চাল ডাল ও তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:১২

বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে ভোক্তার নাভিশ্বাস অবস্থা। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ থেকে শুরু করে চাল, ডাল, তেল কিনতে ভোক্তাকে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বেড়েছে আদা ও রসুনের দামও । দাম কমাতে সরকারের বাজার তদারকি সংস্থার উদ্যোগেও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তা।

সপ্তাহের ব্যবধানে সরকারি সংস্থা ট্রেডিৎ কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্যমূল্য তালিকায় এসব পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র লক্ষ করা গেছে। টিসিবি বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলে দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিনে দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। প্রতি কেজি রসুনে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মসুরের ডালে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, মাঝারি আকারের চালে ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, পেঁয়াজে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ, আদায় ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। কিন্তু অসাধু ও অনৈতিক যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে অধিদফতর জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা। যা দুই দিন আগে ছিল ৮০-৮৫ টাকা এবং দুই দিনের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকা। একই দিন প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৫৬-৫৮ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ৫৪-৫৫ টাকা। বিআর ২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ৪৬-৪৭ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৬-৪৭ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ৪৫-৪৬ টাকা। নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. জাকারিয়া বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কোনো পণ্যের কমতি নেই। তবে বাড়তি টাকা খরচ করে কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ থাকার পরও বিক্রেতারা বাড়তি দরে বিক্রি করছে। প্রতিটি দোকানেই চালের বস্তা রাখার জায়গা নেই। তার পরও বেশি টাকা খরচ করে কিনতে হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ বলতে কোনো কিছু নেই। একাধিক সংস্থা ঠিকই বাজারে আসছে। তদারকির নামে শ্রেষ্ঠ অভিনয় করছে। সরকারকে দেখাচ্ছে তাদের কাজ ঠিকঠাক মতো করছে। তবে সব কিছুই লোক দেখানো। তা না হলে বিক্রেতারা পণ্যের দাম এত বাড়াতে পারত না। আর আমাদের মতো ক্রেতাকে বাড়তি দরে পণ্য কিনতে ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দিদার হোসেন বলেন, মিলারদের কারসাজিতে সব ধরনের চালের দাম বাড়তি। কিন্তু ক্রেতা বাজারে চাল কিনতে এসে আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। বাজার তদারকি সংস্থা আমাদের চাপ দেয়। কিন্তু যে বা যারা দাম বাড়ায় তাদের কেউ ধরে না।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. আসরাফ বলেন, বরাবরের মতো আমদানিকারকরা সুযোগ বুঝে কারসাজি করেছে। পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে এখনও বাড়তি মুনাফা করছে। কিন্তু তাদের পর্যায়ে কোনো তদারকি নেই। সব দোষ আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের দেয়া হচ্ছে। জরিমানা গুনতে হয় আমাদের। ভোক্তার কথাও শুনতে হয় আমাদের। তিনি জানান, বেশি দরে কিনে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্য দিকে খুচরা বাজারে এদিন প্রতি কেজি মসরের ডাল বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ৯০-৯৫ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৯৪ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ৮৬-৮৮ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১০০-১১৫ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ১০০-১১০ টাকা। এদিন প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ