উদ্ভাবিত বার্লি জাতের উৎপাদন কর্মসূচীর উপর ফরিদপুরে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২০, ২০:১৭

উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), গাজীপুর কর্তৃক আয়োজিত সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বারি, ফরিদপুর এর সহযোগিতায় ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামে বারি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়া উপযোগী বার্লি জাতের উৎপাদন কর্মসূচীর উপর সোমবার বিকেলে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত্ব করেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই, ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহম্মেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মসলা গবেষণা উপকেন্দ্র, ফরিদপুরের ঊর্ধবতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলাউদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ, গাজীপুরের ঊর্ধবতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.মোতাছিম বিল্লাহ এবং ফরিদপুর সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মো. আবুল বাশার মিয়া।

আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মেম্বার জনাব আব্দুল কুদ্দুস। সমাবেশে সংশ্লিষ্ট গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে আগত অর্ধশতাধিক চাষী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সগবি, বারি, ফরিদপুরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বৈজ্ঞানিক সহকারীবৃন্দ এবং স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সগবি, ফরিদপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, এ.এফ.এম. রুহুল কুদ্দুস।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন সাধারণত খরাপীড়িত চরাঞ্চলের অনুর্বর জমিতে স্বল্প ব্যয়ে যব বা বার্লির চাষ করা হয়। বার্লি দিয়ে শিশু খাদ্য, ওভালটিন, হরলিক্স প্রভৃতি সুস্বাদু খাদ্য তৈরী হয়। পুষ্টিমানের দিক থেকে বার্লি গমের চেয়ে উন্নত। ডায়াবেটিস রোগী এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বার্লি একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ পথ্য। বাংলাদেশে মোট বার্লি জমির পরিমাণ প্রায় ৩০০ হেক্টর এবং মোট উৎপাদন প্রায় ২৫০ মে. টন। বর্তমানে রবি ফসলের চাষ বিস্তারের ফলে বার্লির জমির পরিমাণ কমছে।

এছাড়াও স্থানীয় জাতের কমফলনশীল জাত ব্যবহার করার দ্বারা হেক্টর প্রতি ফলন হয় মাত্র ৮১০ কেজি বা শতাংশে ৩ কেজির উপর। পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় সাধারণভাবে খরা এবং উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে গমের চেয়ে বার্লি বেশী সহনশীল। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বার্লির উপযুক্ত জাত বাছাই পরীক্ষা করার জন্য বারি বার্লি-৫, ৬ ও ৭ জাত দ্বারা ফরিদপুরে উপযোগিতা পরীক্ষণ করা হয়। বারি বার্লি-৫ জাতটি আগাম পরিপক্কতা বিশিষ্ট, প্রতি শীষে ৬০-৬৫ টি দানা থাকে, বীজ খোসাযুক্ত, জীবন কাল ৯৫-৯৮ দিন এবং উপযুক্ত পরিবেশে গড় ফলন ২.৫০-৩.০০ টন/হেক্টর। বারি বার্লি-৬ জাতটি শক্ত কা- বিশিষ্ট, সহজে নুয়ে পড়ে না, প্রতিটি শীষে ৪৮-৬৫ টি বীজ থাকে, বীজ খোসামুক্ত, জীবনকাল ৯৮-১০২ দিন, রোগবালাই কম, দানা বড় ও সোনালী বর্ণের এবং উপযুক্ত পরিবেশে গড় ফলন ২.৫০-২.৭৫ টন/হেক্টর।

বারি বার্লি-৭ জাতটির দানাগুলো খোসামুক্ত, প্রতিটি শীষে দানার সংখ্যা ৩৮-৪৮, লবণাক্ত এলাকায় হেক্টর প্রতি ফলন ২.০০-২.৫০ টন/হেক্টর। অনুষ্ঠানে আগত কৃষক কিষাণীরা বিভিন্ন জাতের বার্লির উৎপাদন প্লট পরিদর্শণ করেন এবং জাতগুলোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা আধুনিক জাতের উচ্চ ফলনশীল বার্লির বীজ প্রাপ্তিতে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণকর্মীদের অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে পরিবর্তনশীল জলবায়ু মোকাবেলায় উপযোগী বার্লির জাত ব্যবহারের প্রতি  গুরুত্ব আরোপ করেন ও আধুনিক উচ্চ ফলনশীল বার্লির জাত আবাদের জন্য কৃষকের প্রতি আহবান করেন।


এবিএন/কে.এম রুবেল/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ