দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির ৫ দেশের একটি বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৫৪ | আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:১০

বিশ্বের যে ৫টি দেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকার পরও বাংলাদেশ এটি অর্জন করেছে। এমন তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রকাশ করেছে । এ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হয়। এতে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। বক্তব্য দেন কান্ট্রি ডিরেক্টর রবার্ট জে সউম।

তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে থাকা চার দেশ হচ্ছে যথাক্রমে ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, ভারত ও ভুটান। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়লেও চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে অভিমত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ হোসেন বলেন, ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিতে হতেই পারে। বাংলাদেশকে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ন্যূনতম ৭ শতাংশ থাকবে বলে আমরা মনে করছি। তবে এর জন্য চ্যালেঞ্জ আছে। এ চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যাংকিং খাত এবং রাজস্ব খাত। তাই ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব খাতে সংস্কার আনতে হবে।

ঋণ পুনঃতফসিল খেলাপি ঋণ বাড়াচ্ছে এমন মন্তব্য করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, খেলাপি ঋণ একটি ছোঁয়াচে রোগ। ঋণ পুনঃতফসিল ছোঁয়াচে রোগটা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই ঋণগ্রহীতা বারবার পুনঃতফসিল করছেন, কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আমি বিপদগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট বলেন, আমাদের যে পুনঃতফসিল করা হচ্ছে তার অর্থনৈতিক যুক্তিটা কী? খেলাপি ঋণের সবটাই অনিচ্ছাকৃত নয়। অনিচ্ছাকৃত হলে একবার, দুবার হতে পারে। কিন্তু বারবার খেলাপি হলে তা কিছুতেই অনিচ্ছাকৃত নয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতি উভয় সংকটে রয়েছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি কমিয়েছে। এটাকে বলে উভয় সংকট।

রাজস্ব আয়ের বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ, যা সম্প্রতিকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। আমার মনে করছি এবার বাজেট ঘাটতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং তার আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবকাঠামো খাতে বিশেষ করে সড়কের ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে হবে। 

গতকাল বুধবার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছিল, চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে। 

এডিবি বলছে, ব্যাপক ভোগ চাহিদা ও সরকারি বিনিয়োগের কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। এ ছাড়া রফতানি ‘পারফরম্যান্স’ প্রবৃদ্ধিতে বাড়তি অবদান রাখছে।এর পাশাপাশি শিল্প খাতের সম্প্রসারণ প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

গতকাল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৯ প্রকাশ করে এডিবি। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ