নির্বাচনী ইশতেহার : প্রতিফলন হোক তরুণদের কর্মে প্রবেশাধিকার

  খন রঞ্জন রায়

২৪ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১০ | অনলাইন সংস্করণ

৩০  ডিসেম্বর বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা জনগণের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো প্রণয়নের কাজ চলছে। এ অবস্থায় দেশের ১৬ কোটি জনতার দাবি তুলে ধরার জন্য আমাদের এ লেখা। আগামী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ উন্নয়নের ধারায় আগুয়ান থাকবে, না পেছনে হটবে। নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পতাকা উড্ডীন থাকবে না সংঘাত হানাহানির পথে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সঙ্গী করে দেশ চলবে না পশ্চাৎপদ চেতনার উন্মেষ ঘটবে। 

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১০ কোটি ৪৪ লাখ। এর মধ্যে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ২০ লাখ, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ তরুণ ভোটাররা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বস্তুত এবারের নির্বাচন হবে তারুণ্যনির্ভর। তরুণ ভোটাররা নির্বাচনী ‘ট্রাম্প কার্ডের’ ভূমিকা পালন করবে। এ তরুণদের বিরাট একটা অংশ বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারোর হিসাবে, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার, বেসরকারি হিসাবে তা ৪ কোটি। 

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রকৃত কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার (যুগান্তর, ২৮ মার্চ ২০১৮)। সংবিধান প্রদত্ত মানুষের অতীব প্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকারগুলো হল অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। কিন্তু এই বেকার যুবসমাজের কাছে এসবের পাশাপাশি যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মের নিশ্চয়তাও জরুরি মৌলিক অধিকারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির সময় তরুণদের কথা মাথায় রাখতে হবে। তাদের যথাযথ কর্মের নিশ্চয়তার ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তরুণদের কর্মক্ষম হওয়ার ডিপ্লোমা শিক্ষা নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। 

তরুণদের বলা হয়ে থাকে দোদুল্যমান ভোটার। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট রিজার্ভ ভোট আছে। কিন্তু সোয়া দুই কোটি নতুন ভোটারই হবে ‘ফ্যাক্টর ভোট’। যুব সম্প্রদায় যে দলকে ভোট দেবে ওই রাজনৈতিক দলই এগিয়ে যাবে। সমাজের সব স্তরের যেমনÑ নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও তরুণসমাজের কথা মাথায় রেখে ইশতেহার তৈরির জন্যই আমাদের কলম হাতে নেয়া। যুববান্ধব নির্বাচনী ইশতেহার এবং তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারই হতে পারে কোনো দলের জনপ্রিয়তার পাল্লা ভারি করার হাতিয়ার। 

শিক্ষা ক্ষেত্রেকে নিয়ে সুস্পষ্ট করে বলা যায় আমাদের এখন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে নিঃসন্দেহে। ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সহজেই কোনো একটি নির্দিষ্ট পেশায় ঢুকে পড়ার ভালো সুযোগ রয়েছে। নয়তো এই শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশের জন্য বোঝা হতেই থাকবে। উন্নয়নের পথে ধাবিত হওয়া অর্থনীতি খেই হারাবে। বেকার জনগোষ্ঠী হতাশায় নিমজ্জিত হবে। তাদরে হাতেই সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার তাগিদে এই বেকাররা বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়বে। মাদকাসক্তি টাকার বিনিময়ে খুন-খারাবি কিংবা বিভিন্ন নীতিবিবর্জিত কাজ বাড়তে থাকবে। তাই ডিপ্লোমাকে নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। নয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদেরকেই এ দায় নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষাকে গুণগত মানে উন্নীত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষিত/অর্ধশিক্ষিত বেকারের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকরির উপযোগী করতে হবে। 

সর্বোপরি বেকারত্ব কমাতে দরকার শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। এক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাবনা প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি সরকারি/বেসরকারিভাবে কৃষি, ভেটেরিনারি, লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেকনোলজি, নার্সিং, ইনস্টিটিউট অব প্রাইমারি টিসার্স, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ চিন্তা। আমাদের ডিপ্লোমা শিক্ষার ক্ষেত্রে উপনিবেশিক আমলে গড়া ডিপ্লোমা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী ৭টি প্রতিষ্ঠান যথা কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, ইউনানি ও আয়ুর্বেদীয় বোর্ড, হোমিওপ্যাথিক বোর্ড, নার্সিং কাউন্সিল, ফার্মেসি কাউন্সিল, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী ডিপ্লোমা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। 

মতভিন্নতা আর নিয়ন্ত্রণ বৈষম্যের কারণে জনগুরুত্বের এই শিক্ষা চাহিদামাফিক কোর্স কারিকুলাম ও বিষয় বৈচিত্র হচ্ছে না। বৈষম্যের কারষে প্রযুক্তিবান্ধব উৎপাদনমুখী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী আমদানী করতে হয়। জাতির এই লজ্জা গোঁছাতে পারে ডিপ্লোমা শিক্ষার স্বাধীন স্বতন্ত্র বোর্ড। যুব সমাজের আকাক্সক্ষা নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়টি স্পষ্ট হোক। 

লেখক : মহাসচিব, ডিপ্লোমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ

 [email protected]

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food