চিতলমারীতে সুদ কারবারীদের অত্যাচারের শিকার পান চাষি সঞ্জয় 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২০, ০০:৫৮ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ০১:২৮

‘বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পান চাষ করে খাই। হঠাৎ করে পানের বরাজে টাকার দরকার। অনেকের কাছে হাত পেতেছি। কোন ধার মেলেনি। বাধ্য হয়ে ক্ষেতের পান বাঁচাতে বড়গুনি গ্রামের শাহারু মন্ডলের কাছ থেকে শতকরা ৫ টাকা হারে ৩০ হাজার টাকা সুদে নিলাম। সতের মাস পরে ৪৬ হাজার টাকা পরিশোধ করতে গেলে ওরা গাছের সাথে বেঁধে আমার উপর মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতন করে। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে ৬ আগস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করি। তারপরেও প্রভাবশালী ওই সুদ কারবারী আমাকে হুমকি-ধামধি দিচ্ছে।’ আজ সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের এভাবেই নিজের উপর নির্মম নির্যাতনের বর্ণণা দিলেন পান চাষি সঞ্জয় কুমার মজুমদার (৪০)।

উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের বড়গুনি গ্রামের মৃত-হরসিত মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় কুমার মজুমদার আরো জানান, গত ২৫ জুন বিকেলে সুদে নেয়া ৩০ হাজার টাকার সুদসহ ৪৬ হাজার টাকা পরিশোধ করতে তিনি সুদ কারকারী শাহারু মন্ডলের বড়গুনি গ্রামের বাড়িতে যান। শাহারুকে ৪৬ হাজার দেয়ার পর সে আরও ৯ হাজার টাকা দাবী করে। তখন সঞ্জয় ৪ হাজার টাকা দিতে চাইলে শাহারু ও তার লোকজন তাকে (সঞ্জয়কে) সুপারি গাছের সাথে বেধে মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা গোপনাঙ্গে একাধিক আঘাত করে।

পরে সঞ্জয়ের বৃদ্ধা মা যশোদা মজুমদার তাকে নিয়ে গোপালগঞ্জ একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে তার গোপনাঙ্গে চিকিৎসকরা অস্ত্রপাচার (অপারেশন) করেন। প্রায় দেড় মাস সেখানে চিকিৎসা শেষে গত ৬ আগস্ট তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তারপরেও প্রভাবশালী ওই সুদ কারবারী শাহারু মন্ডল তাকে নানা হুমকি-ধামধি দিচ্ছেন। তার অব্যাহত হুমকিতে গোটা পরিবার ভয়ে তটস্থ হয়ে পড়েছে। 

এ ব্যাপারে শাহারু মন্ডলের বড় ভাই স্বপন মন্ডল সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সঞ্জয়ের গোপনাঙ্গে কোন আঘাত করা হয়নি। তবে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক জানান, মাদক ও সুদ কারবারীদের বিরুদ্ধে চিতলমারী থানা পুলিশ জেহাদ ঘোষণা করেছে। এ ধরনের কোন অভিযোগ তার কাছে পৌঁছায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বে সাথে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  

প্রসংগত, সুদ কারবারিদের নির্যাতনে চিতলমারীর কয়েক’শ পরিবার ভিটেমাটি, জায়গা-জমি ও গাড়ি-বাড়ি হারিয়ে আজ নিঃস্ব। এছাড়া সুদে কারবারিদের অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে বাপ-দাদার ভিটে-মাটি ফেলে বহু পরিবার পালিয়েছে। এছাড়া এখানে সুদের দেনার চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন কালশিরা গ্রামের ভাস্কার্য শিল্পী রাম প্রসাদ মালাকার, রুইয়ারকুল গ্রামের সনজিত ব্রক্ষ্ম, সুরশাইল গ্রামের মাওলানা হারুন। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই সুদখোরদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে স্কুল শিক্ষিকা হাসিকনা বিশ্বাস (৩৮) আত্মহত্যা করেছেন। 

 

এবিএন/এস এস সাগর /জসিম/অসীম রায়

এই বিভাগের আরো সংবাদ