আজকের শিরোনাম :

‘পড়ে না চোখের পলক’ আমার জীবনের মাইলফলক : অ্যান্ড্রু কিশোর স্মরণে রিয়াজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০, ১১:০৬ | আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ১১:১০

অ্যান্ড্রু কিশোরকে স্মরণ করতে গিয়ে সিনেমা ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের কথা উল্লেখ করেন রিয়াজ আহমেদ। প্রয়াত গায়কের কণ্ঠে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ সিনেমার ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি এই নায়ককে ভীষণ জনপ্রিয়তা দেয়।

রিয়াজ ফেইসবুকে লেখেন. “বাংলাদেশের সিনেমার তথা সংগীতের ইতিহাসে এতো হিট সম্ভবত আর কারো ঝুলিতে নেই। আশির দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় অব্দি যত প্রবাদতুল্য গানের কথা আমাদের মনে পড়ে তার নব্বই ভাগই সম্ভবত স্বর্গীয় অ্যান্ড্রু কিশোর দা'র গাওয়া।”

একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, “বড় ভালো লোক ছিলেন। দেশে-বিদেশে একসাথে অনেক শো'তে অংশগ্রহণ করেছি, বড়ই মজার মানুষ ছিলেন। কিন্তু কোনদিনও তাকে প্রকাশ্যে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কারো নামে মন্দ কিছু বলতে শুনিনি। এমন মানুষ পাওয়া আসলেই দুষ্কর।”

“আমার জন্য তিনি গেয়েছেন অসংখ্য গান। ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি আমার জীবনের একটি মাইলফলক, কিন্তু এই মুহূর্তে ভাবতেই আমার ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠছে যে এই গানের গায়ক এন্ড্রু দা আর আমাদের মাঝে নেই। অনেক কিংবদন্তী নায়ক এবং অভিনেতার জন্যই গান করেছেন, কিন্তু তিনি আমার জন্য যা করেছেন তা হয়তো আর কোন শিল্পীর জন্য করেননি। তিনি আমার গলার স্কেল এবং ফ্রিকুয়েন্সি বুঝে এমনভাবে আমার জন্য প্লেব্যাক দিতেন যাতে মনে হতো যে গানটি আমিই গাচ্ছি। এই ঋণ আমি কোনদিনও শোধ করতে পারবো না। অ্যান্ড্রু দা, আপনার সাথে আড্ডার ছোট ছোট মুহূর্ত থেকে শুরু করে সকল স্মৃতি আমি আমৃত্যু ভুলবো না। ওপারে ভালো থাকবেন অ্যান্ড্রু দা। সৃষ্টিকর্তা আপনার বিদেহী আত্মাকে শান্তি দেক, এই প্রার্থনাই থাকবে আজীবন।”

কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোর সোমবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন এই নন্দিত গায়ক। সেখানে গিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে ছিলেন তিনি। গত ১১ জুন একটি বিশেষ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন অ্যান্ড্রু কিশোর। এরপর তিনি রাজশাহীতে বসবাস করছেন।

অ্যান্ড্রু কিশোর বাংলাদেশে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। কয়েক হাজার সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

এ শিল্পী ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীত পাঠ গ্রহণ শুরু করেন অ্যান্ড্রু কিশোর। মুক্তিযুদ্ধের পর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

অ্যান্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমার ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটি। এরপর ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’তে কণ্ঠ দেন। এর পর বেশ কিছু গান তাকে ভীষণ পরিচিত করে তোলে। তবে তুমুল জনপ্রিয়তা পান বেলাল আহমেদের ‘নয়নের মনি’ সিনেমার গান দিয়ে। ওই সিনেমার পুরো অ্যালবামই হিট, পরে কলকাতায় রিমেকও হয়।

অ্যান্ড্রু কিশোর বড় ভালো লোক ছিল, সারেন্ডার, ক্ষতিপূরণ, পদ্মা মেঘনা যমুনা, কবুল, আজ গায়েহলুদ, সাজঘর, কি যাদু করিলা সিনেমায় কণ্ঠ দিয়ে মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া বাচসাস, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন।

 


 

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ