ধুনটে পুলিশের ফিল্মি স্টাইলের অভিযানে প্রাণে বাঁচে স্ত্রী, স্বামী গ্রেফতার 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২০, ২০:১৪ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২০:২১

বগুড়ার ধুনটে পুলিশের ফিল্মি স্টাইলের অভিযানে প্রাণে বেঁচে গেছে রহিমা খাতুন (৩০) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। পুলিশের প্রায় ৩ঘন্টার কৌশল অভিযান শেষে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর জিম্মিদশা থেকে ৫ মাসের ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের মাজবাড়ি গ্রামে। এঘটনায় পুলিশ পাষন্ড স্বামী স্বামী পলাশ প্রামানিককে (৩৮) আটক করেছে।

জানাগেছে, ধুনট উপজেলার মাজবাড়ী গ্রামের দুলাল প্রামানিকের ছেলে পলাশ প্রামানিকের সাথে প্রায় ১২ বছর আগে নিমগাছী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক জিল্লার রহমানের মেয়ে রহিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া কলহ লেগেই থাকতো। দাম্পত্য জীবনে ৪ বছরের মাথায় রহিমা বেগমের কোল জুড়ে আসে পুত্র সন্তান নীবর। বর্তমানে ওই সন্তানের বয়স ৮ বছর। স্বামী পলাশ প্রামানিক অলসতার কারনে সংসারের ঘানি টানতে না পারায় সংসারের হাল ধরতে স্ত্রী রহিমা বেগম প্রায় ৩ বছর আগে কর্মের তাগিদে সৌদি আরবে যান। সেখানে  দুই বছর কাজ করে গত বছর ২০১৯ সালে দেশে ফিরে আসেন রহিমা বেগম। দেশে আসার পর স্ত্রী রহিমা বেগম সংসারের হাল ধরতে স্বামী পলাশ প্রমানিক কে গবাদি পশুর ব্যবসা করার জন্য কিছু পুঁজি দেয়।

কিন্তু পলাশের ব্যবসায়িক কাজে মনোযোগ না থাকায় পুঁজিতে ঘাটতি পড়তে থাকে। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরো কলহ বিবাদ বেড়ে যায়। এর মাঝে রহিমার পেটে আবারো সন্তান আসে। বর্তমানে সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এদিকে নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় রহিমা তার স্বামীর বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে পলাশ খুব ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। সে তার স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতে চায়। 

গত সোমবার (১০ আগষ্ট) দুপুর ১২ টার দিকে তার ছেলে নিরব ঘরের বাইরে গেলে পলাশ তার স্ত্রীকে ঘরে রেখে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। এরপর সে তার স্ত্রীকে খাটে শুইয়ে গলায় ধারালো ছুরি ধরে। স্ত্রী কান্নাকাটি শুরু করলে বাইরের লোকজন জানতে পেরে বাড়ির চারিদিক ঘিরে ফেলে। তারা পলাশকে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পলাশ কারো কথা না শুনে বার বার বলতে থাকে যে ''তোমরা চলে যাও। আমি রহিমাকে জবাই করে নিজে আত্মহত্যা করব''।

পরে স্থানীয় লোকজন ধুনট থানা পুলিশকে অবহিত করলে এসআই প্রদীপ কুমারের নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল সেখানে যায়। কিন্তু পলাশ কোন পুলিশ কর্মকর্তার কোন কথায় কর্ণপাত না করে রহিমার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলে। পরবর্তীতে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্ধু বালা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজিউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদক ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করতে থাকে।

তারা পলাশের সাথে বিভিন্নভাবে কথা বলে তাকে ব্যস্ত রাখে এবং ঘরের অন্যদিক দিয়ে সিঁধ কাটে। পরে রাত আটটার দিকে এক সাথে সিঁধ কাটা অংশ দিয়ে এবং দরজা ভেঙ্গে ফিল্মি স্টাইলে ঘরে ঢুকে পলাশকে ছুরিসহ আটক করা হয় এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রহিমা খাতুনকে উদ্ধার করা হয়। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজিউর রহমান বলেন, প্রায় ৩ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে স্বামীর জিম্মিদশা থেকে অন্তঃসত্ত্বা রহিমা খাতুনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাষন্ড স্বামী পলাশকে আটক করা হয়েছে। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

 

এবিএন/ ইমরান হোসেন ইমন/জসিম/অসীম রায় 


 

এই বিভাগের আরো সংবাদ