ক্রেডিট কার্ড: গ্রাহকরা কী করতে পারেন, কী পারেন না

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৭

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন একটি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান বানু।

অনলাইনে কিংবা দোকানে গিয়ে কেনাকাটা- উভয়ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন তিনি।

এর বাইরে বিমান টিকেট এবং বিদেশ সফরে হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও তার ভরসা ক্রেডিট কার্ড।

"নগদ অর্থ বহনের ঝামেলা নেই আর পর্যাপ্ত টাকা হাতে না থাকলেও পরে দেয়ার সুবিধার কারণেই আমি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি, যদিও এর ইন্টারেস্ট রেট অনেক বেশি," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ক্রেডিট কার্ড কী ? বাংলাদেশে কারা দেয়?

আধুনিক বিশ্বে ক্রেডিট কার্ডকে বলা হয় প্লাস্টিক মানি। এক কথায় এটি একটি কার্ড যা ব্যাংক বা এ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে একজন গ্রাহক নিতে পারে।

এর বৈশিষ্ট্য হলো হাতে নগদ টাকা না থাকলেও এই কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা যায়।

তবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত অর্থ ব্যবহার বা খরচ করা বা উত্তোলন করতে পারেন একজন গ্রাহক তার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। নির্দিষ্ট সময় পর তার ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আবার ক্রেডিট লিমিট বা কত টাকা পর্যন্ত খরচ বা উত্তোলন করা যাবে সেটি সাধারণত ব্যাংকগুলো হিসেব করে গ্রাহকের মাসিক আয়ের ভিত্তিতে।

তবে ব্যাংকগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নীতি থাকার কারণে ক্রেডিট লিমিট সব ব্যাংকের একই নাও হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত জুন মাসেই দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি।

এনআরবি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান মীর শফিকুল ইসলাম বলছেন, "একজন গ্রাহক চাইলে তার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বাড়ির ইউটিলিটি বিল, ইন্টারনেট বিল এমনকি ড্রাইভারের বেতন পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পরিশোধ করতে পারে।"

তার মতে, ক্রেডিট কার্ড এখন আর বিলাসী কোন ব্যাপার না, এটি এখন বহু মানুষের নিত্যব্যবহার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এ মূহুর্তে ১২ লাখেরও বেশি ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক আছে।

ব্যাংকগুলোর হিসেবে আগামী এক দশকে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশা করছে।

মি. ইসলাম বলছেন, "প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও আগামী এক দশকে ব্যাপক প্রসার হবে ক্রেডিট কার্ডের। সরকারি বেসরকারি সব সেবা ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে যেভাবে তাতে করে সাধারণ মানুষও এই কার্ড ব্যবহারে উৎসাহী হয়ে উঠবে।"

কোথায় ব্যবহার করা যাবেনা

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অনলাইনে জুয়া খেলা, বৈদেশিক লেনদেন, ক্রিপ্টো কারেন্সি, লটারির টিকেট কেনা কিংবা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে উবারের বিল পরিশোধের সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে।

এর ফলে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অর্থ পরিশোধে ঝামেলার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী করা যাবে

সাধারণ অনলাইনে কেনাকাটা বা সরাসরি দোকানে গিয়ে ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায় ক্রেডিট কার্ড।

এনআরবি ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলছেন ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরা ঘরে বসেই ই-কমার্সের মাধ্যমে যে কোনো লাইফ স্টাইল পণ্য, সিনেমার টিকেট, খাবার, বাস রেলওয়ের টিকেট ক্রয়ের সুযোগ পান।

"বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা বিভিন্ন মার্চেন্ট আউটলেটে লাইফ স্টাইল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স কেনাকাটায় নানা ছাড় পেয়ে থাকেন।"

সাথে তিন থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে শূন্য শতাংশ সুদ কিস্তিতে মূল পরিশোধের সুযোগ থাকছে বলে জানান তিনি।

এক্ষেত্রে একজন গ্রাহক ১৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত কোনো সুদ ছাড়া অর্থ পরিশোধের সুযোগ পেয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক কার্ড চেকের মাধ্যমে দরকারি সময়ে নগদ অর্থ উঠাতে পারেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বা সেবা ক্রয়, হোটেল বুকিং, বিদেশে শিক্ষা গ্রহণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ/সেমিনার/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ ফি দেয়া যাবে।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাগুলো:

•দ্রুত লেনদেন (অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার না করে কার্ড ব্যবহার করে হাতে থাকা অর্থের চেয়ে বেশি দামে পণ্য ক্রয়ের সুবিধা)

•পুরস্কার পয়েন্ট (বিশেষ করে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এটি খুবই আকর্ষণীয়, যে সুবিধা ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন করলে পাওয়া যায়)

•নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি থেকে মুক্তি

•অধিকতর নিরাপদ (প্রচলিত ডেবিট কার্ডের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডের সুরক্ষা অনেক বেশি)

অসুবিধা:

•ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি

•হিডেন বা লুক্কায়িত ব্যয়

•ভুল কার্ডে ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ