তিন বছর পর হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৩৮

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া শহিদুল ইসলাম (৩২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামি হায়াত আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হায়াত আলী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুর উপজেলার করশালিকা পুরানপাড়া গ্রামের গেদু শেখের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ মামলার ১ নম্বর আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের পাবনা জেলা শাখা।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পাবনা জেলা শাখার প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কান্তি চৌধুরী জানান, প্রবাসী ঠান্ডু মোল্লার স্ত্রী ছালমা খাতুন কয়েক বছর আগে ময়মনসিংহে তার বাবার বাড়িতে থাকাকালীন শহিদুল ইসলামের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এই অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরে ছালমার ওমান প্রবাসী স্বামী ঠান্ডু মোল্লা অনেক ক্ষুব্ধ হন। এরপর দেশে ফিরে এসে তিনি স্ত্রীর কাছে সব জেনে শহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ দিকে, ছালমাও নিজের সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামীকে সহযোগিতা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর শহিদুল ইসলামকে ময়মনসিংহ থেকে কৌশলে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় নিয়ে আসেন ছালমা। এরপর সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চতুর বাজার এলাকায় ছালমা তার সঙ্গে গল্প করতে থাকেন। এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠান্ডু তার দুঃসম্পর্কের চাচা হায়াত আলীকে সঙ্গে নিয়ে শহিদুলকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীকালে ওই বছরের ১৭ অক্টোবর হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহিদুলের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর নিহতের ভাই পাহাড়ী রাজু বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করেও পুলিশ এই মামলার কোনো সুরাহা করতে পারেনি। এরপর সাঁথিয়া থানা থেকে মামলাটির তদন্তভার পাবনা সিআইডিকে অর্পণ করা হয়। পরবর্তীকালে সিআইডি এই মামলার তিনজন আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে হায়াত আলী এবং ঠান্ডু মোল্লাকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ দিকে, বাদী পক্ষ এতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে বিজ্ঞ আদালতে তার আপত্তি পেশ করে। পরে আদালত এই মামলার পুনঃতদন্তভার পাবনা পিবিআইয়ের ওপর অর্পণ করেন।

পিবিআইয়ের প্রধান মামলাটির তদন্তের নির্দেশনা পেয়ে এসআই মো. সবুজ আলীর ওপর তদন্তভার অর্পণ করেন। পরবর্তীকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সবুজ আলী অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন।

পরে পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কান্তি চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তারা এই মামলার মূল আসামিকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। শেষ পর্যন্ত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে মামলার ১ নম্বর আসামি হায়াত আলীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তারা। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পুরা রহস্য উন্মোচিত হয়।

এ দিকে, গ্রেফতারের পর হায়াত আলী জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মামলার ঘটনার পরপরই আসামি ঠান্ডু মোল্লা বিদেশে পালিয়ে যান। তিনি বর্তমানে ওমানে পলাতক রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেফতার হায়াত আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞ আদালতে ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সবুজ আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতার এরাতে হায়াত আলী কৌশলে দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মামলার অপর আসামিদেরও শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মামলার বাদীর এজাহার ও পাবনা সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঠান্ডু মোল্লা শহিদুল ইসলামকে চার লাখ টাকা দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ