তেঁতুলিয়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৩৫

যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধেনারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে গিয়ে মামলা দায়ের করেছে ফাতেমা বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূ। গত ১ সেপ্টেম্বর আদালতে গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে অভিযোগ করলে আদালত তেঁতুলিয়া থানাকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয়।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের খেরকিডাঙ্গী গ্রামের মজিবুল হকের মেয়ে ফাতেমা বেগমের সাথে একই ইউনিয়নের ফতুয়াপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে শহিদুল ইসলামের (৩২) সাথে গত ২০১৪ সালে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়েতে মেয়ে জামায়সহ সাংসারীক উন্নতির লক্ষে ২লক্ষ টাকার উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। তাদের ঘর-সংসার চলাকালিন সময় হঠাৎ শহিদুর ফাতেমার মাধ্যমে তার বাবার কাছ থেকে ১লক্ষ টাকার যৌতুক দাবি করে আসছিল। কিন্তু ফাতেমার বাবার আর্থীক অবস্থা এবং অভাব অনটনের কারণে তার পক্ষে টাকা দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ২ সন্তানের জননী ফাতেমার সংসার জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকারের ছায়া। শুরু হয় নানারকম ভাবে তার উপর শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন।

এসময় টাকা না পেয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন কোলের সন্তান কেড়ে নিয়ে তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে সে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিরা উভয় পক্ষকে ডেকে শালিশ বৈঠক করলেও কোন সমাধান হয় নি। গত ২৮ আগস্ট কোলের সন্তানকে দেখতে স্বামীর বাড়ি গেলে তাকে আবারো মারধর করে সন্তান কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মারপিটে অসুস্থ্য হয়ে বাড়ির বাইরে পরে থাকে সে। পরে আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাবার বাড়িতে খবর দিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। মাথায় গুরুত্বর আঘাত লাগার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে চিকিৎসক।

ফাতেমা বেগম জানান, স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন টাকার জন্য বিভিন্ন সময় আমাকে শারিরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিজ সন্তানদের দেখতে গেলে তারা আমার মাথা ফাঁটিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন চালায়। আমি এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

তেঁতুলিয়ার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি গত ৬ সেপ্টেম্বর রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে।


এবিএন/ডিজার হোসেন বাদশা/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ