কালীগঞ্জ সমাজসেবা কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘সাংবাদিকের কাছে গেছেন, আপনার বিধবা ভাতা হবে না’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৭

“আবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে গেছেন, আপনার বিধবাভাতা হবে না, এই ড্রয়ারের মধ্যে রাখলাম, এটা আর আলোর মুখ দেখবে না” এভাবে দম্ভোক্তি প্রকাশ করে ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক নারীকে তাড়িয়ে দিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কৌশিক খান। আর কাঁদতে কাঁদতে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন বয়স্ক নারী ভবানী দাসী। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে।

জানাগেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের শিবগনর গ্রামের স্বর্গীয় সূর্যকান্ত দাসের স্ত্রী ভবানী দাসী একটি বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছে ধর্ণা দিয়ে আসছিলেন। পরিবারের উপার্জন করার তার কেউ নেই। স্বামী মারা গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে। এরপর ভিক্ষাবৃত্তি ও মাঝে মধ্যে পরের বাড়িতে কাজ করে কোন রকম জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। কোন উপায় না পেয়ে তিনি ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিধবা ভাতা কার্ড পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা আবেদন পত্রে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমাজ সেবা অফিসারকে নির্দেশ দেন।

ওই বয়স্ক নারীর অভিযোগ, আবেদন যাচাই বাছাই করতে আসা সমাজ সেবা দপ্তরের এক মাঠ কর্মী স্থানীয় এক যুবকের মাধ্যমে তার কাছে ৫শ টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে পারেননি। যার কারনে তার বিধবাভাতার কার্ডটিও হয়নি।

কোথায় কোন কাজ না হওয়ায় অবশেষে এলাকাবাসীদের ধরে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে আবেদনটি নিয়ে আসেন ভবানী দাসী। স্থানীয় সাংবাদিক মুঠোফোনে সমাজ সেবা কর্মকর্তা কৌশিক খানকে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন। পরে ভবানী দাসী আবেদন নিয়ে পুনরায় সমাজ সেবা অফিসে গেলেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান ওই কর্মকর্তা। দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে গেছেন, আপনার বিধবাভাতার কার্ড আর কোনদিন হবে না, ড্রয়ারের মধ্যে রাখলাম, এটা আর আলোর মুখ দেখবে না।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কৌশিক খান বলেন, যাচাই বাছাই শেষ হয়ে গেছে। আর কোন সুযোগ নেই। আর তদন্তে গিয়ে কেউ যদি টাকা দাবি করে নাম বলুন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে চলতি বছর স্বচ্ছতার ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে যাচাই বাছাই হয়েছে। যদি কেউ টাকা চেয়ে থাকে তাহলে আমার কাছে অভিযোগ করতে বলেন। আমি ব্যবস্থা নিব। সাংবাদিকদের নিয়ে কটু কথা বলার বিষয়ে তিনি বলেন এমনটি হলে দুঃখজনক।  

উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু বলেন, আবেদন নিয়ে ওই বয়স্ক নারীকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন আমি বিষয়টি দেখবো।
উল্লেখ্য কালীগঞ্জে ৬ জন মৃত ব্যক্তিসহ ২০ ব্যক্তির নামে ভুয়া ঋণ উত্তোলন করে কালীগঞ্জ সমাজ সেবা অফিস। সম্প্রতি এ খবর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টির তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রেজাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এতেই সমাজ সেবা কর্মকর্তা কৌশিক খান ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের নিয়ে কটু কথা বলে বেড়াচ্ছেন।
 

এবিএন/নয়ন খন্দকার/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ