আগামীকাল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২৪

আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী । নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষ স্মরণ করছেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরের মধ্যে এ বীরের নামে নির্মিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরসহ নানা স্থাপনা নির্মিত হলেও বর্তমানে সেগুলি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে যে লক্ষ্যে এ বীরের নামাকরণে এসব স্থাপনা করা হয়েছে তা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে  ম্লান হয়ে যাওয়ার অভিযোগ স্থাণীয় এলাকাবাসী ও স্বজনদের।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের বাগপাঁচড়া গ্রামে ১৯৩৪ সালে রুহুল আমিনের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধের  গোটা সময় তিনি জীবন বাজি রেখে লড়েছেন   শত্র“দের বিরুদ্ধে। চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ৬ দিন পূর্বে এ দিনে খুলনার রুপসায় শাহাদাত বরণ করেন এ বীরযোদ্ধা। তার সম্মানে সরকার বাগপাচড়া গ্রামকে রুহুল আমিন নগর নামে নামকরণ করেন।

 এছাড়া এ বীরের অবদানকে স্মরনীয় করে রাখার লক্ষে  তার জন্মস্থানে ২০০৮  সালে শহীদ মো: রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হয়।  কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে এ গ্রন্থাগার  ও স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে সেটি সঠিকভাবে তত্ববধায়ন না করার কারনে আস্তে আস্তে সেটি ম্লান হয়ে যাওয়ার পথে। স্থাণীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়মিত এ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর খোলা রাখা হয় না এবং পরিচর্যা করা হয় না। লাইব্রেরীতে নতুৃন নতুন বই সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি পত্রিকা দেয়া বন্ধ রয়েছে গত ছয় বছর ধরে।

 রুহুল আমিন নগর হিসেবে গ্রামটির নামাকরন করা হলেও গ্রামটি রাস্তাঘাট ও তার নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর ও বেহাল অবস্থা। এ নিয়ে ও ক্ষোভ এলাকাবাসীর। এদিকে নৌবাহিনীর উদ্যোগে গত বছর রুহুল আমিনের ছেলে শওকত আলীর থাকার জন্য প্রায় ৬২ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি পাকা ভবন পুন:নির্মাণ করে দেয়া হয়। এতে তারা খুশী হলেও সরকারি ভাতা কম হওয়ায় বর্তমানে তার সংসার চলতে হিমশিম খেতে হয়।

 বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামের স্থাপনাগুলো বেহাল অবস্থার কারনে স্থাণীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হলে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের নামকারনে স্থাপনাগুলোর সমস্যা দ্রুত সমাধানে দাবি স্থাণীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী।
আর নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর ও গ্রন্থারের বিদ্যমান নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, দ্রুত সময়ে সেখানে নিয়মিত পত্রিকা সরবরাহ, সার্বক্ষনিক কেয়ারটেকার থাকার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর নামের স্থাপনা যথাযথভাবে সংরক্ষনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহননের কথা জানান।

এ বীরশ্রেষ্ঠর প্রতি যথাযথ সম্মান, স্থাপনা গুলো সঠিক রক্ষনা বেক্ষনসহ ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি খুলনার রুপসা নদীর পাড় থেকে নোয়াখালী তাঁর নিজ গ্রামে স্থানান্তর করতে প্রধানমন্ত্রী ও  মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান নোয়াখালীবাসী।


এবিএন/গোলাম মহিউদ্দিন নসু/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ