যেভাবে প্লেব্যাক সম্রাট হয়ে উঠেছিলেন এন্ড্রু কিশোর

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০, ০০:২৯

দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগে সোমবার সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন আটবারের চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। দেশ ও বিদেশের বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামেও পরিচিত ছিলেন তিনি।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্ম এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈয়ের। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এন্ড্রু কিশোরের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা সিডনিতে গ্রাফিক ডিজাইন ও ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক মেলবোর্নে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা করছেন।

গুরু আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে সঙ্গীতের তপস্যা শুরু করেন এই বরেণ্য শিল্পী। গেয়েছেন রবীন্দ্র, নজরুল, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গান। মুক্তিযুদ্ধের পর কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।

একইসাথে তিনি নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গান শ্রেণিতে রাজশাহী বেতারের সঙ্গেও তালিকাভুক্ত ছিলেন।

১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের “অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ” গানের মধ্য দিয়ে এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয়। এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

এরপর একে একে বড় ভালো লোক ছিল, সান্ডারে, নয়নের আলোর মত বক্স অফিস হিট চলচ্চিত্রে কণ্ঠদান। কাজ করেছেন আর ডি বর্মন, আলম খান, সুজেয় শ্যামের মত গুণী সঙ্গীত পরিচালকদের সাথে।

ব্যতিক্রমী গায়কীতে আশিম ও নব্বইয়ের দশকে এন্ড্রু কিশোর নিজস্ব একটি ধারা তৈরি করতে সমর্থ হন। বাংলাদেশের প্রথম সুপার বক্স অফিস বেদের মেয়ে জোছনা তারই কণ্ঠসুধায় অমরত্ব পায়। এছাড়াও তিনি ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘ভালবেসে গেলাম শুধু’ এর মতো জনপ্রিয় সব গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে এন্ড্রু কিশোর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ