সিপিডি’র পর্যালোচনা সঠিক নয় : অর্থমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১১

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডি’র সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন তাদের পর্যালোচনা সব সময় সঠিক নয়। তিনি বলেন, বেসরকারী এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ে সরকার অনেক বড়। তাই তাদের কি পর্যালোচনা বা বক্তব্য রয়েছে তা সরকারকে সরবরাহ করা উচিত। আমরা দেখে এর মূল্যায়ন করতে পারবো। অন্যদিকে সংস্থাটির তীব্র সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, গত দশ বছর ধরে সিপিডি শুধু দোষ খুঁজে বেরিয়েছে। অথচ এই সময়ে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা সংস্থাটির চোখে পড়েনি।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় সরকারের ১০০ দিন নিয়ে সিপিডি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ পৃথক আরেক অনুষ্ঠানে সিপিডির সমালোচনা করেন।

প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিপিডি।

তৃতীয় মেয়াদে গঠিত আওয়ামী লীগের সরকারের ১০০ দিনের কাজ দেখে একে ‘উদ্যমহীন’ বলেছে সিপিডি। শুধু তাই নয়, এই সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে হিসাব দেখাচ্ছে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সিপিডি’র সালোচনার একদিন পরই পৃথক দুই অনুষ্ঠানে সংস্থাটি নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছে বর্তমান সরকারের দুই মন্ত্রী।

সিপিডি’র বক্তব্যের মূল্যায়ন সম্পর্কে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সিপিডি তাদের কাজ করছে, আমরা আমাদের কাজ করছি। সিপিডি’র তথ্য উপাত্ত চেয়ে তিনি বলেন আমরা তাদের চেয়ে অনেক বড়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বেশকিছু সুচক বাস্তবসম্মত নয় এমটি মন্তব্য করেছে সিপিডি। এসব বিষয়ে সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, তাদের কাছে যা আছে এগুলো আগে আমাকে দিন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব করা আট দশমিক ১৩ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে ঈর্ষণীয় বলছে সিপিডি। উৎপাদন খাতের ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিই জিডিপির প্রবৃদ্ধি চালিকাশক্তি। তবে সিপিডি এই সরকারেরে এই তথ্যনিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সিপিডির মতে, এই হিসাব বাস্তবসম্মত নয়। অর্থনীতির সূচকগুলোর সঙ্গে এর মিল নেই। জিডিপির হিসাব আরও গভীরে গিয়ে করা উচিত। তা না হলে নীতিনির্ধারণে সমস্যা হবে। এদিকে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, গত ১০ বছর ধরে সিপিডি শুধু দোষই খুঁজেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত ১০ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় তিন গুণের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ৬০০ ডলার ছিল। যা এখন দুই হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
 
মানুষের ক্রয় ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি। সব মিলে ক্রয় ক্ষমতা দুই থেকে আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গত ১০ বছর ধরে সিপিডি শুধু দোষই খুঁজে বেড়িয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা বাজেটের আগে একবার দোষ খুঁজে, বাজেটের পরে একবার। বছরান্তে একবার খুঁজে, সব সময় দোষ খুঁজে তারা। তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে সিপিডির কাজ কী শুধু দোষ খুঁজে বেড়ানো। এই যে অগ্রগতি গত ১০ বছরে হয়েছে, দুঃখজনক হলেও সত্য এটি তারা দেখে না। এটি তাদের দৈন্যতা এবং ব্যর্থতা। তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় তারা সরকারের ১০০ দিন পার হওয়ার পর যে রিঅ্যাকশন দিয়েছে, এটি অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য। গত ১০ বছর ধরে দোষ খুঁজে বেড়ানো তাদের যে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি, এটিও তারই অংশ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাসী সেটি দেখছে এবং প্রশংসা করছে। গত ১০০ দিনে সরকার অনেকগুলো কাজ করেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অথচ সিপিডি এগুলো দেখতে পাচ্ছে না। এটি তাদের ব্যর্থতা। তবে আমরা আশা করবো-সিপিডি তাদের ব্যর্থতা কাটিয়ে সরকার যে অগ্রগতি ও উন্নয়ন করছে, সেটির দিকে দৃষ্টি দেবে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ