শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব সহ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধন করলেন চসিক মেয়র

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ২০:২২

হালিশহর আহমদ মিয়া সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়ের নতুন ভবণসহ শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং পাঠানটুলি সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবণ উদ্বোধন করলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন। আজ রবিবার বিকেলে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ফলক উম্মোাচন করেন সিটি মেয়র। জাইকার অর্থায়নে এই বিদ্যালয় দু’টির নতুন ভবণ নির্মিত হয়। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত নতুন ভবণ দুটি নির্মানে ব্যয় হয়েছে ১২কোটি ৫২লক্ষ ৮৫হাজার টাকা। তম্মধ্যে হালিশহর আহমদ মিয়া সিটি কর্পোরেরেশন ৬তলা বিশিষ্ঠ ভবণ নির্মাণে ৭কোটি ২৩লক্ষ ৩৬হাজার আর পাঠানটুলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জন্য ভবণ নির্মানে ৫ কোটি ২৯লক্ষ ৪৯ হাজার  কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে ।

 হালিশহর আহমদ মিয়া সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ২৪ হাজার বর্গফুট ও পাঠানটুলি সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয় ২২ হাজার ৮শত বর্গফুটের  আয়তনের মধ্যে  নব নির্মিত ভবনে  রয়েছে পার্কিং,৬০ হাজার লি. বিশিষ্ট বিশুদ্ধ পানীয় জলের রেইন ওয়াটার হার্ভেজিং প্লান্ট, দূর্যোগকালীন সময়ে নিরাপদে প্রতিবন্ধী এবং গবাধি পশুর অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র, কেন্টিন,প্রশাসনিক কক্ষ,  আধুনিক শ্রেনী কক্ষ,অধ্যক্ষ রুম ও শিক্ষক রুম,  টয়লেট ব্লক, ১৬ জন ধারনক্ষমতা সম্পন্ন লিফট এবং  আধুনিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বিজ্ঞানাগার(পদার্থবিদ্যা,রসায়ন ও জীববিদ্যা), কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরী, ১ শয্যা বিশিষ্ঠ ফাষ্টএইড মেডিকেল রুম, ২ কেবি বিশিষ্ট জেনারেটর, ১২শ ওয়ার্ট বিশিষ্ট সেলার বাতি, মিলনায়তন, একাউন্টস্, ইনডোর গেম সহ সুপ্রস্থ বারান্দা বহুমুখী সুযোগ সুবিধা। নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পৃথক পৃথক  সমাবেশে সিটি মেয়র বলেন,   চসিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ছিল। আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রকৌশল ও জাইকা’র অর্থায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মাত ও আধুনিকায়নের কাজ করছি। এর মাধ্যমে কর্পোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছে।  

মেয়র বলেন, মানুষের ভেতরে যে সুপ্ত প্রতিভা, সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে তা শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। সেই শিক্ষার আলো সমাজকে আলোকিত করতে পারে। এ লক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মেয়র আরো বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, স্নাতক ডিগ্রী ক্লাশ ও অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা  করে আসছে। নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকা দিয়েই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ পরিচালিত হচ্চে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গুণীজনদের নামে রাস্তা নামকরণ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন বীর চট্টগ্রামের মানুষ তাদের প্রয়াত গুণীজনদের সবসময় শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন। ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের সেরা সন্তান, তাঁদের কারণে আমরা সুন্দর দেশ পেয়েছি। আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে দেশপ্রেমে আরো গভীরে নিতে হলে প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধাসহ গুণীজনদের অতীতকে স্মরণ করতে হবে। তিনি বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গুণীজনদের সম্মান দিতে জানে । বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস ও একুশে বইমেলাসহ জাতির গুরুত্ব¡পূর্ণ দিনগুলোকে উপলক্ষ্য করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দেশ বরেন্য ব্যক্তিত্বদের সম্মান দিয়ে যাচ্ছে। এতে কর্পোরেশনের সুনাম দেশে বিদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন পাঠানটুলী  ও মধ্যম হালিশহর জনঅধ্যুষিত এলাকা। এই আমলেই অত্র এলাকার রাস্তাঘাট নালা-নর্দমা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ  সম্পন্ন হয়েছে ও চলমান রয়েছে।  এই প্রসঙ্গে তিনি দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা এবং পাঠানটুলী ওয়ার্ডে প্রায় ৫১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন, দশ বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলো, যা আজ বাস্তবায়নের পথে। এখন আমরা স্কুল-কলেজের ভর্তি,ফলাফল,হাজিরা,বেতন জমাকরণ ও দাপ্তরিক কাজসহ প্রায় সব বিষয়ে ডিজিটাইলজ করতে সক্ষম হয়েছি। শুরু করতে পেরেছ নিজস্ব ডিজিটাল অটোমেশন পদ্ধতি। যা শুধুমাত্র  ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে সম্ভব হয়েছে। আধুনিক  যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদেরকে ডিজিটাল হতে হবে। আমাদের এই ডিজিটাল ল্যাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও শিক্ষার্থীদের মেধা গঠনে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে। যা সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধিনে এই ডিজিটাল ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে মেয়র পাঠানটুলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের  এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান সহ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা সংগীত পরিবেশন করে।

পাঠানটুলী সি.ক বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে  স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল কাদের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফেরদৌসী আকবর, ,চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, জাইকার কনসালটেন্ট মাহবুব আলম, চসিক নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, সহকারি প্রকৌশলী মজিবুল হায়দার,পাঠানটুলী সি.ক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন  স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল কাদের। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক নিজামুল হক শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহেদ আহমেদ, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, রাজনীতিক আবদুর রশীদ লোকমান, অভিভাবক সদস্য সাঈদুল আলম বুলবুল,হালিমা বেগমসহ শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরস্থ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়  বিশেষ অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফরোজা কালাম, চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোমা বড়–য়া,বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের  সদস্য মো. কামাল উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী অসিম বড়ুয়া, সিনিয়র শিক্ষক সরোয়ার জামান বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনায় ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল। এসময়  চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের  সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, মানবাধিকার কমিশন বন্দর শাখার সভাপতি হাজী মোজম্মেল হক,  তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোছাইন, মো. আবু সালেহ, মো. মনিরুল হুদা সহ জাইকার প্রতিনিধি এবং  শিক্ষক,শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ  উপস্থিত ছিলেন।
 

এবিএন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ