কারসাজি করে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম: বললেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:০৬

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজাকারের তালিকায় ত্রুটির কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ওরা (বিএনপি জামায়াত সরকার) ৩০ বছর ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় থাকার সময় হয়তোবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাখা কাগজপত্র কারসাজি করে রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লিখে রেখেছে। এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। সে কারণে ভুলটা হয়ে গেছে। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল দুঃখপ্রকাশ করে এসব কথা বলেন। মা‌নিকগঞ্জ বিজয় মেলা মাঠে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এই সমাবেশের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, দুই চারজন মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় আসায় তাঁরা দুঃখ পেয়েছেন। আমার নাম এই তালিকায় এলে যেমন কষ্ট পেতাম, তালিকায় তাদের নাম আসায় একই কষ্ট পাচ্ছি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকলে আমরা অচিরেই যাচাই বাছাই করে সে নাম গুলো প্রত্যাহার করে নেব। তবে রাজাকার, আল বদর ও আল শামসদের নাম থাকবেই। পরবর্তীতে যে তালিকা প্রকাশ করা হবে, সেগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে আর যেন ভুল না হয়, তা আমরা যাচাই বাছাই করে প্রকাশ করব।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এই তালিকায় ইচ্ছাকৃত ভুল ছিল না। রাজাকারদের তালিকায় যাদের নাম ছিল, তা সঠিক ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল। এ কারণে যাচাই বাছাই না করেই তালিকা প্রকাশ করায় আমরা এই হোঁচট খেয়েছি। কাজ করতে গেলে ভুল তো হতেই পারে। ৬৪ জেলার ৪৬০টি উপজেলার যে সম্পূরক তালিকা আসবে, পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। ত্রুটিপূর্ণ তালিকা মন্ত্রণালয়ের নিজ উদ্যোগে সংশোধন করা হবে। আমি জানি, বল্লার (মৌমাছি) চাকে আমি হাত দিয়েছি। রাজাকার, আল বদর ও আল শামসদের তালিকা প্রকাশ করেছি। সংগত কারণেই একটা বিশেষ শ্রেণি ক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন ৪৮ বছর পর রাজাকারদের তালিকা করার কী দরকার? তাঁরা তো বলবেই। কারণ, তাদের আঁতে ঘা লাগে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আজ নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস ভুলতে বসেছে। আমাদের বইপুস্তকেও তা ঠিকমতো উল্লেখ নেই। বারবার আমি দাবি করে এসেছি, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা উল্লেখ করলেই চলবে না, পাকিস্তানি বাহিনী ও দোসরদের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা না জানলে নতুন প্রজন্ম তা বিচার বিশ্লেষণ করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করে গেছেন।

অনুষ্ঠা‌নে মুক্তিযুদ্ধা জেলা কমান্ডার তোবারক হোসেন খান লুডুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রা‌খেন  শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান হানজালা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মজিদ প্রমুখ।

 

এবিএন/মো: সো‌হেল রানা খান/জসিম/বাবর

এই বিভাগের আরো সংবাদ