ফরিদপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৪৬৩: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২০, ১৯:৪৪

ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় করোনা ভাইরাস সন্দেহে বিদেশ ফেরত মোট ৪৬৩ জন কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন। এছাড়া দ্রব্যমূল্য  নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি রয়েছে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায়  সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এসএম খবিরুল ইসলাম, ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইদুর রহমান, ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী, ডেপুটি সিভিল সার্জন খালেদুর রহমান, ফরিদপুর চেম্বারের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

ফরিদপুরে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ^ব্যাপী প্রাদূর্ভাবের পর দেশব্যাপীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুজবেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

এরই মাঝে আতঙ্কিত মানুষ ঘরে নিত্য পণ্যের মজুদ গরে তুলতে বাজারে কেনাকাটার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এই সুযোগে দ্রব্যমূল্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে হু’হু করে। শুক্রবার ফরিদপুরের জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বাজারেও মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রয়োজনের অধিক কিনতে দেখা গেছে। সংকটকালীন সময়ের জন্য মজুদ গড়ে তুলতেই তাদের এ প্রবণতা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধা হতে এ প্রবণতা শুরু হয়। আর বৃহস্পতিবার সন্ধায় তা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

একই অবস্থা দেখা যায় শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, টেপাখোলা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারেও। কাঁচামালের দামও এক লাফে দ্বীগুন হয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে শুক্রবার সকালে ৩০ টাকার পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাড়ায় ৬৫ টাকা কেজি দরে। বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি গড়ে ৫ টাকা দরে। বস্তা প্রতি ৩শ’ টাকা বেড়ে গেছে এ দাম। শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা পর্যায়েও একই দশা।

এ প্রেক্ষিতে ফরিদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল মেখ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ জাকির হোসেন শুক্রবার দুপুরে হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে একটি ভ্রাম্যমান চালিয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করায় দুইশ টাকা জরিমানা করেছেন। জেলা বাজার কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার শহরের টেপাখোলা ও শহরতলীর কানাইপুরে চারটি দোকানে পণ্য বেশি দামে বিক্রি করায় চার ব্যবসায়ীকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ফরিদপুরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলছেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে এসব পণ্যের মজুদ গড়ছে। আই এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেবে এটিই স্বাভাবিক। আর পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। বাজারে এসব নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি মাস্ক, গ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের সংকট বিরাজ করায় ক্রেতারা উচ্চ মূল্যেই সেসব কিনছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি হয়নি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করবেন না। বাজার পরিদর্শনে কাউকে অনিয়ম বা অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকতে দেখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় চরযশোরদী ইউনিয়নের শ্রীবরদি গ্রামের আজিজুল ইসলাম (৪০) কে ১০ হাজার টাকা ও ফুলসূতি ইউনিয়নের হিয়াবলদী গ্রামের মজিবর রহমানক (৩৭) কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেতী প্রু আদালত পরিচালনা করেন। ফরিদপুরের বোয়ালমার তে উপজেলার হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মানায় মালয়েশিয়া ফেরত এক প্রবাসীকে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী পৌর সদরের কলেজ রোডের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রবাস ফেরতদের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক এ নির্দেশনা অমান্য করে সরকারি কলেজ রোডে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রবাস থেকে ফেরত আসার বিষয়টি স্বীকার করেন। হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মানায় দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আদালত পরিচালনা করেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঝোটন চন্দ। এ সময় আব্দুর রাজ্জাক ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার মুচলেকা দেন।
    

এবিএন/কে এম রুবেল/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ