বহমান সময়

  ফজলুল হক

১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

(এক)
স্কুল জীবনে গোয়েন্দা উপন্যাস পড়তে ভাল লাগত। আর্থার কোনান ডয়েলের শার্লক হোম্স প্রিয় ছিল। শার্লক হোমসের তদন্তের ধরন ছিল আলাদা। কাহিনী পড়ার সময় আপনি বুঝতে পারবেন না, আসল খুনী কে? হোম্স বলে না দেয়া পর্যন্ত আসল অপরাধী সম্পর্কে আন্দাজ করাও কঠিন। আগাথা ক্রিস্টির- এরকুল পোয়ারো, উনার তদন্তের ধরন ভিন্ন রকম। পাঠককে উনি সাসপেন্সের মধ্যে রাখেন। সে সময়কার গোয়েন্দা সিরিজ- বাসী হয়ে গেছে। এখন এনিমেশন, রবোটিক্স, এআই বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার) যুগ। প্রযুক্তির বদৌলতে ক্রাইম ইনভেষ্টিগেশন ক্রিয়েটিভিটির সাথে হয়। আজকের ক্রাইম স্টোরী- আগের তুলনায় অনেক ফার্স্ট। চেষ্টারটন, এলেরি কুইন, রেইমন্ড চ্যান্ডলার- এসব নাম বলে আমি পুরোনো পাঠকের স্মৃতি ভারাক্রান্ত করতে চাইনা। অনেক পাঠক এসব গোয়েন্দা বই ও লেখক সম্পর্কে জানেন। আমেরিকান টেলিভিশন সিরিজ “কলম্বো” সম্পর্কে হয়ত জানেন। তার প্রধান চরিত্র হলো “লেফটেনেন্ট কলম্বো।” তিনি লস্ এঞ্জেল্স পুলিশ বিভাগের একজন নর হত্যা তদন্তকারী গোয়েন্দা। ক্রিস্টির এরকুল পোয়ারের তদন্তের ধরন হচ্ছে, ক্রিস্টি পাঠককে- সন্দেহের তালিকায় ফেলে। যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি আসল অপরাধীকে তথ্য প্রমাণসহ ধরে ফেলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত পাঠক কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেননা।
ডয়েল বা ক্রিস্টির তদন্তের ধারা- আজকের ক্রাইম লেখকগণ অনুসরণ করবেন, এমন কোন কথা নাই। গোয়েন্দা- লেফটেনেন্ট কলম্বো- পুরোনো তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেননা। অনেক ক্ষেত্রে আমরা জানি- আসল হত্যাকারী ওই কেসে কে। কিন্তু আমাদের হাতে কোন প্রমাণ থাকেনা। এযুগে জঙ্গীরা মানুষ হত্যা করে। ধর্মীয় উগ্রবাদের চাপ সম্পর্কে আমাদের জানা আছে। রাজা কিংবা ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ ও হত্যার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। নর হত্যার তদন্ত এখন কঠিন ব্যাপার। ভারতীয় টিভি চ্যানেল, (সনি-৮) ক্রাইম পেট্রল, সিআইডি, আদালত নামে ভিন্ন ভিন্ন গোয়েন্দা সিনেমা দেখায়। আমাদের দেশে অনেকে ভারতীয় চ্যানেল দেখে- তাই বলছি। “আদালত” সিরিয়ালে- অপরাধী কে- তা দর্শকরা জানে। অপরাধী নিজে বলে যে- সে খুন করেছে। কিন্তু আদালতে তার বিরুদ্ধে সঠিক প্রমাণ উপস্থাপন করা কঠিন হয়। এরা আমেরিকান গোয়েন্দা সিরিয়াল “কলম্বোকে” ফলো করে কিনা, কে জানে? লে: কলম্বোর তদন্তের ধরন হলো, তিনি এবং আমরা দর্শকেরা সবাই জানি- আসল হত্যাকারী কে। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাকে ধরা যায়না। তখন “কলম্বো” হত্যাকারীকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করে, তার বিরুদ্ধে একের পর এক তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলেন যে শেষ পর্যন্ত হত্যাকারীকে তার অপরাধের কথা স্বীকার করতে হয়।
সৌদি সাংবাদিক জামাল খোসেগী হত্যাকান্ডের ব্যাপারটি ভেবে দেখুন। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগীকে অমানবিকভাবে হত্যা করা হয়। আমরা সবাই জানি সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সৌদি আরব তা স্বীকার করছেনা। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এটা নৃশংস হত্যাকান্ড। এটা জঘন্য। এটা অনেকটা গল্প সিনেমার সেই গোয়েন্দা চরিত্র গুলোকে ফিরিয়ে আনার মতো ব্যাপার ঘটছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান, হত্যাকারীকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করেছেন। বিদ্রুপ করেছেন। সম্ভাব্য হত্যাকারীকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন। কেন খাসোগীকে এমন নৃশংস উপায়ে হত্যা করা হলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে আপনি হত্যাকারীর মোটিভ সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। হামিদ দাবাসি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানিয়ান স্টাডিজ এন্ড কমপারেটিভ লিটারাচারের অধ্যাপক, তিনি খাসোগী হত্যাকান্ড সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যমে লেখা এক নিবন্ধে বলেছেন, সবাই জানে সৌদি আরবে আটক ১৮ জন সন্দেহ ভাজনের মধ্যে হত্যাকারীরা আছেন। তারা কারো না কারো নির্দেশে তুরস্কে এসে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। এটাও জানা যায়, সৌদি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে। কিন্তু এই জানা দিয়ে কিছুই হবেনা। উপযুক্ত প্রমাণ লাগবে। দৈনিক প্রথম আলো (১১/১১/১৮) হামিদ দাবাসির প্রবন্ধের অনুবাদ ছেপেছে। প্রবন্ধটি পাঠ করে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, ধর্মীয় মর্যাদা ও সম্মানের স্থান হিসেবে আমার কাছে সৌদি আরব অনেক পবিত্র। সেখানে কেউ এ ধরনের হত্যাকান্ডে জড়িত থাকলে আমাদের ধর্মের যে মহৎ দিক তা কি ক্ষুন্ন হতে পারে? যদি সৌদি রাজপরিবারের যোগ সাজস প্রমাণিত হয়? তারা তো আমাদের ধর্মের হেফাজতকারী হওয়ার কথা ছিল? আমাদের পবিত্র ধর্মের নির্দেশে যারা পথ চলবে, তারা মানুষ হত্যা করছে?
(দুই)
ধর্মকে কেউ রাজত্ব রক্ষায় ব্যবহার করতে পারে? ধর্মকে কেন্দ্র করে চরম উগ্রবাদী চিন্তা চেতনা তৈরি হতে পারে? পাকিস্তানে আসিয়া বিবি নামে মধ্য বয়সী এক নারী ধর্ম অবমাননা করার দায়ে মৃত্যূদন্ডে দন্ডিত হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট আসিয়াকে খালাস দেওয়ায়, তেহরিক-ই-লাব্বাইক সমর্থকেরা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করেছেন। এতে পুরো পাকিস্তানে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের কট্টর মতাদর্শ আমরা দেখতে পাচ্ছি। পাকিস্তানি সমাজের ক্রম বর্ধমান বিভক্তি দৃশ্যপটে ভেসে উঠছে। কট্টরপন্থীদের ব্যাপারে পাকিস্তান সরকার এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি, যা দেখে বোঝা যাবে, আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, উত্তেজনা সামাল দেয়ার সক্ষমতা পাকিস্তানের ইমরান সরকারের আছে। ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার তাদের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার উপর জোর দিচ্ছে বলে- মনে হয়না। তবে অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির ব্যাপারে তারা সক্রিয়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ খালি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শাহরিয়ার আফ্রিদিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব ইমরান নিজের হাতে রেখেছেন। ২০১৪ সাল থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা কমতির দিকে। তবে অনেকে মনে করেন, পাকিস্তানে উগ্র মতাদর্শ আবার জোট পাকাতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের জন্য এটা বড় হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে।
পেশোয়ারে স্কুলে হামলা হয়েছিল। সরকার সে সন্ত্রাস কঠোরভাবে দমন করেছিল। পাকিস্তান সরকার এখনো সে কঠোর মনোভাব থেকে সরে আসেনি। কিন্তু পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে নিয়ে মাথা ব্যথা আছে। তাদের নাগরিকেরা সরাসরি জঙ্গী তৎপরতায় জড়িত হননা। কিন্তু তারা মনে প্রাণে কট্টর মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাদের ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারকে সতর্ক ভাবে এগুতে হয়। ইমরান খানের প্রতি ইসলামপন্থীদের অনেকের সমর্থন আছে। ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি ইমরানের শ্রদ্ধা অন্য পাক নেতাদের তুলনায় বেশী বলে অনেক পাকিস্তানির ধারণা। একারণে ইমরানের পক্ষে কট্টরবাদীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে।
আপাতত আসিয়া বিবি ছাড়া পেয়েছেন পাকিস্তানের কারাগার থেকে। ৯ বছর তাকে মৃত্যূদন্ডাদেশ বয়ে বেড়াতে হয়েছে। মুক্তি পেয়েও মৃত্যূর কালো ছায়া তাকে তাড়া করছে। পাকিস্তানে দাবি উঠেছে, তাকে ফাঁসি দিতে হবে। শুধু তাকে ফাঁসি দিলে হবেনা, যে বিচারকেরা আসিয়াকে মুক্তি দিয়েছেন তাদের ফাঁসি দিতে হবে। সে দেশের সেনাবাহিনী প্রধানেরও ফাঁসি চাই। কারণ তিনি আহমদিয়া। ৪৭ বছর বয়সী আসিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রামের কুয়া থেকে পানি খেতে গিয়ে স্থানীয় নারীদের সাথে বচসার সময় তিনি মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এর নামে কুৎসা রটনা করেছেন। আসিয়া খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী। সে নিরক্ষর, গরীব গ্রাম্য নারী। স্থানীয় এক মৌলানার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৯ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর তার পক্ষে কথা বলেছিলেন, পাঞ্জাবের গভর্নর। ২০১১ সালে গভর্নর সালমান তাসির তার দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন। দেহরক্ষী মুমতাজ কাদরীকে ফাঁসি দেয়া হয়। তবে গভর্নরকে খুন করে তিনি (মুমতাজ) রাতারাতি পাকিস্তানিদের চোখে সম্মানিত ধার্মিক পীর হয়ে যান। মুমতাজ কাদরী- খুন করে এতটা পুজনীয় হয়ে উঠেন যে, আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা উঠলে, সে মামলা লড়তে সম্মত হবেন, এমন কোনো আইনজীবী পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠে। (হাসান ফেরদৌস/দৈনিক প্রথম আলো/ ১৪/১১/১৮)। পাকিস্তানের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিও এই কারণে নিহত হন। পাকিস্তানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ব্যপ্তি এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থা কোন অবস্থায় আছে, এই আলোচনা থেকে তা পাঠক, অনুমান করতে পারবেন। ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই ছিল। বর্তমানে পাকিস্তানে তেহরিক-ই- লাব্বায়েক দলের প্রধান আফজাল কাদরী- আসিয়াকে মুক্তিদানকারী বিচারক, আসিয়ার উকিল, এমনকি ইমরান খানকে দেখে নেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। আমরা ৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের নাগরিক ছিলাম। আমরা নিজ চোখে দেখেছি, মৌলবাদীরা যখন ফুঁসে উঠে, তখন পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা নিজেদের সামলাতে বরাবরই আপসের পথ বেছে নেন। ১৯৪৯ সালে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি তুলে মাওলানা মওদুদীর নেতৃত্বে সেখানে যে সহিংসতার সৃষ্টি হয়, তা সামলাতে লাহোরে সামরিক আইন জারী করতে হয়েছিল। সে ধাক্কায় মৌলবাদীদের হাতে রাখতে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে “অবজেকটিভ রেজুলের্ভুশন অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সেখানে অন্য যে কোন নীতির উর্ধ্বে ধর্মকে স্থান দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান এখন আরো বেশী মাত্রায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দেশ। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের দেউলিয়াপনা থেকে আমাদের শিখতে হবে। আমাদের দেশের রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব কিভাবে বাড়ছে, তা আমাদের দেখতে হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান বাঁচতে পারেননি। তাকেও হত্যা করা হয়েছিল। এমন অনেক হত্যাকান্ড আছে যা গোয়েন্দা সিরিজে স্থান পায়না। লেফটেনেন্ট কলম্বো তার তদন্ত করে না।
(তিন)
পাকিস্তানের কট্টরপন্থী মনোভাবের রাজনৈতিক নেতাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বামপন্থার চিন্তা ভাবনার লালনকে সমর্থন করি ষাটের দশক থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রগতিশীল রাজনীতির প্লাটফরম তৈরির জন্য কাজ শুরু করেন। আমরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ উনাদের মতো নেতাদের স্মরণ করি, কারণ উনারাসহ আরো কিছু প্রগতিশীল নেতা কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন কট্টরপন্থার অবস্থান এবং সমাজতান্ত্রিক চিন্তার দোদুল্যমানতার কারণে আমরা যারা ষাটের দশকে প্রগতিশীল চিন্তা লালন করেছি, আমাদের কাছে রাজনীতির গতি প্রকৃতি জটিল বলে মনে হয়। মনে হয়, প্রগতিশীল ও বামপন্থীরা পিছু হটছে। রাজনীতিবিদরা যদি নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ দেখে, তারা যদি আপসকারী হন- তাহলে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার আমাদের দেশেও নিজের পথ খুঁজবে। সারা বিশ্বের গতি প্রকৃতিও বদলে যাচ্ছে।
আমাদের দেশে বামপন্থীদের ভবিষ্যত কি? আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের সাথে সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শের নেতারা কার্যকর সম্পর্ক রাখেন? তারা কি কখনো ভোটারদের বলেছেন, দেশের ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য তাদের প্রয়োজন আছে? তারা উগ্রপন্থার বিপরীতে র‌্যাশনাল সমাজ নির্মাণে সক্ষম? তাদের অনেকে তো বিএনপি জামায়াতের সাথে জোট বেঁধেছে?
আমেরিকার রাজনীতিতে এখন সমাজতন্ত্রের ফিরে আসা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প সরকার বলছে, সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় এলে আমেরিকার রাজকোষ খালি হয়ে যাবে। আমেরিকায় সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, সম্পূর্ণ সরকারি খরচে শিক্ষাদানের সুযোগ তৈরি করা, অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা ও তাদের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা সংস্থা ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট (আই সি ই) পুরোপুরি বিলুপ্ত করার বিষয়টি আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জোরালো ভাবে আলোচিত হচ্ছিল। সমাজতন্ত্র বিরোধীরা বেশ তৎপর। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়া এবং সেদিক থেকে জনগণকে মুখ ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা এখন সর্বত্র চলছে। পাকিস্তানের অবস্থা দেখুন, ধর্মীয় উগ্রবাদের কারণে দেশটির কি অবস্থা হয়েছে। আমাদের প্রগতিশীল, উদারপন্থী, বামপন্থী রাজনৈতিক নেতারা, আমাদের গণতন্ত্রপন্থী নেতারা এমপি হওয়ার জন্য পাগলের মতো ছুটছেন (সবাই নন), কখনো বিএনপি, কখনো আওয়ামী লীগের পেছনে। পাকিস্তানের দিকে তাকান, উগ্রবাদকে রাজনৈতিক নেতারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। উগ্রবাদ- রাজনৈতিক ট্রেনের চলার গতি রুদ্ধ করে। ট্রেন একবার লাইনচ্যুত হলে, তারপর কি হবে, সে অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। আপনাদেরও আছে। (দৈনিক আজাদী থেকে নেয়া)

লেখক : সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food