বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৪:২৪ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৫:০৯

কমল চৌধুরী, ১৮ আগস্ট, এবিনিউজ : বিশ্বের মানচিত্রে কোনো জাতি একদিনে তাদের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা লাভ করেনি। বাংলাদেশও একদিনে স্বাধীনতা লাভ করেনি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সূচিত হলেও মূলত ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার উদ্ভব হয়েছে। প্রতিটি জাতির একজন জনক থাকে। বাংলাদেশের তথা বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষা আন্দোলনের পূর্বে ১৯৪৬ সালেই বঙ্গবন্ধু প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেন। তারপর ভাষা আন্দোলন, ৬-দফা, ’৭০-এর নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু প্রতিটি আন্দোলনের সাথেই সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা।

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সখেদে বলেছিলেন, বাঙালির কোনো ইতিহাস নেই। এই খেদ মনস্তাপ ও বেদনা কেবল বঙ্কিমচন্দ্রের একারই ছিল না, ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের, নেতাজী সুভাষ বসুর, ছিল কোটি বাঙালির। বাঙালির শত শত বর্ষের পুঞ্জিভূত কালিমা, গ্লানি ও অপবাদের অপনোদন করতে আবির্ভূত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি বাংলাভাষীদের জন্য তিনি সৃষ্টি করলেন ইতিহাস। সে ইতিহাস একাধারে অনুপম ও বীরত্বব্যঞ্জক। উপহার দিলেন স্বতন্ত্র ও স্বাধীন আবাসভূমি। সবুজের প্রেক্ষাপটে উদীয়মান রক্তিম সূর্য খচিত পতাকা। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। বিশ^ সভায় পরিচিতি। বাঙালি, বাংলাদেশ একই সূত্রে গ্রথিত। অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য। শ্রেষ্ঠতম বিশ^নেতৃত্বের পঙ্ক্তিভুক্ত হলো তার নাম। উচ্চারিত হলো জর্জ ওয়াশিংটন, লেলিন, মহাত্মা গান্ধী, মাও সে তুং, হো চি মিন, নেলসল ম্যান্ডেলা প্রমুখের নামের সাথে। বঙ্গবন্ধু আমাদের গৌরব, আমাদের অহঙ্কার।

প্রতিবিল্পবী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে কখনোই মেনে নিতে পারেনি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বঙ্গবন্ধুকে তারা নিশ্চিহ্ন করতে উদ্যত হয়েছিল দৈহিকভাবে। মুছে ফেলতে চেয়েছিল কোটি কোটি মানুষের হৃদয় থেকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব ও অমর। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন ৫৫ হাজার বর্গমাইলের সবুজ শ্যামল এই গাঙ্গের ব-দ্বীপে। বাংলাদেশের মতোই শ^াশত চিরায়ত ও দেদীপ্য বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব। বাংলাদেশকে মুছে ফেলতে পারলেও বঙ্গবন্ধকে মুছে ফেলা কিছুতেই সম্ভব নয়। এই সত্য বিস্মৃত হয়ে অপগা-ের মতো যারা ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা বাস্তবিকই করুণার পাত্র।

বাঙালি জাতিসত্ত্বার বিকাশ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন প্রথম দেখেন ১৯৪৬ সালে। পাকিস্তান যে বাঙালিদের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন উপনিবেশবাদী শাসন হবেÑ সেটা তিনি পাকিস্তান হওয়ার আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। পাকিস্তান হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। আর ১৯৪৬ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে কয়েকজন সমমনা বন্ধু মিলে বঙ্গবন্ধু একদিন সিনেমা দেখতে ঢোকেন শ্যাম বাজারের একটি প্রেক্ষাগৃহে। উদ্দেশ্য সিনেমা দেখা নয়। সিনেমা হলের অন্ধকারে বসে বাঙালি জাতির চেতনার অস্তিত্ব রক্ষার পন্থা হিসেবে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি, যা পরিণামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়ক হবে। পাকিস্তান হওয়ার পর কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭, অর্থাৎ পাকিস্তানের জন্মের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক যুবলীগ গঠন করেন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠন করেন মুসলিম ছাত্রলীগ, আজ যা ছাত্রলীগ নামে পরিচিত। এই ছাত্রলীগ স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৪৯ সালের ২৪ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। তখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এসবই ঐতিহাসিক সত্য। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ও নেতৃত্বে অনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার পথে ঐতিহাসিক পদক্ষেপসমূহ-

১ থেকে ২৬ মার্চ, ১৯৭০-এ প্রধান প্রধান ঘটনাপঞ্জি।
১ মার্চ ১৯৭১ : বঙ্গবন্ধুর পরামর্শক্রমে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়।
২ মার্চ ১৯৭১ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে বঙ্গবন্ধুর নির্দেক্রমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
৩ মার্চ ১৯৭১ : পল্টন ময়দানে ছাত্র সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন এবং স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়।
৭ মার্চ ১৯৭১ : রমনা ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, যা পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা। লক্ষণীয় বঙ্গবন্ধুর উক্তি : “রক্ত যখন দিয়েছিÑ রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ” আশু মুক্তিযুদ্ধের ইঙ্গিতবহ।
১৫ মার্চ ১৯৭১ : বঙ্গবন্ধুর প্যারালাল সরকার গঠন। ৩৫-দফা রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কিত নির্দেশ। সেনা ছাউনিতে যাতে রসদ যেতে না পারে, সোনা চলাচল যাতে না হয় সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছাত্র ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে চেক পয়েন্ট স্থাপন। জেনারেল ওসমানীকে বাঙালি সেনা অফিসারের সাথে যোগাযোগের দায়িত্ব প্রদান করা হয় এবং ছাত্র ও আনসারদের ট্রেনিং শুরু হয়।
১৯ মার্চ ১৯৭১ : ছাত্রলীগের নিউক্লিয়াসের নেতৃবৃন্দদের ভারতে গিয়ে স্বাধীনতার প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২৩ মার্চ ১৯৭১ : সারাদেশে ‘পাকিস্তান দিবস’ উপলক্ষে পাকিস্তানি পতাকার বদলে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এমনকি বিদেশি দুতাবাসগুলোও বাংলাদেশি পতাকা উত্তোলন করে।
২৫ মার্চ ১৯৭১ : সন্ধ্যায় সম্ভাব্য পাক-সামরিক অভিযানের আভাস পেয়ে দলীয় কর্মীদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু করার নির্দেশ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিববাদের-লেখক খোন্দকার মুহম্মদ ইলিয়াসকে বঙ্গবন্ধুর উক্তি ‘আপনারা আশ্রয় পাবেন অস্ত্র পাবেন। সে ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি।’ সে রাতে সর্বশেষ যিনি অবস্থান করেন সেই ওসমানীকে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক একটি গোপন দলিল প্রদান করা হয়। যেভাবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন : হাজী গোলাম মোর্শেদ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একজন ঘনিষ্ঠ সহচর। বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তার সাথে ছিলেন এবং তাকে ও পাকবাহিনী বঙ্গবন্ধুর সাথে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে তিনি বর্ণনা করেছেন, কীভাবে বঙ্গবন্ধু পাকবাহিনীর হাতে গ্রেফতার পূর্বমূহুর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত বারোটা পার হয়ে গেলে অর্থাৎ, ২৬ মার্চ ’৭১-এর প্রায় প্রহরে বঙ্গবন্ধু সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফের এক বন্ধুর মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা ইথার তরঙ্গে ছেড়ে দেন। এর পরপরই বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে টেলিফোন বেজে ওঠে। মোর্শেদ টেলিফোন ধরেন। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাবাণী যথারীতি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখন বেতার সেট নিয়ে কি করবোÑ তা বঙ্গবন্ধুর কাছে জানা দরকার। মোর্শেদ বঙ্গবন্ধুকে এ কথা জানালে তিনি টেলিফোনকারীদেরকে বেতার সেট নষ্ট করে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তার কিছু পরেই রাত একটার দিকে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। সেরাতেই ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী পৌঁছানো হয় চট্টগ্রামের তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রেসিডেন্ট জুহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে। তিনি উক্ত ঘোষণার সাইক্লোস্টার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করেন।

তখন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নানই কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেন। ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় এমএ হান্নান সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী কালুরঘাটস্থ ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ থেকে তিনবার পাঠ করেন। ঘোষণাটি ইংরেজিতে থাকায় অধ্যাপক আবুল কাশেম সন্দ্বীপ ঘোষণাটি বাংলায় অনুবাদ করেন। পরদিন ২৭ মার্চ একই বেতার কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে দ্বিতীয় দফায় স্বাধীনতার বাণী পাঠ করেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। ইংরেজিতে প্রদত্ত Announcement তিনি পড়লেন-
“On behalf of our great leader the supreme of commander Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman, We hereby proclaim the Independence of Bangladesh and that the government headed by Sheikh Mujibur Rahman has already been formed. It is further proclaimed that Sheikh Mujibur Rahman is the sole Leader of the elected representatives of 75 million people of Bangladesh and the government headed by him is the only Legitimate government of the people of the Independent soverign state of Bangladesh.”

[বঙ্গানুবাদ : “আমাদের মহান নেতা বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীতনা লাভ করলাম। ইতিমধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠন করা হয়েছে। এ মর্মে আরও ঘোষণা করা হচ্ছে যে, শেখ মুজিবুর রহমানই হচ্ছেন বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি জনগোষ্ঠীর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একমাত্র নেতা এবং তারই নেতৃত্বে গঠিত সরকার হচ্ছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জনগণের একমাত্র আইনসম্মত সরকার।”]

সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঘোষক ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সংবিধানের আক্ষরিক অর্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ও মর্মার্থে জাতির জনক। স্বাধীনতার ঘোষকের কথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কেউ তোলেন নি। তার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর কেউ কেউ তুলেছেনÑ তবে তির্যকভাবে। সুতরাং এ ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর হওয়া আবশ্যক। সংবিধান ঠিকভাবে পড়লে এই বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ থাকে না।

সাংবিধানিকভাবে সব সংশোধনের পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্থান-ঢাকা, কাল-২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। আমি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক আলোচনার মধ্যে আমার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখব। তবে তার আগে একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে বলতে হয়, বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে নেতাজী সুভাষ বসু যখন কুখ্যাত হলওয়েল স্তম্ভ অপসারণের আন্দোলন করেন, সেই আন্দোলনের কর্মী হিসেবে শেখ মুজিব ছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনেও জড়িত ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সাল থেকে বাংলাভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সক্রিয়ভাবে। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্টের কর্মী, ১৯৫৭ সালে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রীর পদ বরণ, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন প্রবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ১৯৬৬ সালে তার বিখ্যাত পূর্ব-পাকিস্তানে স্বাধিকার ৬-দফা দাবি, আগরতলা যড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবকে জড়ানোর প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, উক্ত মামলা থেকে মুক্তি ও জনসমাবেশে তাকে বঙ্গবন্ধু অভিধা প্রদান এবং ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম ও শেষ নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বিষয়ে কথা মনে রাখতে হবে। পরবর্তী ঘটনার বিবরণ আমরা মুজিবনগরে ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা বা Proclamation of Indenpendence থেকে পাব, যা আজকে সংবিধানের অঙ্গ হয়ে গেছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ডাক “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” এবং তার পরিণামে সার্বিক অসহযোগ ও হরতালের উল্লেখ করতে হয়।

এবার সংবিধানে বর্তমান আকারে যা আছে তাই দেখা যাক, অর্থাৎ পঞ্চম সংশোধনীর পরেও যা দাঁড়িয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম পরিচ্ছেদ আছে।

আমরা বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।

এখানে স্বাধীনতার ঘোষক কোনো একজন ব্যক্তি নন বরং আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, আবার ঘোষণার তারিখ ২৭ মার্চ নয়, ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। এর অর্থ দাঁড়ায় সংবিধানে এখানে মুজিবনগরে প্রকাশিত ঘোষণাপত্রকে উল্লেখ করা হচ্ছে এবং এই ঘোষণার মূল বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাই মুজিবনগরে গৃহীত ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের প্রাসঙ্গিক অংশ তুলে ধরতে হয়। প্রথমে মূল ইংরেজি, পরে তার অনুবাদ।
 

ঘোষণাপত্রের প্রাসঙ্গিক অংশ :

THE PROCLAMATION OF INDEPENDENCE
Mujibnagar, Bangladesh
Dated 10th day of April, 1971

WHEREAS Free elections were held in Bangladesh from 7th December 1970 to 17th January, 1971 to elect representatives for the purpose of framing a Constitution. And whereas at these elections the People of Bangladesh elected 167 our of 169 representatives belonging to Awami league.
AND WHEREAS General Uahya Khan Summoned the elected representatives of the people to meet on the 3rd March, 1971, for the purpose of framing of Constitution.
AND WHEREAS the Assembly so summoned was arbitrarily and illegally postponed for an indefinite period.
AND WHEREAS instead of fulfilling their Promise and while still conferring with the representatives of the people of Bangladesh, Pakistan authorities declared an unjust and treacherous war.
AND WHEREAS in the facts and circumstances of such treacherous conduct Banga Bandhu Sheikh Mujibrur Rahman the undisputed leader of 75 million to people of Bangladesh, in due fulfilment of the legitimate right of self determination of the people of Bangladesh, duly made a declaration of inddependence at Dhaka on March 26, 1971, and urged the people of Bangladesh to defend the honour and integrity of Bangladesh.
AND WHEREAS in the coduct of a ruthless and savage war pakistani authorities committed and are still continuously committing numerous acts of genocide and unprecedented tortures, amongst others on the civilian and unarmed people of Bangladesh.
AND WHEREAS the Pakistan Government by levying an unjust war and committing Genocide and by other repressive measures made it impossible for the elected representatives of the people of Bangladesh to meet and frame a Constitution, and give to themselves a Government.
AND WHEREAS the people of Bangladesh by their heroism, bravery and revolutionary fervour have established effective control over the territories of Bangladesh.
We the elected representatives of the people of Bangladesh, as honour bound by the mandate given to us by the people of Bangladesh whose will is supreme, duly constituted ourselves into a Constitutent Assembly, and having held mutual consultations, and in order to ensure for the people of Bangladesh equality, human dingnity and Social justice, declare and consitute Bangladesh to be a Soverign People's Republic and thereby confirm the declaration of independence already made by Banga Bandhu Sheikh Mujibur Rahman and
We further resolve that this Proclamation of Independence shall be deemed to have into offect from 26th day march, 1971.

সংবিধানের প্রস্তাবের সঙ্গে মিলিয়ে ঘোষণাপত্রের তর্জমা ও ব্যাখ্যার পূর্বে বলতে হয়- এই ঘোষণাপত্র বা Proclamation Independnece-কে সংবিধানের ৪র্থ তফসিলের ৩য় অনুচ্ছেদে অঙ্গীভূত করা হয়েছে। তাছাড়া এর বরখেলাফকে রাষ্ট্র সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধাচরণ গণ্য করে 123A Penal Code-এ দণ্ডনীয় অপরাধ ধার্য করা হয়েছে। যার প্রাসঙ্গিক অংশ হচ্ছে : Whoever, Within or Without 1 (Bangladesh), with intent to influence, or knowing it to be likely that he will influence, any person or the whole or any section of the publicd, in a manner likely to be prejudicial to the Safety of 1 (Bangladesh) or to endanger the sovereignty of 1 in respect of all or any the of the territoies lying within its borders, shall by words, spoken or written, or by signs or visible representation, condemn the creation of 1 (Bangladesh) 4 (in pursuance of the Proclamation of Independence on the twenty-sixth day of Mach, 1971, or advocate the curtailment or abolition of the sovereignty of 1 (Bangladesh) in respect of all or any of the territories lying within its borders, whether by amalgamation with the territories of neighbourign. States or otherwise, Shall be punished with rigorous imprisonment which may extend to ten years and shall also be liable to fine.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বহু রায়ে স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্রকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের একটি আকর দলিল বলে গণ্য করেছেন।

এবার আমরা সাংবিধানিক বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যায় যেতে পারি। শুরু হচ্ছে আমরা বলে আবার তারপর বাংলাদেশের জনগণ বলে তার অর্থও স্পষ্ট করা হয়েছে। আমরা যে বাংলাদেশের জনগণ-আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা করলাম। কবে তা করা হলো? সেটা ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। এই স্বাধীনতা ঘোষণার পরিণাম পরের বাক্যাংশে বলা হয়েছে যে, স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। কীভাবে তা হয়েছে যে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। কীভাবে তা হয়েছে তাও বলা হয়েছে। সেট হলো জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের ভাষায় বলা হয় জাতীয় আত্মানিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা।

এই সংবিধান রচিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত গণপরিষদের দ্বারা, যা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে। তাহলে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালের ঘোষণা এবং একজন ঘোষকের কথা যে বলছি সেগুলো কোথায়? অবধারিতভাবে আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণার আকর দলিলে যেতে হয়, যাকে ইংরেজিতে বলা হয়েছে চৎড়পষধসধঃরড়হ ড়ভ ওহফবঢ়বহফবহপব, যা ঘোষিত হয় মুজিবনগরে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে, যেখানে কেবল স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টি ও স্বাধীনতা ঘোষণার আদি পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। সেটা বুঝতে হলে এই ঘোষণাপত্রের বাংলা ভাবার্থ দিতে হয়।

ঘোষণাপত্রের শিরোনাম, তারিখ ও স্থানের উল্লেখের পর বলা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর ৭০ থেকে ১৭ জানুয়ারি নির্বাচনের কথা যার উদ্দেশ্য সংবিধান রচনা। নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯-এর মধ্যে ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করে যারা আওয়ামী লীগের সদস্য জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ১৯৭৭ সালে সংবিধান রচনার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্মেলন ডাকেন। সেই আহূত সংসদকে স্বেচ্ছায় ও অবৈধভাবে মুলতুবি করা হয়। প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে আলোচনা চলাকালে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতী যুদ্ধ ঘোষণা করে। এই বিশ্বাসঘাতকতামূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ৭৫ মিলিয়ন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশর জনগণের বৈধ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায্য অধিকার পরিপূরণে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে ঢাকায় নিয়মিত স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন, এবং বাংলাদেশের জনগণকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সংহতি রক্ষার জন্য আহ্বান জানান। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নৃশংস ও বর্বর যুদ্ধ চালিয়ে বাংলাদেশের নিরস্ত্র বেসামরিক অধিবাসীদের ওপর গণহত্যা ও বিভিন্ন প্রকার নজিরবিহীন নির্যাতন চালাচ্ছে। এই গণহত্যা নির্যাতন ও নিপীড়নের জন্য জনপ্রতিনিধিগণের পক্ষে সম্মিলিত হয়ে একটি সংবিধান রচনা করে নিজেদের একটি সরকার দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাহস, বীরত্ব ও বৈপ্লবিক প্রবণতায় বাংলাদেশের ভূভাগে তাদের কার্যকর জনপ্রতিনিধি কায়েম করেছে।

আমরা বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের প্রদত্ত ম্যান্ডেট পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ, যে জনগণের অভিপ্রায় সর্বোচ্চ সেজন্য আমরা আমাদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করে আলাপ-আলোচনা করেছি এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য সমতা, মানব মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।

বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা ও সংগঠন করছি এবং এতদ্বারা ইতঃপূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণাকে সমর্থন করছি... এই ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

বস্তুত ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের কালরাত্রি পর্যন্ত শেখ মুজিবের নির্দেশে সরকার চলতে থাকে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। এই ডাক একমাত্র তিনিই দিতে পারেন। কেবল ডাক দিলে তো হয় না। সেই ডাকের পিছনে ডাক দেবার ক্ষমতা বা অথরিটিও চাই। সবই ছিল শেখ মুজিবের কাছে। এবার কালের দিক থেকে বিচার করা যাক। সংবিধানে বলা হয়েছে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল, তাহলে আমরা সাংবিধানিকভাবে ২৭ বা অন্য কোনো দিনের উল্লেখ করতে পারি না। বাস্তবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের তারিখ ১০ এপ্রিল ১৯৭১, তাহলে ২৬ মার্চ কীভাবে? হয় এই জন্যে যে ঘোষণাপত্রের শেষে বলা হয়েছে যে, ঘোষণাপত্র বাProclamation of Independent ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে গণ্য করা হবে। এইভাবে ঘোষণাপত্র শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ডাকের দিনকেই সমর্থন ও অনুমোদন করে। তাহলে সাংবিধানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা দিন আমরা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ছাড়া আর কোনো তারিখ বলতে পারি না।

আমাদের বর্তমান সংবিধান ত্রয়োদশ সংশোধনসহ একধিকবার স্থগিত থাকার পরও সেই ১৯৭২ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর যে প্রথম সংবিধান রচিত হয় তা আজও বলবৎ আছে, এবং দ্বাদশ সংশোধনীর পর কাঠামোগতভাবে প্রায় ১৯৭২ সালের অসংশোধিত সংবিধানের অবস্থায় ফিরে গেছে।

১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ রাতে বর্বর পাকবাহিনী অতর্কিতে বাংলার জনগণের ওপর মরণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, ছাত্র ও যুবকরা তাদের হাতিয়ার কেড়ে নিয়ে হানাদারদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। সারা বাংলাদেশ হানাদার বাহিনীকে নির্মূল করার জন্য দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে। সে সময় বঙ্গবন্ধুকে আটকের গোটা সময় একটি প্রশ্নই ইয়াহিয়া খানকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে পাক-সরকারকে। যুদ্ধরত বাংলাদেশে তখন বঙ্গবন্ধুর জীবন রক্ষার জন্য মানুষ রোজা রেখেছে। নফল নামাজ আদায় করেছে। মুক্তিযুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে। শত্রু-মিত্র সবাই আজ একবাক্যে স্বীকার করেন, সেদিন বঙ্গবন্ধুই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা। তার নামেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তখনও মানুষ জিয়ার নাম তেমন শোনেন নি। বঙ্গবন্ধু দিব্যদৃষ্টিতে এটা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন বলেই পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন নি। তাছাড়া, পালাবার মতো নেতা বঙ্গবন্ধু কোনোকালেই ছিলেন না। দেশ ও জনগণের জন্য হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করার মতো মনোবল তিনি সবসময় পোষণ করতেন। অতিবড় শত্রু ও তার অসীম সাহসের প্রশংসা করেন। মৃত্যুর সময়েও তিনি তার হত্যাকারীদের তর্জনী তুলে ধমক দিয়েছেন বলে হত্যাকারীরা স্বীকার করেছে।

সফিকুর রহমান সম্পাদিত ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন ও আজকের প্রেক্ষাপট’ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল শীর্ষক জিয়াউর রহমানের একটি লেখা সংকলিত হয়েছে। এটি ১৯৯২ সালে লেখা এবং তা প্রথম সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় প্রকাশিত হয়েছিল। এতে তিনি লিখেছেন, “৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রিন সিগন্যাল বলে মনে হলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিলাম।” এই গ্রিন সিগন্যাল ও চূড়ান্ত রূপ জিয়া যে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছেন- তা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। জিয়া বেঁচে থাকাকালীন কখনও নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেন নি।

বঙ্গবন্ধু হলেন শতাব্দীর মহানায়ক। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। জাতির জনক এবং বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। তিনি সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। বঙ্গবন্ধুর কারণে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র পেয়েছি। তাই বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা।

লেখক : স্থায়ী সদস্য, জাতীয় প্রেসক্লাব

এই বিভাগের আরো সংবাদ