বদলগাছীতে ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৪

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদী উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত তুলশীগঙ্গা নদী।

২০১৮ ব্যনায় ছোট যমুনার বেড়িবাঁধের ভেঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হলেও এখনও পর্যন্ত সংস্কারের কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি নওগাঁ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বিগত বর্ষা মৌসুমে নদীর বেড়িবাঁধের ভয়াবহ পরিস্থিতি হওয়ায় এলাকাবাসী নিজ দায়িত্বে বস্তা বালুদিয়ে রক্ষা করেছিল কর্তৃপক্ষের কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা না নেওয়ায় ঝুঁকি পূর্ণ অবস্তায় রয়েছে।

বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ স্থান উপজেলার মথুরাপুর ইউপির কদমগাছী গ্রামের ছোট যমুনা নদীর বৃদ্ধি পেয়ে বেড়ীবাঁধ হুমকীর মুখে পড়ায় তা রক্ষার্থে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় এলাকাবাসি স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে বাঁধটি রক্ষা করে। কদমগাছী গ্রামের আকবর হোসেন, আবুল কালাম,ও শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান ২০১৮ সালে ব্যনায় ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী বাঁধটি রক্ষার জন্য কৃর্তিপক্ষকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারনে এবার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে নদীর পানি কমতে শুরু করার সাথেসাথে প্রায়  ১ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে নদীর তীব্র ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে পড়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫শ ফিট জায়গা জমিও ৫-৬টি বাশঝাড় ভেঙ্গে নদীর গর্ভে চলে যায়।

মথরাপুর ইউপির ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুকবুল হোসেন বলেন, একাধীকবার আমরা পানিউর্নয়ন বোর্ডে জানানো হলেও কোন সারা পাওয়া যায়নি। নদীর বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে পড়ায় আমরা এলাকাসীর সহযোগিতা নিয়ে ভাঙ্গন রক্ষা করেছি জরুরী ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

আধাইপুর ইউপির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১৮সালে বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চল ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়লে বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদী ও তুলশীগঙ্গা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ছোট যমুনা নদীর সেনপাড়া বাঁধের পাকা সড়ক প্রায় ১ কিলোমিটার ১ ফিট পানির নিচে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় প্রশাসন, চেয়ারম্যান মেম্বারদের সহযোগিতায় হাজার হাজার গ্রামবাসী দিনরাত পরিশ্রম করে বালির বস্তা মেরে তা রক্ষা করে কিন্ত বাঁধের কিছু ভাঙ্গন গুলোতে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভ্যাসে জানা যায়, ছোট যমুনা নদীর কদমগাছী বেরীবাঁধ, দেউলিয়া, দোনইল, ইদ্রাকপুর, তাজপুর, পারসোমবাড়ী, এনায়েতপুরসহ বাঁধের প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে মারত্মক ভাঙ্গন দেখা দিলে কোন রকমে রক্ষা করা হয়। কিন্তু সেই ভাঙ্গনের স্থান গুলোতে এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাঁধের উপর  রাস্তা গুলোদিয়ে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

ইদ্রাকপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বাছের আলী, মোকলেছার রহমান, ফারুক হোসেন, বেলালসহ অনেকে জানায় আমরা বিগত বন্যায় নিজ উদগে বাঁধটি কোন রকমে রক্ষা করেছি সরকার থেকে জরুরী ভাবে মেরামত করার প্রয়োজন।

বিলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর বাঁধ সংস্কার করার জন্য পানিউন্নয়ন বোর্ডকে অনেক বার জানানো হলেও কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেয়নি।

বালুভরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আয়েন উদ্দীন বলেন, আমার ইউনিয়নের বড় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে গত বন্যায় ভয়াবহ অবস্তা হয়েছিল এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষা করে এখন সেই ভাঙ্গনগুলো রোধের জরুরীভাবে ব্যবস্থ্য নেওয়ার হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবু তাহির বলেন কদমগাছীর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন রোধে আমি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁস, বস্তাও বালু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি রক্ষাকরি সরকারী ভাবে বরাদ্দ নিয়ে এ বাঁধটি সংস্কার করার দরকার। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি।

নওগাঁ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব পাপ্ত উপসহকারী মো. সাহাদত হোসেন বলেন, আমরা জানার পর ভাঙ্গন স্থান গুলো পরিদশন করেছি।

নওগাঁ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান মোবাইল ফোনে বলেন, আমরা এগুলো সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে এলে কাজ শুরু করা হবে।

এবিএন/হাফিজার রহমান/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ