সন্ধ্যায় হঠাৎ ‘আগুন-আগুন’ চিৎকার শুরু হয়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০১:১১

ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা সাতটা। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাঁশেরবাদা গ্রামে হঠাৎ লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। এ সময় ‘আগুন-আগুন’ চিৎকার দিয়ে কয়েকজনকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাঁশেরবাদা গ্রামের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ওই তিন পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করতে পারেনি।

এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তরা যখন খোলা আকাশের নিচে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে হতবাকের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ালেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই তিনটি অসহায় পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

ভুক্তভোগী ওই তিনটি পরিবারের বরাত দিয়ে সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতালেবুর রহমান মিনহাজ ফকির জানান, বাঁশেরবাদা গ্রামে সন্ধ্যায় হঠাৎ ‘আগুন-আগুন’ চিৎকার শুরু হয়। ভয়াবহ এই আগুনের হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেলেও তিনটি পরিবারের বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের সমস্ত আসবাবপত্রসহ গবাদিপশু আগুনে পুড়ে প্রত্যেকের প্রায় ১ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সন্টু প্রাং (৫৫) বলেন, ‘পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে আর কিছুই রইল না। ঘরের সব পুড়ে গেছে। আগুন পথের ফকির বানিয়ে দিয়েছে আমাদের।’

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান বলেন, খবর পেয়েই তিনি অসহায় ওই পরিবার তিনটির পাশে ছুটে আসেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০ কেজি শুকনো খাবার, তীব্র শীতের কষ্ট দূর করতে ২০টি গরম কম্বল দেওয়া হয় তাদের। পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে তাদের টিন ও নগদ অর্থ অনুদান দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ইউএনও বলেন, তিনটি অসহায় পরিবারের মধ্যে একটি পরিবারের সকলেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। ঈশ্বরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ‘প্রতিবন্ধী ভাতা’ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ