্কে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা আরো জানিয়েছেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাল যে প্রশ্ন ও উত্তরের ভিত্তিতে এটি করেছে, তা অনেক বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান তার পরামর্শস্বরূপ আরো বলেন, টিআইবিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে, উদীয়মান সাধারণ সূচকগুলোর দিকে নজর দিতে হবে এবং নিজের মতামত প্রদান ও প্রতিবেদনটি জনসম্মুখে প্রকাশের আগে সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তাদের মতামত নিতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘুষ, অর্থ তছরুপ, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, অত্যধিক তদবির, সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা, তহবিল লুট, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন আচরণ ও অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সরকারি বিভাগগুলোকে গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ, বর্জ্য অপসারণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহনসেবা, পাসপোর্ট ইস্যু করা এবং ভূমি রেকর্ডের ক্ষেত্রগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমন অবনতির পেছনে জবাবদিহিতার অভাব অন্যতম কারণ বলে কেউ কেউ মনে করেন।

এশিয়ার মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ এসেছে যে, প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য দুর্নীতি, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে উপকৃত হচ্ছে। পরিণামে চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ ও জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের শাস্তি হয় না, যা পরবর্তীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উৎস হয়ে উঠছে।

উল্লেখ্য, গণমাধ্যমগুলোর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, সরকারি হাসপাতালগুলোয় বড় ধরনের অনিয়ম বিদ্যমান। এ হাসপাতালগুলোয় ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে কর্মরত অন্য সহকারীরাও সবসময় রোগনির্ণয়মূলক পরীক্ষাগুলো করার জন্য নির্ধারিত নিয়মগুলো অনুসরণ কিংবা চিকিৎসা গ্রহণের সময় ঘুমানোর সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেন না। তাছাড়া সেবা প্রদানের বিপরীতে হাসপাতালের কর্মরত ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অর্থ দাবি করে থাকেন। যদিও তারা এ ধরনের সেবা বিনা মূল্যে দিতে বাধ্য।

বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা বিদ্যমান। সরকারি ও বেসরকারি উভয় শ্রেণীর চিকিৎসকরাও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে কমিশনভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে বাড়তি অর্থ আয়ের বন্দোবস্তো করে চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচ বাড়িয়ে তুলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড়া কোনো সাহায্য বা সেবা প্রদান থেকে তারা বিরত থাকেন।

যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বরাবরের মতো এ অভিযোগগুলোও খারিজ করে দেয়া হয়েছে, তবে তারা স্পষ্টতই ওই বিষয়গুলোকে ঘিরে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিদ্যমান দুর্নীতিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে দেশের বাইরে অবৈধ অর্থ পাচার। স্পষ্টতই, প্রক্রিয়াটি ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন, ব্যক্তিখাতগুলোর অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ প্রেরণ ব্যবসায়িক সম্প্রদায় ও করপোরেট খাতের আর্থিক নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনের দায়বদ্ধতাজনিত আস্থাহীনতার জন্য হতে পারে।

দুর্নীতিচর্চা দ্বারা আক্রান্ত অন্য ক্ষেত্রটি হচ্ছে, বেসরকারি খাতের প্রয়োজনীয় আইনি নিয়ামকগুলো মেনে চলার অভাব। নিয়মিত জরিপের মাধ্যমে আমরা যে প্রতিবেদনগুলো পেয়েছি সেখানে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ভবন নির্মাণ কিংবা কর্মক্ষেত্রে যথাযথ সুরক্ষা নীতিমালা মেনে চলেন না। সম্প্রতি সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং পরিদর্শকমণ্ডলীর তদন্তের ফলে সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে, তবে সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য অংশের মতো এখানেও রুদ্ধদ্বার আলোচনার প্রচেষ্টাগুলো মাঝে মধ্যে বিফলে যায়।

ওই বিষয়গুলোর কারণে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোয় বাংলাদেশকে ভীষণ সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বেসরকারি খাতের ত্রুটিপূর্ণ পরিচালন পদ্ধতি, উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে দ্রুতগতিতে অধঃপতন ঘটছে। আমেরিকাভিত্তিক হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশন কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচক ২০১৯ অনুসারে, ব্যবসায়িক বিধিগুলোর অগ্রগতি সত্ত্বেও এক ধরনের অনিশ্চিত পরিবেশ এবং বেসরকারি খাতে কার্যকরী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের অনুপস্থিতি ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনটিতে আরো দেখানো হয়েছে, আইনের বিধি-বিধানের দুর্বলতা, দুর্নীতি ও সম্পত্তি অধিকারের দুর্বল বাস্তবায়নের ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো প্রভাবিত হচ্ছে এবং ক্রমে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির দিকে পরিচালিত হচ্ছে।

অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে ২০০৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (কার্যকরী হয় ২০০৪ সালের ৯ মে) গঠিত হয়েছিল, তা উচ্চ থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত দুর্নীতি প্রতিরোধে যতটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, কার্যকরী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার অভাবে ততটা কাজ করতে সক্ষম হয়নি। এদিকে গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে, গত তিন বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে দুদকের করা মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের হার কমেছে। ২০১৭ সালে যা ছিল ৬৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেখানে গত বছর এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, বড় ধরনের সংকট সত্ত্বেও কয়েক বছর ধরে সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাংলাদেশ অগ্রগতির নেপথ্যের অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের মোট জিডিপির পরিমাণ ছিল ৮৭ বিলিয়ন ইউএস ডলারের মতো। গত ১০ বছর আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫০ ইউএস ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং জিডিপির পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ইউএস ডলারের কাছাকাছি হয়েছে। এ অর্জনের নেপথ্যে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেছে বেসরকারি খাত। তবে তাদের অবশ্য দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়ার মাধ্যমে ব্যাপক মাত্রায় অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি (ইনফরমাল ইকোনমি) সৃষ্টির প্রয়োজন নেই। এটা আমাদের দেশের ব্র্যান্ডিং বা ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। এছাড়া এটি দীর্ঘমেয়াদে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বা অর্থনৈতিক যৌথ উদ্যোগ হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে, তবে অবৈধ অর্থের লেনদেন সামলাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্ভবত আরো একটি বিশেষ স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যেখানে সাইবার নিরাপত্তার ওপর বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুদক, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকবে। এছাড়া দুর্নীতিবিষয়ক মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমাদের বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে আইনি পদ্ধতিগত জটিলতায় তাদের কার্যক্রমগুলো স্থবির হতে দেয়া যাবে না। এখানে শুধু অন্যান্য পক্ষের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নয়, নিজদলীয় এজেন্ডাগুলোকে ঘিরেও প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা জরুরি। উদ্ধৃত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় আমাদের তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সক্রিয় হতে হবে, যেমনটা সিঙ্গাপুর করেছে।

২০১৫ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি ইনস্টিটিউশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে বড় অংকের অর্থ আসার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানে একটি আনুমানিক হিসাব করা হয়েছে যে, প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আসা অর্থের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তাছাড়া অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচারকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম ৪০ দেশের মধ্যে অন্যতম।

বিভিন্ন সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাও উল্লেখ করেছেন, (২০১৬ সালের ২ জুলাই দি এশিয়ান এজের সম্পাদকীয়তে প্রকাশিত) ৮৮ শতাংশ অবৈধ অর্থ বিদেশী সরবরাহকারীদের সঙ্গে আমদানিকারকদের অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। আমদানিকারকরা তাদের বিদেশী সরবরাহকারীর সঙ্গে অবৈধ আয়োজন করে আমদানিকৃত পণ্যের জন্য বেশি অর্থ দেয় এবং এসব আমদানিকারকের বিদেশী ব্যাংক হিসাবে এ বাড়তি অর্থ পাস করিয়ে নেয়। এ অবৈধ প্রক্রিয়ায় অনেক দুর্নীতিবাজ ব্যাংকারও জড়িত, যারা এসব আমদানিকারকের জন্য অতিরিক্ত ঋণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া আমদানিকারকরাও বলে, মূলধনি যন্ত্রপাতি কেনার উচ্চ আমদানি ব্যয়ের জন্য তাদের অতিরিক্ত ঋণ প্রয়োজন। ফলে এ ব্যাংকাররাই পুনরায় তাদের শিডিউল করে দেয়। দুর্ভাগ্যক্রমে এসব ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত ব্যাকআপ রাখা হয় না এবং ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দিনশেষে চূড়ান্ত ক্ষতির শিকার হয় আমানতকারী কিংবা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক হলে রাষ্ট্র।

আমাদের উপলব্ধির প্রয়োজন রয়েছে, দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ প্রেরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করে অর্থ পাচার ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হবে। এক্ষত্রে কালো অর্থ সাদা করার সুযোগ রহিতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, যা কিনা পরোক্ষভাবে অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থকে বৈধ করার সুযোগ দেয়।

পরিশেষে দুর্নীতির ওপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে নিবন্ধটির সমাপ্তি টানতে চাই। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘুষ ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ১ দশমিক ৫ থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ সম্পদ নিঃশেষ করে। আমাদের বুঝতে হবে, দুর্নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা বেশ কঠিন। এ পর্যায়ে আমাদের প্রতিবেদনটির সারবস্তুর সঙ্গে একমত হতে হবে, যেখানে বলা হয়েছে, দুর্নীতি অর্থনৈতিক অদক্ষতা দীর্ঘস্থায়ী করে, সরকারি নীতিকে অবমূল্যায়ন করে এবং অসাম্য বাড়িয়ে দেয়।

এ পর্যায়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো জরুরি। কারণ তার নতুন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেনি, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার বিষয়টিও নিশ্চিত করছে। সময়োপযোগী এ সিদ্ধান্ত জবাবদিহিতার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করবে।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার
[email protected]

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food