প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প এসডিজি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে : চসিক মেয়র

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৬

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে এগিয়ে যাওয়ায় হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন তথা এসডিজি’র প্রধান লক্ষ্য। এই এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সম্পৃক্ত করায় মেয়র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আজ শনিবার সকালে ইউকেএইড ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী- ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় বাস্তবায়িত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এ উপলক্ষে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে বিশাল নারী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এলআইইউপিসি’র সদস্য সচিব, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এলআইউপিসি’র প্রকল্প পরিচালক আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম জসিম, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসি, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আবদুল্লাহ আল মামুন,  সিডিসি’র সভাপতি কোহিনুর আক্তার।

এ সময় চসিক কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস খান, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, মো. ইসমাইল বালী, মো. মোবারক আলী, ছালেহ আহমদ চৌধুরী, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাসেমসহ সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরগণ ও অন্যান্য উর্ধবতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এলআইইউপিসি প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার মোঃ সরোয়ার হোসেন খাঁন। সিটি মেয়র বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ২৪টি ওয়ার্ডের ৪০০ সিডিসির ৫৮৮৪ জনকে ৪ কোটি ৮১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা আর্থ-সামাজিক অনুদান দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি মূলক প্রশিক্ষনের জন্য  ৮২৯ জনকে ১ কোটি ১২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা, ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির জন্য  ১৮৮৪ জনকে ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা এবং উপকারভোগীদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তার জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি হিসাবে ৩৩৭৪ জনকে ১ কোটি ৮৩ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত কর্মমুখী দক্ষতাবৃদ্ধি মূলক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা উপবৃত্তি ও পরিবারের আয় বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেন সিটি মেয়র।

তিনি  আরো বলেন এই অনুদান নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে যথাযথভাবে কাজে আসবে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচী অব্যাহত রাখবে। মেয়র বলেন, এসডিজি অর্জনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ তার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে মেয়র প্রত্যাশা করেন। এ প্রকল্পের ৫টি কম্পোনেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে আজকে ১টি কম্পোনেন্ট এর আওতায় ৫৮৮৪ জন পরিবারকে আর্থ-সামাজিক অনুদান দেয়া হয়েছে।

অন্য কম্পোনেন্ট এর আওতায় জলবায়ু সহিষ্ণু ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র বসতি এলাকায় আবাসন উন্নয়ন ও নিজস্ব পুঁজি গঠনের মাধ্যমে আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ রয়েছে। সেগুলো ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রসঙ্গে তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন দরিদ্র মানুষের আবাসনের জন্য সরকার মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী বছর থেকে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে এবং ২০২৩ সালে শেষ হবে।

তিনি বলেন সরকারের সকল পরিকল্পনার মূলে রয়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়ন। এ লক্ষে সরকার নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মই অনুনেয় যে, এ সরকার জনকল্যাণ মুখী সরকার। তাই সরকারের সকল কাজে সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মেয়র। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত উপকারভোগীদের মাঝে সিটি মেয়র ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট একাউন্টের মাধ্যমে অনুদান তাৎক্ষনিক প্রেরণ করেন। এতে উপকারভোগীরা উল্লাসে ফেটে পরেন এবং সিটি মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 
এবিএন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ