ধুনটে যমুনার চরাঞ্চলে অর্ধশত ভাঙ্গনের কবলে 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২০, ০১:৪০

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। তাই বিধবা রহিমা বেগম তার দুই মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী বণ্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে। তাদের শেষ সম্বল বলতে বৈশাখী চরের স্বামীর বসতভিটা ও কয়েক শতক ফসলী জমি। বন্যার পানি নেমে গেলে আবারও চরের সেই কুড়ে ঘরে ফেরার স্বপ্ন রহিমা বেগমের। আবারও জমিতে ফসল ফলিয়ে বেঁচে থাকার লাড়াই চালাবেন তিনি। 

কিন্তু ভূমিদস্যুরা রহিমা বেগমের সেই স্বপ্নকে মুছে ফেলতে চলেছে। অর্ধশত ভাসমান ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে চলছে এখন বালু উত্তোলনের মহোৎসব। বন্যার পানিতে চরাঞ্চল ডুবে থাকায় ও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ভূমিদস্যুরা বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করছে। চরাঞ্চলে খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বিধাবা রহিমা বেগমের বসতবাড়ি ও ফসলী জমি। তবে শুধু রহিমা বেগমের বসতভিটাই নয়, তাদের মতো ছকিতন বেওয়া, চাঁন মিয়া ও লাল মিয়া সহ প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলী জমি বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ধুনট উপজেলার পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। বার বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম যমুনায় বিলিন হয়েছে বহু বছর আগেই। তাই অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে বাঁধ ও চরের উচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে বাসবাস করে আসছে। সম্প্রতি যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চল। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বৈশাখী চরের বসবাসকারী প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের মধ্যে অনেক পরিবার চরের উচু স্থান এবং অন্য পরিবারগুলো শহড়াবাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা। তারা প্রায় অর্ধশত লঞ্চ ও নৌকার সাথে ড্রেজার মেশিন 
  
লাগিয়ে ভাসমানভাবে যমুনার চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করে নদী পথে বিক্রি করে আসছে। বৈশাখী চরের কৃষক আজিজার রহমান ও চাঁন মিয়া জানান, বন্যার কারনে চরের অনেক পরিবার বণ্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এই সুযোগে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী, রফিক শাহ ও ইস্তেনুর রহমান সহ আরো কয়েক ব্যক্তি যমুনার চঞ্চলে ভাসমান ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে নদী পথে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছে। এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে বন্যার পানি কমে যাওয়ার 

সাথে সাথে চরাঞ্চলের ফসলী জমি ও ঘরবাড়ির কোন চিহ্নও পাওয়া যাবে না। তবে বালু ব্যবসায়ী হয়রত আলী বলেন, নদীতে আমার কোন ড্রেজার মেশিন নেই। তবে অনেক দিন আগে বালু উত্তোলন করেছিলাম। সেই বালুই এখন বিক্রি করছি।

এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, নদীর চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এক্ষেত্রে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করবে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (এইএনও) সঞ্জয় কুমার মোহন্ত বলেন, যমুনার চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করা হলে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


এবিএন/ইমরান হোসেন ইমন/জসিম/অসীম রায় 


 

এই বিভাগের আরো সংবাদ