ব্লগার শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকারী বন্দুকযুদ্ধে নিহত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০১৮, ১৫:১৮

মুন্সীগঞ্জ, ২৮ জুন, এবিনিউজ : মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক ও ব্লগার শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকারী আব্দুর রহমান (৩৪) বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত ১টায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার বালুরচর ইউনিয়নের খাসমহল এলাকায় সে নিহত হয়।

আব্দুর রহমানের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার ঢাকাইয়া পাড়া বলে জানায় পুলিশ। তার পিতার নাম হোসেন আলী।

আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতো বলে পুলিশ জানায়। সে কখনো লালু, সাঈদ, আক্কাস এবং কাউসার নাম ব্যবহার করতো। পুলিশ জানায় আব্দুর রহমান ১টি হত্যা মামলাসহ তিনটি ডাকাতি মামলায় জড়িত ছিল।

পুলিশ আরো জানায়, তিনবছর পূর্ব থেকেই শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যা করার জন্য সে এবং তার সঙ্গীরা পরিকল্পনা করে আসছিল।

উল্লেখ্য, গত ১১ই জুন সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার পূর্ব কাকালদি পাগলার ব্রীজের কাছে শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকা-ের পর থেকেই পুলিশের চারটি বিশেষ টিম হত্যাকারীদের ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ জুন ভোরে মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশের একটি টিম এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) পুলিশ হেড কোয়াটার্স ইন্টেলিজেঞ্জ উইং, বগুড়া জেলা পুলিশ এবং গাজীপুর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের আলহেরা হাসপাতালের পেছনে একটি দ্বিতল বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, আব্দুর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে তারঘরের আলমিরার ড্রয়ারের নিচ থেকে ২টি ৭.৬৫ পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি এবং রান্নাঘরের তাক থেকে ৪টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। সে শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে।

পুলিশ জানায়, আব্দুর রহমান ঢাকা বিভাগের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সামরিক কমান্ডারের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। এ সংগঠন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরণের টার্গেট কিলিং এবং অর্থসংগ্রহের জন্য সে এবং তার সঙ্গীরা বিভিন্ন ধরণের ডাকাতির ঘটনা ঘটাত বলেও তিনি জানান।

প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আরো বলেন, সিরাজদিখান এলাকার বালুরচর ইউনিয়নের খাসমহল এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বাচ্চু হত্যা কান্ডের ঘটনার পরিকল্পনা করে সে। তার তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ জুন রাত ১টার দিকে উক্ত বাসায় তল্লাশি শেষে ফেরার পথে তার সহযোগিরা গুলি করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে।

এ সময় আব্দুর রহমান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক পর্যায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে যায়। গোলাগুলি শেষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ সময় পুলিশের এ.এস.আই বেলাল উদ্দিন, এ.এস.আই হাসান সানজারি ও কনস্টেবল মোশারফ হোসেন আহত হয়। তাদের সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হলে এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদেরকে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬৫ পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ৯ রাউন্ড গুলি এবং একটি লাল রঙ্গের পালসার মোটর সাইকেল জব্দ করে বলে প্রেসব্রিফিংয়ে জায়েদুল আলম পিপিএম জানায়। প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জান, ডিআইও-১ মো. নজরুল ইসলাম, সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন ও ডিবি ওসি মো. ইউনুচ।

নিহত শাহজাহান বাচ্চুর স্ত্রী আফসানা জাহান তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, স্বামী হত্যার বিচার পেয়ে আমি অত্যন্ত স্বস্তিবোধ করছি। এজন্য পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে বাকি যারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আছে তাদেরকে যেন দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।

এবিএন/আতিকুর রহমান টিপু/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ