বঙ্গবন্ধু-কন্যার দুঃখ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৫৮

সারোয়ার কবীর, ১৫ আগস্ট, এবিনিউজ : আগস্ট মাস শোকের মাস। এ বছর এই শোকের মাসের প্রথম দিনে বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এক দুঃখের কথা ব্যক্ত করেছেন। সেই দুঃখ হলো প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিচার করতে না পারা। আগস্ট মাসের প্রথম দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় কৃষক লীগের মাসব্যাপী রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আক্ষেপ ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে নজিরবিহীন আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ বিরোধীশক্তি বিশেষ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল, সেই মহলটি বিভিন্ন সময়ে বেশ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলত, আওয়ামী লীগকে আর কখনও ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। যেমন বিগত শতকের নব্বই দশকের প্রথম ভাগে জেনারেল জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরসূরির তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বেশ দম্ভ করে বলতেন- ওরা রাস্তার লোক রাস্তায় থাকবে কিংবা আওয়ামী লীগকে আগামী ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অসহযোগ আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিসিয়ারিদের ক্ষমতা তখ্ত কেঁপে যায়। দীর্ঘ ২১ বছর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রধান শক্তি আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে। বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী হন। দেশে আইনের শাসন কায়েম করার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে, শেখ হাসিনার সরকার ইনডেমনিটি অ্যাক্টের মতো কালো আইন বাতিল করেন। বলা বাহুল্য, দেশের প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না হয় সেজন্য খুনি মোশতাক সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে, পরে সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের সরকার অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু খুনিদের রক্ষাকবজ হিসেবে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অ্যাক্ট বাতিল করেন। খুনিদের একে একে গ্রেফতার করে দেশের প্রচলিত আইনেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন। বিচারে খুনিদের মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হয়। বিদেশে গুটি কয়েক খুনি পালিয়ে বেড়ানো ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দ-িত বাকি সবার রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হয়েছে। প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা যেমন বঙ্গবন্ধু খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করেছেন, তেমনি তিনি দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতা বিরোধীদের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠনের বিচার করেছেন। দেশি-বিদেশি প্রবল চাপ মোকাবেলা করে বাঘা বাঘা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ফাঁসিতে ঝোলানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এটাই প্রমাণ করেছেন, এদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন বঙ্গবন্ধু খুনি এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দাপট ও ঔদ্ধত্য দেখে কেউ কল্পনাই করতে পারত না, একদিন বাংলার মাটিতে এদের বিচার হবে। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল, বিচক্ষণতা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে। এক্ষেত্রে তার অবদানকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।


বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে তার তৃতীয় মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছেন। তিনি শুধু বঙ্গবন্ধু খুনি এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাজা নিশ্চিতই করেন নি, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধাবিত করে একটি উন্নত, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার কাজে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে তিনি এক নতুন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছেন। খাদ্য উৎপাদনে রেকর্ড, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সরকারের ঐতিহাসিক সাফল্য শেখ হাসিনাকে সফল রাষ্ট্রনায়ক আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা ও বিভিন্ন পুরস্কার-সম্মাননা এনে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্বীকৃত হয়েছেন। এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন কোনো বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তখন তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য পর্যালোচনার দাবি রাখে।


জাতীয় কৃষক লীগের রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রেক্ষাপট বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন। জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই দুই খুনি (রশিদ ও ফারুক) সাক্ষাৎকারে এও বলেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের কথা জিয়াউর রহমান জানতেন। খুনিদের জিয়া বলেছে, তোমরা এগিয়ে যাও, আমি তোমাদের সফলতা কামনা করছি।’ সেদিন জিয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অনেক কথাই বলেন। জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। বিচারপতি সায়েম সাহেবকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দিয়ে নিজকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। এরপর দেশে প্রায় ১৯টি ক্যু হয়েছে। এ সময় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসার-সৈনিকদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জিয়া রাজনৈতিক দল গঠন করে। নির্বাচনে কারচুপি, দুর্নীতি, ঋণখেলাপি সংস্কৃতি এই জিয়াই সৃষ্টি করে গেছে। জিয়া এবং তার রাজনৈতিক উত্তরসূরিদের শাসন আমলে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে জিয়া সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল। যে কারণে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় দখল করার পর দীর্ঘসময় বঙ্গবন্ধুর নামটুকুও মুছে ফেলার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। একটি প্রজন্মকে মিথ্যা ইতিহাস শেখানো হয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণ পর্যন্ত বাজাতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের নাম আসলে বঙ্গবন্ধুর নাম। সেই নামটি তারা মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু সত্য ইতিহাসকে কখনও মুছে ফেলা যায় না। বরং ইতিহাসই একদিন প্রতিশোধ নেয়। তাই জিয়ার যা পরিণতি হয়েছিল তা অবধারিত। কিন্তু আমার একটিই দুঃখ আমি তার বিচার করে যেতে পারলাম না। তার আগেই জিয়া মরে গেল।’


এবারেই প্রথম নয়, বহুবার বহু অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, জাতির পিতা হত্যাকা-ে জিয়া জড়িত। এ অভিযোগ কোনো মনগড়া বিষয় বা রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে তৎকালীন উপ-সেনাপ্রধান জিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত সত্য। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নির্ভর এবং গবেষণামূলক বইপত্রে- এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তে, আসামি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি, মামলা চলাকালীন সময়ে আইনজীবীদের জেরা ও যুক্তিতর্কে জিয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বলা চলে, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত বলে যে দুজন ব্যক্তিকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাদের একজন হলেন জাতির পিতার রক্তের উপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আরেকজন জেনারেল জিয়াউর রহমান।


অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠকারী এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ব্রিগেড কমান্ডার জিয়াউর রহমানকে একজন বিশ^াসঘাতক বলে অভিযুক্ত করে থাকে। তাকে মীরজাফরের উত্তরসূরি বলে আখ্যায়িত করা হয়। উচ্চাকাক্সক্ষী ও ক্ষমতালোভী এই সেনাপতি শুধু বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িতই নন, তার শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর নামধাম বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলার অপপ্রয়াসও চলে। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করেছেন ও বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশনে চাকরি দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে অপসারণ করার পাশাপাশি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী বানিয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার মাধ্যমে দেশকে আবার পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধ সপক্ষ শক্তি ক্ষমতায় আসার পর জীবিত থাকলে জিয়াউর রহমানের বিচার হওয়াটা সময়ের দাবি হয়ে উঠত। তিনি উপ-সেনাপ্রধান হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জেনে প্রচলিত সেনা আইন ও বিধিবিধান মোতাবেক খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। এটি গুরুতর অপরাধ। আর এই অপরাধেই সেনা আইনেই তার শাস্তি অবধারিত ছিল। ‘বাংলাদেশ দ্য আনফিনিশড রেভলুশন’ বইয়ের লেখক বিখ্যাত সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ বলেছেন, জিয়ার সুস্পষ্ট সমর্থন ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা সম্ভব হতো না। লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান ও হংকংভিত্তিক ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক পত্রিকার এই সাংবাদিক বাংলাদেশের ইতিহাসের কালো অধ্যায় পঁচাত্তরের ঘাটনাবলি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যও নিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- সম্পর্কে লিফশুলজ ২০১১ সালে বাংলাদেশের সাংবাদিক আনিসুর রহমানকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার অভিমত এই যে, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকা-ে সম্ভবত জিয়াউর রহমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনিই রশীদকে নিশ্চিত করেন যে, সেনাবাহিনী তাদের কাজের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে না এবং কোনো অবস্থাতেই মুভ করবে না। অর্থাৎ যে কোনো মূল্যেই তাদেরকে সফল হতে হবেই। জিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রশীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং রশীদকে সবসময় আশ^স্ত করেছিলেন যে তিনি তাদের সঙ্গে আছেন। আমার অভিমত জিয়া তার ব্যক্তিগত কারণেই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেননি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এটি ছিল তারই এজেন্ডা, যা তিনি এবং অন্য কিছু অফিসার জানতেন। কেননা আমি বিশ্বাস করি, জিয়ার সুস্পষ্ট সমর্থন ছাড়া হত্যাকা-, এমনকি তারা (বঙ্গবন্ধুর খুনিরা) এগুতেই সাহস পেত না। তাই জিয়াই এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ছায়ামানুষ। ডেপুটি চিফ অব আর্মি হিসেবে জিয়া যদি এর বিরোধিতা করতেন, তাহলে অবশ্যই তা বন্ধ করতে পারতেন এবং সেটিই ছিল তার সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু তিনি তা করেন নি। আমি বলতে চাই জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত জটিল চরিত্রের লোক। যদিও মনে হতে পারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা ও বিনয়ী। ফলে একেকজন একেকভাবে এর ব্যাখ্যা দিতে পারেন। কিন্তু আমরা যদি বাংলাদেশের সে সময়কার ইতিহাস পর্যালোচনা করতে চাই, তাহলে অবশ্যই বুঝতে হবে জিয়া নেপথ্যে থেকে সবকিছুকে কীভাবে পরিচালনা করেছেন। যেতে হবে এর বহু গভীরে।’


সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজের উপরোক্ত বক্তব্য শোনার পর জাতির পিতার ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী প্রাক্কালে জিয়ার বিচার করতে না পারার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুঃখ ব্যক্ত করাটাকে যথার্থ বলেই মনে হবে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল বিদ্রোহী সেনা অফিসারের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়া নিহত হন। প্রশ্ন হলো, মৃত্যু হলেই কী জিয়ার মতো একজন ব্যক্তি কৃতকর্মের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন? স্বাধীনতাবিরোধীদের মদদপুষ্ট একটি মহল জিয়াকে হিরো বা জাতীয় বীর বানাতে সচেষ্ট। তাদের এহেন তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই মনে করে, জিয়ার মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত। তার মরণোত্তর বিচার হলে বঙ্গবন্ধু-কন্যার দুঃখই শুধু লাঘবই হবে না, জাতির পিতার হত্যায় জড়িত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেইমানি, খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন ইত্যাদি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের একজন খলনায়ক হিসেবে জিয়া ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। যেমনটি ইতোমধ্যেই হয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা।

লেখক : গল্পকার, সাংবাদিক

এই বিভাগের আরো সংবাদ