বেনাপোলে ১০ মিনিটে শুল্কায়ন, ৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার

  ইউএনবি

২৯ মে ২০২০, ২২:২০ | অনলাইন সংস্করণ

মাত্র ১০ মিনিটে শুল্কায়ন আর ৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার। শুল্কায়ন সময় হ্রাসে নতুন এ রেকর্ড গড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের কাস্টম হাউস।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, গত ১৯ মে ভারত থেকে ২১ রেল ওয়াগন বোঝাই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধানের বীজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। সম্ভাব্য খাদ্য সংকট রোধে বীজগুলো দ্রুত কৃষকের হাতে পৌঁছাতে দ্রুত শুল্কায়নে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় কাস্টমস সফটওয়্যার এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের তথ্য মতে, ধান বীজের ওয়াগনগুলো ১৯ মে সন্ধ্যা ৭টা ১৯ মিনিটে বেনাপোল রেলস্টেশনে পৌঁছে। রাত ১১টা ২৭ মিনিটে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সারথি এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি রেজিস্ট্রেশন করে। ১১টা ৩৬ মিনিটে রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মীরন শুল্কায়ন অনুমোদন করেন। পরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সোনালী ব্যাংকে শুল্ককর জমা দিলে ১১টা ৪৬ মিনিটে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রিলিজ অর্ডার প্রিন্টেড করেন।
সর্বসাকুল্যে ১৯ মিনিটে শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

নঈম মীরন বলেন, ‘সমগ্র আমদানি প্রক্রিয়ায় এটুকুই কাস্টমসের কাজ। শেষ ৯ মিনিট সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট টাকা জমা দিতে নিয়েছেন। সব ঠিক থাকলে ৫ মিনিটেও আমরা শুল্কায়ন করার দক্ষতা অর্জন করেছি। কাগজপত্র ঠিক থাকলে কেবল রেল কার্গো নয়, সব ধরনের চালানই দ্রুত শুল্কায়ন করা যায়।’

আমদানি চালান বৃত্তান্তে দেখা গেছে, ভারত থেকে দুটি চালানে ধানের বীজ আমদানি হয়। ঢাকার গুলশানের ক্রপসায়েন্স লিমিটেড ভারতের বায়ো সায়েন্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এসব বীজ কেনে। বীজের শুল্ককর আসে ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৮ টাকা।

এনবিআর জানায়, রেল কার্গোতে আমদানি করলে দ্রুত শুল্কায়ন ও খালাস হয়। সময় ও খরচ সাশ্রয়ের সাথে পণ্য নষ্ট হয় না। পার্কিং সিন্ডিকেট মাঝপথে ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি করতে পারে না। রেল কার্গোতে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমদানি করায় করোনা ঝুঁকিও থাকে না।

ট্রাক ও রেল কার্গোর তুলনা করে দেখা যায়, বর্তমানে রেল কার্গো মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ভারত থেকে বেনাপোলে পৌঁছে। এক ওয়াগনে চার ট্রাকের সমান পণ্য আনা যায়। রেল কার্গোতে মিথ্যা ঘোষণার সুযোগ কম। ভাড়া ট্রাকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। নেই আবশ্যিক পার্কিং, ট্রাক অপেক্ষা ও চাঁদাবাজি। দিনে ১০০ বগির একটি ট্রেন ৪০০ ট্রাকের সমান পণ্য আনতে পারে।

এনবিআরের দাবি, ট্রাকে ধানের বীজের এ চালানটি আমদানি হলে খালাস পর্যন্ত ৫-৬ দিন লাগত। ৫০টির বেশি ট্রাকের প্রয়োজন হতো। লাগত ৫০ জন চালক, একজন না এলে খালাস বন্ধ। সেই সাথে বন্দরে ও রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হত। আর ট্রাকে একই চালানের ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি। এতে প্রান্তিক ভোক্তা কৃষকের ব্যয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যেত।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ