গুড লাক বেইমানির রাজনীতি

  অজয় দাশগুপ্ত

২৭ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

প্রায় অচেনা রনিকে নৌকা এনেছিল লাইম লাইটে। তারপর যা হয় তা। সমাজে রাজনীতি যেমন নেতাও তেমন বটে। মনে আছে মাওলা বনাম দরবেশের লড়াইয়ের কথা। দরবেশ সালমান সাহেব মাওলার চাইতে অনেক পাওয়ারফুল। সে সময় রনিকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। কারাগারবাস নেতাদের জন্য দরকারী। এক সময় নেহেরু সীমান্ত গান্ধী গাফফার খান কিংবা বঙ্গবন্ধু কারাগারেই পার করেছেন বেশীরভাগ সময়। বাঙালি মনীষা শ্র্রী অরবিন্দ কারাগার মুক্তির পর দার্শনিক ও ঋষিতে রূপান্তরিত করেছিলেন নিজেকে। বঙ্গবন্ধু কারাগারে বাট্রান্ড রাসেল পাঠের পর কনিষ্ঠ পুত্রের নাম রেখেছিলেন রাসেল।

যারা মতলববাজ তাদের কারাগারবাস ভিন্ন। রনি তখন কাদের মোল্লার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে উচ্ছা ভাজিকে উষ্ট্রা ভাজি লিখে আম জনতার মনযোগ আকর্ষন করার জন্য লিখেছিলেন কাদের মোল্লা নাকি রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতেন। এমনতরো হাজার কেচ্ছা বানোয়াট গল্প আর কথা বলে নিজেকে আলাদা করতে থাকা রনি তখনো যাননি। বরং যেভাবেই হোক নৌকার টিকেট পেতে মরিয়া ছিলেন বলে এবার ও নমিনেশান ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ইন্টারভিউ ও দিয়েছিলেন।

মা বলতেন, এক বেড়ালের ওপর ইঁদুরদের ছিলো ভয়ানক রাগ। কিন্তু কিছুই করতে পারেনা তারা। একদিন দেখে কি দুধ চুরি করার অপরাধে সে বিড়ালকে গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে । আনন্দিত ইঁদুর মজা করে জানতে চেয়েছিল: কি হলো বেড়াল ভায়? কই যাও? পরাজয়ে মানতে নারাজ বিড়াল নাকি উত্তর দিয়েছিল: মাছ খাইনা মাংস খাইনা ধর্মে দিছি মন তুলসীমালা গলায় দিয়ে চলছি বৃন্দাবন।

গোলাম মাওলা রনি মাওলা নামের দিকে খেয়াল রাখেননি। গোলাম ই হলেন শেষতক। কথা দিয়েছেন আমৃত্যু জাতীয়তাবাদের গোলাম থাকবেন। আর ধানের শীষে ভোট করবেন। খবরে দেখলাম আহ্লাদিত মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, রনিকে পেয়ে নাকি তারেক জিয়াও খুব খুশী।

রতনে রতন চিনবে এটাই স্বাভাবিক। মীরজাফর কত আগে ইন্তেকাল ফরমিয়েছে তারপর মোশতাক ও গেছে। আছে শুধু গোলামের দল।

গুড লাক বেইমানির রাজনীতি।

লেখক : কলাম লেখক ,সাংবাদিক।

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food