মেলান্দহে মায়ের পরকিয়া, মেয়ে সাক্ষী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২০, ০১:০৮

জামালপুরের মেলান্দহে মায়ের পরকিয়ার বর্ণনা দিলো মেয়ে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী মাইশা খাতুন (১০)। ঘটনাটি ঘটেছে কুলিয়া  ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামে। জানা গেছে, ১০/১২ বছর আগে ভালুকা গ্রামের আসাদুজ্জামান তারা মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (৩৫)’র এবং জামালপুর পৌরসভার তেতুলিয়া গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে লাভলীর (৩০) বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তাদের ঘরে এক ছেলে লাবিব ( ১বছর ৬ মাস), মেয়ে মাইশা (১০) জন্ম নেয়। ওদিকে বিয়ের আগেই লাভলীর সাথে ভালুকা গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে আঃ মান্নান রতনের মধ্যে গোপন প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরকিয়া চলতে থাকে। লাভলীর স্বামী মজনু মিয়া জীবিকার টানে ঢাকায় গার্মেন্টসের চাকরি নেয়। 

এ সুযোগে লাভলী ও রতনের মধ্যে চলে গোপন অভিসার। লাভলী ও রতনের আপত্তিকর দৃশ্যটি দেখে চিৎকার দেয় লাভলীর মেয়ে মাইশা (১০)। রতনকে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে মা লাভলী বেগম। ওই সময় মা লাভলী তার মেয়ে মাইশাকে গলাটিপে এবং বালিশ চেপে হত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি বাইরে জানাজানি হয়। এ নিয়ে রতন ও লাভলীর শ^শুরালয়ের লোকদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়। কিছুদিন পর আবারো লাভলী-রতনের গোপন অভিসারের দৃশ্যটি মেয়ে মাইশা দেখে ফেল্লে চারদিকে হইচই পড়ে যায়। লাভলীর বড় ভাইয়ের শাশুড়ী খুকি বেগম (৫০) জানান-সর্বশেষ ২৯ জুলাই রাত ৮টার দিকে লাভলীর শ^শুরালয়ের লোকজন আমাকে এবং আমার স্বামী আবু বক্করকে (৬০) জানায়। আমরা লাভলীর কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে লাভলী কোন উত্তর দেয়নি। 

এরপর আমরা চলে আসার পর ওই রাতেই লাভলী স্বামীর বাড়ি থেকে রতনের সাথে পালিয়ে যাবার সময় টনকি বাজারের পাহারাদারদের হাতে ধরা পড়ে। পরে চেয়ারম্যান আঃ সালাম এবং স্থানীয়দের কথায় আমাদের বাড়িতে লাভলীকে রেখে যায়। পরে লাভলীকে তার বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। 
লাভলীর শ^শুর আসাদুজ্জামান তারা মিয়া (৮০), ভাসুর আনোয়ার হোসেন (৪০), আবুবক্কর পাগারো (৬৫), মুজিবুর রহমান (৫৫)সহ গ্রামবাসি জানান-শুনেছি লাভলী এবং রতনকে মোটরসাইকেলসহ টনকি বাজারের পাহারাদাররা আটক করে। পাহারাদারদের চোখে ফাকি দিয়ে রতন দ্রুত পালিয়ে যায়। চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে এলাকাবাসি ঘটনাস্থলে যাই।

ওদিকে মায়ের অপকর্মের প্রত্যক্ষদর্শী মেয়ে মাইশা (১০)সহ প্রতিবেশিরা জানিয়েছে-অপকর্ম শেষে পালিয়ে যাবার সময় মনের অজান্তেই রতনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি লাভলীর বিছানায় রেখে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই রতন গা ঢাকা দিয়েছে। মোবাইলে একাধিক নাম্বার থেকে লাভলীর কাছে রতনের প্রেরিত এসএমএসে উল্লেখ, এটাতো ১৪ বছর আগের সম্পর্ক এটা নতুন নয়। হে তাই করলাম, ভাবলাম তোমার ছেলে মেয়ে ঘুমাইলে এসএমএস দিবো। ঠিক আছে তাই করবো কাল রাতেই কথা শেষ করবো। যদিও আসবে (লাভলীর স্বামী) বৃহস্পতিবারে। বুধবার ছুটি পাবে তাহলে দেখ কয় ঘন্টা আছে। তোমার মিন্স হইতাছে কি? সর্বশেষ গত ২৮ জুলাই/২০২০ মিলন মেম্বারের ০১৭১৮৯০৩৮৭১ নম্বর থেকে ০১৮৩৩২৯০১৯৭ নম্বরে প্রেরিত এসএসে উল্লেখ, মোবাইল নিতে মজনুর বাড়িতে যাওয়া চলবে না। 

কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও টনকি বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আঃ সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন-আটককৃত মেয়েকে স্বজনদের কাছে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান-আমার ভাতিজা রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। মজনুর কাছে রতনের পাওনা ১ লাখ টাকা না দিতে এমন ষড়যন্ত্র করছে। রতনের বাড়িতে গিয়ে কাওকে না পেয়ে; কথা হয় মিলন মেম্বারের সাথে। তিনি জানান-এ সকল ঘটনার কিছুই জানি না।


এ ব্যাপারে লাভলীর স্বামী মজনু গোলাম মোস্তফার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-আমার অনুপস্থিতিতে লাভলী পরকিয়ার টানে রতনের সাথে চলে যাবার সময় আমার সংসারের ২ লাখ টাকা এবং গহনাও নিয়ে যায়। এখন আমি চরম নিরাপত্তাহীনে আছি। গ্রামের কিছু টাউট-বাটপার উল্টো আমাকে ফাসানোর পায়তারা করছে। শুনতেছি অপকর্মের প্রত্যক্ষদর্শী আমার মেয়ে মাইশাকে যে কোন সময় খুন-গুমসহ আমার বাড়ি লুটতরাজ কিংবা বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটাবে। থানায় কোন মামলাও নিতে দিবে না বলে হুমকী দিচ্ছে। আমি পুলিশ সুপার বরাবরে প্রতিকার চেয়েছি।

 

এবিএন/মো. শাহ্ জামাল/অসীম রায়/জসিম 

এই বিভাগের আরো সংবাদ