‘সাধারণ মানুষেরা অন্তরে আজো বিরাজ করে দিলদার’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:০১ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:০৭

বাংলা সিনেমায় ক্ষণজন্মা নাম দিলদার। যিনি নানামাত্রিক ভঙ্গিতে কৌতুক অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে হাসির খোরাক জোগাতেন। সিনেমায় দিলদারের উপস্থিতি মানেই বাড়তি আনন্দ। আশি-নব্বই দশকে বেশিরভাগ সিনেমায় তিনি ছিলেন। নায়ক-নায়িকা ভিন্ন হলেও দিলদার ছাড়া যেন সিনেমাই জমতো না! কিংবদন্তি এই অভিনেতার জন্মবার্ষিকী সোমবার (১৩ জানুয়ারি)। ১৯৪৫ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন। 

১৯৭২ সালে ‘কেন এমন হয়’ সিনেমার মাধ্যমে সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন তিনি। এরপর বেদের মেয়ে জোসনা, বিক্ষোভ, অন্তরে অন্তরে, কন্যাদান, চাওয়া থেকে পাওয়া, স্বপ্নের নায়ক, আনন্দ অশ্রু, শান্ত কেন মাস্তান, গাড়িয়াল ভাই, বাশিওয়ালা সিনেমার অভিনয় করে ধীরে ধীরে দিলদার হয়ে ওঠেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌতুক অভিনেতা। দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তাকে ‘নায়ক’ বানিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’  নামে একটি সিনেমা।

বাংলা চলচ্চিত্রে কিংবদন্তী কৌতুক অভিনয়ের জাদুকর ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর আজও তার শূন্যস্থানটি পূরণ হয়নি। এই অভিনেতা আজও রয়ে গেছেন মানুষের হৃদয়ে। থাকবেন অনন্তকাল। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই তিনি চিরবিদায় নেন পৃথিবী থেকে। তার চলে যাওয়ার পর থেকে ঢাকাই ছবি থেকে যেন প্রাণ হারিয়েছে কমেডি। দিলদারের উত্তরসূরী হিসেবে কাওক চোখে পড়েনি দীর্ঘ দুই দশকে।

কৌতুকের রাজাকে আজও মিস করেন বাংলা সিনেমা প্রেমীরা। তার অভিনীত চলচ্চিত্র এখনও প্রচার হয বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। তার মতো কেউ আর নেই বলে আফসোসে বুক বাধে দর্শকরা। তবে দিলদার চলে গেলেও তার জনপ্রিয়তা কমেনি একটুও। এখনও তার এতটুকুও জনপ্রিয়তা কমেনি।  দিলদার না থাকলেও এখনও আছে তার পরিচার। ৫৮ বছর বয়সে চলে গেলেও রেখে গেছেন স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও দুই কন্যা সন্তান মাসুমা আক্তার ও জিনিয়া আফরোজকে।

দিলদারের পরিবারের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন। বড় মেয়ের  মাসুমা আক্তার এক সন্তানের জননী। আর ছোট মেয়ে জিনিয়ার একছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার স্বামী মারা গেছেন। জিনিয়া আগে টেলিকমিনিকেশনে চাকরি করতেন। সেখানে থেকে চলে আসেন ব্রাক ব্যাংকে। পাঁচবছর চাকরির পর সেটিও ছেড়ে দেন।

 
দিলদারের দুই মেয়ে জানান, ১৯৯৪ সালে বাবা টাকা জমিয়ে সারুলিয়া (ডেমরা) তে একটা পাঁচতলা বাড়ি করেছেন। এ খন চারতলা পর্যন্ত ভাড়া দেয়া এবং পাঁচ তলায় আমার মা মাঝেমধ্যে থাকেন। মাঝে মধ্যে মা আসেন। তাছাড়া চাঁদপুর এবং ঢাকায় আমাদের দু-বোনের কাছেও থাকেন। পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেছেন দিলদার। অথচ এখন তার খোঁজ খবর নেয়না চলচ্চিত্রের কোন মানুষ। জন্মদিন ও মৃত্যু দিবস কোন প্রকার স্মরণ ছাড়াই চলে যায়। 

দিলদার কন্যারা জানান, বাবা মারা যাওয়ার কয়েকবছর আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষেরা খোঁজ রাখতেন। তা ছাড়া অভিনেতা আনিস আঙ্কেল খোঁজ রাখতেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ায় আর কেউ খোঁজ নেয় না। চিত্রনায়ক মান্না মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখতেন। এছাড়া চলচ্চিত্রের কেউ আমাদের খোঁজ নেন না। জন্মদিন কিংবা মৃত্যুাবার্ষিকীতে কেউ খোঁজ রাখেন না। তবে চলচ্চিত্রের লোকেরা না নিলেও বাবার ফ্যানক্লাবের সদস্যরা খোঁজ রাখেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ