অঞ্জলি দিয়ে ক্ষোভের মুখে তৃণমূল সাংসদ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৮

মুসলিম হওয়ার কোনও দরকার নেই৷ নিজের ধর্ম পালটে ফেলাই উচিত তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানের৷ দুর্গাপুজোয় অংশ নিয়ে অঞ্জলি দেওয়ায় বেশ ক্ষুব্ধ মুসলিম ধর্মগুরুরা৷ এভাবেই নিজেদের ক্ষোভপ্রকাশ করলেন তাঁরা৷

তাঁদের দাবি ভিন ধর্মের উৎসবে অংশ নিলেও, তাতে সক্রিয় ভাবে যোগদানের কোনও প্রয়োজন ছিল কি? তাহলে বাংলার এই অভিনেত্রী তথা সাংসদ নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে নিলেই পারেন৷ অষ্টমীতে স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে সুরুচি সঙ্ঘের পুজোতে অংশ নিতে দেখা যায় নুসরতকে৷ সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও৷

এতেই ক্ষেপে যান মুসলিম ধর্মগুরুরা৷ উত্তরপ্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দের এক ধর্মগুরু জানিয়ে দেন, এভাবে মুসলিম হয়ে আল্লা ছাড়া অন্য কোনও ভগবানকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা যায় না৷ তিনি বলেন ইসলাম এই ধরণের কাজকে সমর্থন করে না৷ আল্লা ছাড়া অন্য কারোর উপাসনা করা ইসলামের চোখে হারাম৷ তাঁর দাবি কোনও মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ অন্য ধর্মের হয়ে উপাসনা করতে পারেন না৷ সেটা করতে হলে তাঁকে ধর্মান্তরিত হতে হবে৷

এখানেই শেষ নয়, একাধিক নেটিজেন নুসরতের ঢাক বাজানো ও অঞ্জলি দেওয়ার ভিডিও দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷ তাঁদের একাংশের মতে নুসরতকে পুড়িয়ে ফেলা হোক৷ বিধর্মীদের মতো আচরণ করার সাহস তিনি পান কি করে?

অষ্টমীর সকালেই নবদম্পতি পৌঁছে যান দক্ষিণ কলকাতার সুরুচি সঙ্ঘের পুজো মণ্ডপে। স্বামী স্ত্রী রং মিলিয়ে পোশাকও পরেন এদিন। নুসরতকে টুকটুকে লাল শাড়ির সঙ্গে হলুদ ব্লাউজ, সিঁথিতে সিঁদুর, খোঁপায় ফুল ও ভারী গয়নায় সব সময়ের মতোই সুন্দর লাগছিল। অন্যদিকে রং মিলিয়ে পাঞ্জাবি পরেছিলেন নিখিল।
 
পুজো মণ্ডপে একেবারে সাবেকি দম্পতির বেশেই পৌঁছে যান দুজনে। অষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলি দেন নুসরত ও নিখিল। এর পরেই নুসরত কোমরে শাড়ি গুঁজে ও নিখিল পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে ঢাক বাজানো শুরু করেন। আর নবদম্পতিকে সঙ্গ দেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ৷ তাঁর মতে প্রত্যেক মানুষের নিজের ইচ্ছামত ধর্মাচারণের সুযোগ রয়েছে৷ সেটা তাঁর অধিকার৷ কেউ এই বিষয়ে নাক গলাতে পারে না৷ বাংলায় জন্ম নিয়ে এই শিক্ষা পেয়েই বড় হয়ে ওঠা তাঁর৷ বাংলার সংস্কৃতি মেনেই তিনি ধর্মাচারণ করেন৷

প্রতিক্রিয়া দেন তাঁর স্বামী নিখিল জৈনও৷ তিনি বলেন এই বিয়েতে অনেকেরই আপত্তি ছিল৷ নুসরত বরাবরই হিন্দুদের সব ধরণের উৎসবে অংশ নেয়৷ এতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷ তবে অনেকেই সমস্যা তৈরির চেষ্টা করেন৷ নুসরতের এই ধরণের আচরণ ভারতের ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বার্তাকেই তুলে ধরে৷

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ