গণতন্ত্রই শেষ ভরসা

  ফজলুল হক

২৬ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

আমি কথা বলতে জানি না। আমার কথা কখনো গোছানো হয় না। গোছানো হয় না বলে, আমি আপনাদের জানিয়ে দিই যে, আমি কথা না বলার মানুষ বা কম কথার মানুষ। আমাকে আপনি সভা সমিতিতে খুব কম দেখবেন। শিক্ষকতা করেছি, ক্লাসে কথা বলতে হয়েছে। একাডেমিক পারপাস ছাড়া, শিক্ষকতা জীবনে আমি অন্য কোন কথাই বলিনি। রাজনীতি নিয়ে লিখি, রাজনৈতিক কথাবার্তা শুনি। অনেক ভাল ভাল কথা আপনারা বলেন, কিন্তু আপনি আমাকে কথা বলতে খুব কম দেখবেন। আমি কোন সভাতে যাইনা। স্বাধীনতার আগে অন্য রকম সময় ছিল। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের তুলনা হয়না। তখন ছিল ত্যাগের রাজনীতি। ১৯৭১ সাল, এই এক বছরে আমাদের যে আত্মত্যাগ, এই এক বছরে আমাদের যে অর্জন, তার কোন তুলনা এখন খুঁজে পাইনা। স্বাধীনতার পূর্বের ২৪ বছরে আমাদের যে অর্জন, তা আন্ প্যারালাল, অতুলনীয়। স্বাধীনতার পর আমাদের ৪৬ টি বছর কেটেছে, স্বাধীনতা পুর্ববর্তী সময়ের তুলনায় তা তত অগ্রসরমান বলে আমি মনে করিনা। এই সময়টাতে স্বাধীনতা পুর্ববর্তী সময়ের অর্জনের ধারা থেকে আমাদের পশ্চাদাপসরন আমরা দেখতে পাই। ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, আজ মনে হয়, ১৯৭১ সাল থেকে আমরা দুরে, বহু দুরে চলে এসেছি। মানুষ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক কিছু অর্জন করতে পারে। কিন্তু লোভ, কোন কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ভোগ বিলাস, অন্ধ স্বার্থপরতায় লিপ্ত মানুষ- তার সকল অর্জনকে বিসর্জন দিতে থাকে। আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আমি প্রগতিশীল- তাই বলে আমি সব চেটেপুটে খেয়ে ফেলব? দেশ সবার এটা ভুলে যাব?

আমার সাথে যখন আপনাদের দেখা হয়, আপনারা অনেক কথা বলেন। যেহেতু আমি একজন লেখক, আপনাদের মধ্যে আমার দু একজন পাঠক পাঠিকা থাকতে পারেন। পাঠক পাঠিকার প্রতি আমি দুর্বল। কোন কোন যায়গায় গেলে আমার পাঠক পাঠিকারা নানা প্রশ্ন করেন, নানা রকম পরামর্শ দেন। আমার তো এত প্রশ্নের জবাব দেয়ার সুযোগ নেই। আমি যা ভাবছি, আপনি তা নাও ভাবতে পারেন। এখন মতামত প্রকাশ করার অনেক প্লাটফরম আছে। এ যুগে রাজনীতি শো-বেইজ্ড এবং ভোগ বিলাসে উম্মত্ত লোকেরা রাজনীতিতে গিজগিজ করছেন। মানুষ নিজেকে এমন ভাবে দেখাতে চায়- যেন তার উপর আর মানুষ নাই। কথা কম বলা, এখন খানিকটা নিরাপদ। আমি কোদালকে কোদাল বলতে পারবো না। সাপকে বেঁটে বলতে হবে। ব্যাঙকে লম্বা বলতে হবে। গত দশ বছর, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল, আমরা আমাদের অর্থনীতিকে শক্ত সামর্থ করতে পেরেছি। এটা আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য। এই কথা বলতে আমি দ্বিধা করবোনা। একথা বলতে ও দ্বিধা করবোনা যে, দুর্নীতিকে আমাদের কঠোরভাবে দমন করা উচিৎ। দুর্নীতিবাজকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়ার কোন অবকাশ নেই। আওয়ামী লীগের উচিৎ- তাদের মধ্যে দূর্নীতিবাজকে কঠোর শাস্তি দেয়া। আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তির দোর গোড়ায় এসে উপনীত হয়েছি। এই সময়ে আমাদের ব্যর্থতা আছে। আছে আমাদের অর্জন। আমরা কি আমাদের অনেক অর্জনকে বিসর্জন দিয়েছি? আমরা কি কিছু কিছু সম্ভাবনা নষ্ট করেছি? ১৯৭১ সালে জীবিত ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর বিভীষিকা নিজে উপলব্ধি করেছেন, তেমন মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। তখন যার বয়স ৩০ বছর ছিল এখন তার বয়স ৭৭ বছর। বেশীর ভাগ মানুষ মরে গেছেন। তখন আমার বয়স ২১/২২ বছর। তখন আমরা বুঝতে পেরেছি পাকিস্তান আমাদের কমন শত্রুু। ৪৭ সাল থেকে তারা আমাদের শোষণ এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন করে আসছে। আজ ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হচ্ছে ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ১০ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন। কর্তৃত্ববাদী শাসনের কি দেখেছে আমাদের তরুণরা? ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত এই ২৪ বছরের পাকিস্তানের আয়ূব-ইয়াহিয়া খানের শাসন কি নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসন ছিল তা দেখেছেন? একাত্তর- এই একটি বছরে দেশের শাসকরা মানুষকে কি জুলুম করেছে ভাবতে পারেন? এখন সে পাকিস্তানের অনুসারীরা অন্যের দিকে তাকিয়ে তাকে কর্তৃত্ববাদী শাসনকারী বা শাসক বলছে। ৭৫ পরবর্তী স্বৈর শাসকদের কথা তাদের মনে নাই। ১৯৭১ সালে মানুষ বুঝতে পেরেছিল, পাকিস্তান আমাদের সকলের কমন শত্রু। রাজাকার, আল-শামছ আমাদের কমন শত্রু। যারা যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরনকারী, তারা আমাদের কমন শত্রু। কোন মেয়ে ঘর থেকে বেরুতে পারে নাই। তাকে ধরে নিয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমরা জনগণ, তখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় তখন আমরা নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য তৈরী করেছি। কার সাথে ঐক্য করেছি? রাজাকারের সাথে নয়। শান্তি কমিটির সদস্যদের সাথে নয়। জামায়াতে ইসলামীর ঘাতকদের সাথে নয়। দালাল কলাবোরেটরের সাথে নয়। সাধারণ মানুষ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। খাবার দিয়েছে। আমাদের লুকিয়ে রেখেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে সব চাইতে বড় মুক্তিযোদ্ধা হলেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির কঠিন ঐক্য আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আজ আমাদের সামনে ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে জনগণের মধ্যে। নেতায় নেতায় ঐক্য আর জনগণের ঐক্য এক কথা নয়। আমরা সাধারণ জনগণ বোকা, নেতাদের এই ধারণা ভুল। তারা বললেই- আমরা তাদের ভোট দিতে হবে, নেতাদের এই ধারণা ভুল। আমরা তাদের কথায় নাচি, এটা ভুল। আমরা সব সময় নেতাদের উপর নির্ভরশীল। এটা ভুল। আমরা সব সময় পঙ্গু- আমরা নেতাদের কাঁধে ভর দিয়ে চলি। নেতাদের এই ধারণা ভুল। আমরা জনগণ- নেতাদের সব কাজকর্ম দেখি। তাদের গড ফাদারগিরি দেখি। তাদের মাস্তান লালন পালন দেখি। আমরা চাইলে তাদের বসিয়ে দিতে পারি। ব্যালট বিপ্লব শব্দটি তাদের যেন মাথায় থাকে। এটা এমন এক দেশ- এখানে শুধু শাসক গোষ্ঠী কর্তৃত্ববাদী হননা, এখানে বিরোধী দলের নেতারাও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেন। এখানে যেমন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা দুর্নীতি করেন, গডফাদারগিরি করেন, তেমনি, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতাও দুর্নীতি গডফাদারগিরি করেন। এমন সব যুবককে দেখি, মনে হয় সে মহা সম্রাট। ধমক দেয়। যারা আজ ধোয়া তুলসি পাতা সেজে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করছে, তাদের আমলও আমরা দেখেছি। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে- সকলকে সোজা রাস্তায় আসতে হবে। আওয়ামী লীগের যায়গায় বিএনপিকে গদিতে বসানো সমস্যার সমাধান নয়। জনগণের উত্থান ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ কল্যাণকামী হবেনা, এমন কোন কথা নেই। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের যে সব নেতা জনগণের উপর দাপট দেখায়, সব কিছু খেয়ে ফেলতে চায়, আওয়ামী লীগ তাদের লাগাম টেনে ধরতে পারে।


ভাল ব্যবসার বিশ্ব র‌্যাংকিং-এ ১৯০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ খুব নীচে। বাংলাদেশের সিরিয়াল ১৭৬। রুয়ান্ডা এখন র‌্যাংকিং-এ ২৯ তম অবস্থানে রয়েছে। মাত্র ৬ বছর আগেও তার এই অবস্থান বা র‌্যাংকিং ছিল ১৩৭। এখন রুয়ান্ডায় একটি নতুন ব্যবসা নিবন্ধন অনলাইনে করা যায়, তার গোটা প্রক্রিয়া শেষ হয় মাত্র ২৪ ঘন্টায়। বাংলাদেশে এটা দীর্ঘসূত্রতার বিষয়। বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক বাধা আছে।বাংলাদেশকে আরো অনেক বেশী দক্ষ হতে হবে। এর জন্য একটি ওয়ান স্টপ উইন্ডো থাকতে হবে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসতে পারে। ভারতের চাইতেও বেশী সুযোগ আছে। আমলারা যেন মনে না করেন, তারাই এই দেশের মালিক। ব্যবসা খাতে আওয়ামী লীগের সাফল্য অনেক। আমি বলতে চাচ্ছি, আওয়ামী লীগ ভোটে জিততে পারলে আগামীতে উন্নয়নের নতুন জোয়ার সৃষ্টি করতে পারবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের শুধু বলতে হবে, তারা জনগণ- বান্ধব হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি সক্রিয় এবং সম্পূর্ণরূপে কার্যকর আছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান। বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্টের সাথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দুবার সংলাপ করেছেন। তারা সভা সমিতি করছেন। তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন। রাজনীতি প্রাণবন্ত। বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে। গণতন্ত্র হোঁচট খাচ্ছে- এটা বলা যাবে না। গণতন্ত্র রাতারাতি আসবেনা। এজন্য সময় দরকার। গণতন্ত্র চাইলে- আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা সহ সকল দলে আভ্যন্তরীন গণতন্ত্র থাকতে হবে। সকল নেতাকর্মীকে গণতান্ত্রিক মন-মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে। আমাদের সময় দরকার। সিঁড়ির পর সিড়ি ভেঙ্গে এগুতে হবে। আগামী নির্বাচনকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগ বলছে, তারা স্বচ্ছ নির্বাচন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জনগণ চাইলে আওয়ামী লীগ জিতবে। সকল রাজনৈতিক দলে কিছু নেতা আছে, যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নন। তেমন নেতা আওয়ামী লীগেও আছে। এরা মিড্ লেভেলে থাকে। এদের নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

রুয়ান্ডা নামক দেশটি গৃহযুদ্ধের ধ্বংস্ত্থপ থেকে কিভাবে এতটা উপরে উঠল? জার্মান রাষ্ট্রদূতকে (পিটার ফারেন হোল্টেজ) দৈনিক প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। পিটার ২০১২-১৬ সালে রুয়ান্ডাতে জার্মাান রাষ্ট্রদূত ছিলেন। উত্তরে পিটার বলেন, তাদের জনগণ বুঝতে পেরেছে যে, সমাজে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা রয়েছে, তা আগের মতো থাকতে পারেনা। তাই তারা একটি জাতীয় সংলাপে বসে। তারা একটি আপস রফায় পৌঁছায়। তারা একটি রিকনসিলিয়েশনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেরাই পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, মেলাবন্ধন তখনই সম্ভব হবে, যখন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা যায়। যথেষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকা দেশটি বুঝেছে, মেধাবী ও যোগ্য মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করাই হবে তাদের মূলধন। এখন আফ্রিকার সব থেকে নিরাপদ দেশ রুয়ান্ডা। ওদের রাজনীতিবিদগণ একত্রিত হয়েছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ২১/১১/১৮)। বাংলাদেশে তেমন প্রাকৃতিক সম্পদ নাই। এই দেশের মেধাবী তরুণ তরুণীরা ভাল উদ্যোক্তা হতে পারে। তারাই হতে পারে আমাদের আসল মূলধন। আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা ও রাজনীতির ধারা পাল্টাতে হবে। রুয়ান্ডার চাইতে বাংলাদেশ অনেক এডভান্স। রুয়ান্ডা পদ্মা নদীর মতো নদীর উপর সেতু বানাতে পারবে না। মহাকাশে সেটেলাইট পাঠাতে পারবে না। অন্য দেশের লক্ষ লক্ষ রিফিউজিকে ভাত খাওয়াতে পারবে না। জানুয়ারির এক তারিখে স্কুলের বাচ্চাদের হাতে ৪০ কোটি বই দিতে পারবে না। বাংলাদেশ অনেক অনেক এডভান্স। কিন্তু রুয়ান্ডা তার রাজনীতিতে যে সংষ্কার এনেছে- তা তাকে সামনে এগুতে সাহায্য করছে। জনগণই দেশের মালিক- এই চিন্তাটা বাংলাদেশের বৃহৎ দলের নেতারা ভুলে যান। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, যে দলই হোক, গনতান্ত্রিক পরিবেশে থেকে সৎ না হয়ে, তাদের মধ্য সারির কোন নেতা দূর্নীতি করলে, এখন মানুষ তাকে কেন ভোট দিবে?

“শেখ হাসিনা কর্তৃত্ববাদী শাসন চালাচ্ছেন গত” দশ বছর ধরে, এ ধরনের পারস্যুয়েশন বিএনপির লবিষ্টরা দেশে বিদেশে তাদের নেগেটিভ পলিটিক্যাল এডভারটাইজমেন্টের অংশ হিসেবে চালাচ্ছেন। চালাবেন, এটা আমাদের বুঝতে হবে। আওয়ামী লীগে যারা গডফাদারগিরি করে তাদের সতর্ক হতে হবে। ভোটে জিততে হলে জনগণের ও ভোটারের সহানুভূতি লাগবে। কিন্তু তারেক জিয়া, ড. কামাল, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব ক্ষমতায় এলে শাসন ব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদী হবেনা- তার নিশ্চয়তা কি? আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে তারা কর্তৃত্ববাদ বহাল রাখবে একথা বিএনপিকে কে বলল? আওয়ামী লীগ জনগনকে একথা বোঝাতে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি যে, আবার ক্ষমতায় এলে তারা দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। এমন কি নিজের দলের নেতাও যদি সে হয়।

পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীরা কি বলে? তারা যুক্তি দেয়, মুসলিম দেশগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা করা কঠিন। কিন্তু মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া একে মিথ্যা প্রমানিত করেছে। এই দুটি দেশ এখন সম্ভবত: বিশ্বের সব চাইতে প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ। ৬০ বছরের মাথায় মালয়েশিয়ায় গত মে মাসে তুমুল পরিবর্তন ঘটে গেছে। দেশটিতে জবাবদিহিতা, উন্মুক্ত বাক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দরজা খুলে গেছে। মালয়েশিয়া সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে পুনর্গঠন করছে। গত মে মাসে কর্তৃত্ববাদী নাজিব সরকারের পতনের পর তার ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত করা হচ্ছে। মহাথির ১৯৮১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময় বিরোধীদের ভাষায়, একনায়ক হিসেবে দেশ চালিয়েছেন। সেই মহাথির গত নির্বাচনে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে এসেছেন। তার সমালোচনা করায় এক ব্যক্তিকে আটক করার পর মহাথির টুইট বার্তায় বলেছেন, তার সমালোচনা করায় কাউকে আটকে রাখা যাবে না। মহাথির কর্তৃত্ববাদী চরিত্র থেকে বেরিয়ে এসে উদার নেতা হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগ একটি গণতন্ত্রমনা দল। তার পক্ষে উদার হওয়া কঠিন কাজ নয়। আমি মনে করি, শেখ হাসিনার ভবিষ্যত সরকার উদার হবে।

আওয়ামী লীগ- ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানের সাথে সাথে সংলাপে বসেছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেছে। সকল বিরোধী দল নির্বাচনে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ চাইলেও নির্বাচন এক তরফা করতে পারবে না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক- এতে বিরোধীদেরও দায়িত্ব আছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতলে পরবর্তী আওয়ামী সরকার পুরোপুরি গণতন্ত্রমনা হবে- এটা আমরা আশা করব। গনতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা সকলকে বুঝতে হবে। মানুষ মূর্তি নয় যে সে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকবে। আপনি যা বলেন, তা শুনবে। মানুষ কথা বলবে। প্রতিবাদ করবে। আপনাকে বুঝতে হবে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। গণতন্ত্রই শেষ ভরসা। (দৈনিক আজাদী থেকে সংগৃহীত)

লেখক : সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ
অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

এই বিভাগের আরো সংবাদ