এলপি গ্যাসের দাম কমে অর্ধেক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২০, ০১:০৪

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। প্রপেন ও বিউটেন নামের গ্যাসের মিশ্রণে এলপিজি তৈরি হয় । এই গ্যাস দুটির দাম এক মাসে কমে অর্ধেক হয়ে গেছে।

এলপিজির দাম নির্ভর করে সৌদি আরামকো নামে পরিচিত সৌদি অ্যারাবিয়ান অয়েল কোম্পানির নির্ধারিত দামের ওপর। সৌদি আরামকো প্রতি মাসে এলজিপির একটি দাম ঘোষণা করে।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সৌদি আরামকো প্রতি টন প্রপেনের দাম নির্ধারণ করেছে ২৩০ মার্কিন ডলার, যা আগের মাসে ৪৩০ ডলার ছিল। অন্যদিকে বিউটেনের দাম ঘোষণা করা হয়েছে ২৪০ ডলার, যা আগের মাসে ছিল ৪৮০ ডলার।

বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০ শতাংশ প্রপেন ও ৭০ শতাংশ বিউটেনের মিশ্রণে এলপিজি বাজারজাত করে। দাম এভাবে কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে রাশিয়া ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব এবং করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক মন্দাকে দায়ী করা হচ্ছে।

অবশ্য গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বাড়ছিল। আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের জন্য ঘোষিত প্রপেনের দাম ছিল টনপ্রতি ৫৬৫ ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৫০ ডলার। এর মানে হলো জানুয়ারি পর্যন্ত আগের পাঁচ মাসে প্রপেনের দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে বিউটেনের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। জানুয়ারিতে বিউটেনের দাম ঘোষণা করা হয়েছে টনপ্রতি ৫৯০ ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ৩৬০ ডলার ছিল। জানুয়ারির পর থেকে বাজার আবার কিছুটা পড়েছে। বড় পতন হলো এপ্রিলের দামের ক্ষেত্রে।

বিশ্ববাজার ধারাবাহিক বাড়ার পর দেশে কোম্পানিগুলো জানুয়ারি মাসে ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজির দাম এক দফায় ২০০ টাকার মতো বাড়ায়।


এ বিষয়ে এলপিজি সরবরাহকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এলপিজির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. জাকারিয়া জালাল বলেন, জানুয়ারি মাসে মূল্য ১ হাজার ১০০ টাকা ছিল। এরপরের দুই মাসে তা ২০০ টাকা কমিয়ে ৯০০ টাকায় আনা হয়েছে। এখন আমরা পরিবেশকদের কাছে ৮৬০ টাকা দরে বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমেছে। এটা সুখবর। কিন্তু সেই কম দামের গ্যাস দেশে আনা এখন চ্যালেঞ্জের। আবার দেশে আনার পর মানুষের হাতে পৌঁছানো আরেকটি চ্যালেঞ্জ। কারণ কোনো পরিবেশক এখন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পৌঁছাতে পারছে না। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত। বিশ্ববাজারে এই পড়তি দাম যদি টেকে এবং দেশে সরবরাহ করা যায়, তাহলে অবশ্যই ক্রেতারা সুফল পাবে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাবে, দেশে এলপিজির চাহিদা ছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার টন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে এলপিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ