বাতাস দূষিত তাই ফ্রান্সেই থাকার অনুমতি পেলেন বাংলাদেশি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪০

ফ্রান্সের সরকার এক বাংলাদেশিকে দেশটি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অ্যাজমায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে শেষপর্যন্ত ফ্রান্সেই থাকার অনুমতি দিয়েছেন সেখানকার একটি আদালত। ওই বাংলাদেশির আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের দূষণে মাত্রা খুব বিপজ্জনক তাই তার মক্কেলকে ফেরত পাঠালে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটতে এবং অপরিপক্ক বয়সেই মৃত্যু হতে পারে।

২০১৭ সালে বসবাসের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেয় ফরাসি কর্তৃপক্ষ। সেসময় তার জন্য বাংলাদেশে ফিরে আসা নিরাপদ বলে জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের একটি আদালত। এরপরই বাংলাদেশের বায়ুদূষণ পরিস্থিতির কারণ দেখান নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি।

পরে আদালত ওই ব্যক্তিকে ফ্রান্সে থাকার অনুমতি দেয়। আদালতের এমন রায় এ ধরনের ঘটনায় দেশটিতে প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্রান্সের বোরডিউক্সের আপিল আদালত ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ বাতিল করে দেন। আদালত বলেন, তার দেশে ‘বায়ুদূষণের কাণে তার শ্বাসকষ্ট আরও খারাপ আকার ধারণ’ করতে পারে তাই ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো যাবে না।

ওই ব্যক্তির আইনজীবী লুডোভিচ রিভিয়েরে বলেছেন, আমার জানা মতে ফ্রান্সের কোনও আদালতে এই প্রথম পরিবেশকে একটি কারণ হিসেবে বিবেচনায় রায় দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাতাসের মানের কারণে আমার মক্কেলের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালত।

ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রঅনমেন্টাল পারফর্মেন্স ইন্ডেক্সে ২০২০ সালে বিশ্বে বাতাসের মানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৯তম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও’র নির্ধারিত সীমারেখার চেয়ে বাংলাদেশের বাতাসের ছয়গুণ বেশি ধূলিকণা রয়েছে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ