তিতাসে প্রাথমিক স্কুলে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৪

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে মেশিন স্থাপন কারীদের কাছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছিল অসহায়। অনুসন্ধানে জানা যায় উপজেলার ৯৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা না করে জৈনক দুই ব্যাক্তি মেশিন স্থাপন করে প্রতিটি মেশিন প্রতি ২০হাজার টাকা করে  নিয়েছে।

এসময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোন ক্যাশ মেমোও দেয়নি ওই জৈনক ব্যাক্তিরা। আলোচনায় রয়েছে মেশিনটির  বাজার মূল্য রয়েছে ৭হাজার টাকা তার চেয়ে কিছু বেশী। ডিজিটাল মেশিন স্থাপন কালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই জৈনক দুই ব্যাক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তারা জানায় আমরা এমপির লোক,একজন আতাউর রহমান সানু বাড়ী তিতাস অপরজন আকবর বাড়ী হোমনা।

 উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন মন্ত্রনালয়ের নির্দশ অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেশিনটি কিনার কথা কিন্তু আমরা অসহায়,আমাদের সাথে আগে কোন প্রকার আলোচনা না করে হঠাৎ করে এমপি মহোদয়ের নাম বলে দুই ব্যাক্তি এসে মেশিন লাগিয়ে দিয়ে যায় আর বলে যায় মেশিনের দাম ২০ হাজার টাকা,উপজেলায় নিয়ে আসবেন এবংতাদের কথা মত উপজেলায় গিয়ে টাকা পৌছে দিতে হয়েছে যেমন কথা তেমন কাজ ।

উক্ত মেশিনে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী যা যা থাকার কথা তার অর্ধেকও নেই বলেও জানায় শিক্ষকরা। এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় উন্নয়ন-২ শাখার ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ইং স্মারক নং-৩৮.০০.০০০০.০১০.০৬.০০১.১৮-১৬৮ সুত্রে জানা যায় গত ১৩ অক্টোবর২০১৯ তারিখ মন্ত্রনালয়ের ৩৮.০০.০০০০.০১০.০২.০১৯.২০১৮-১৬৫ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে সকল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের জন্য মেশিনের ১৫টি স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করে দেয় এবং উপযুক্ত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রীয় মূল্যে নিজেদের পছন্দমত ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে স্কুলে স্থাপন করবে। এক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট  প্রতিষ্ঠান হতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে আরো উল্লেখ আছে যে,স্ব-স্ব বিদ্যালয় অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে নিধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সাশ্রীয় মূল্যে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে বিদ্যালয়ে স্থাপন করবে।মন্ত্রনালয়ের এমন নির্দেশনা থাকলেও তিতাস উপজেলায় ঘটেছে তার ব্যাতিক্রম।এবিষয়ে আতাউর রহমান সানুর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছুই জানিনা,আমি শুধু আকবর ভাইকে স্কুল গুলি চিনিয়ে দিয়েছি। আকবরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন সাক্ষাতে আপনার সাথে কথা বলব।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার শরিফ রফিকুল ইসলাম বলেন  মেশিন গুলো এমপি সাহেবর লোকজন লাগিয়েছে এবিষয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা তবে আমি একটি পাসওয়ার্ড পাওয়ার কথা ৪মাস হলো এখনও পাইনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন তিতাসের বিদ্যালয় গুলোতে যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হয়েছে আমি জানিনা, তবে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় ১৫টি স্পেসিফিকেশন দেয়া আছে সে মোতাবেক মেশিন ক্রয় করতে  হবে এর ব্যত্যয হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।তবে কুমল্লিা সদর স্কুল গুলোতে লাগিয়েছে তারা আমাকে একটি পাসওয়ার্ড দিয়েছে আমি অফিসে বসে মনিটরিং করতে পারছি।

 বিভাগীয় উপ-পরিচালক সুলতান মিয়া বলেন তিতাস ও হোমনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে অনিয়মের কথা আমরা শুনেছি,আপনারা নিউজ করেন আমরা ব্যবস্থা নিবো।

 এবিষয়ে স্থানীয় এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি শিক্ষা অফিসারকে বলেছি ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে যে টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা যেনো সঠিক ভাবে ব্যয় হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে অথবা যে কোন কোম্পানীর মাধ্যমে মেশিন গুলো স্থাপন করার জন্য। আর মেশিনের দাম যদি বেশী হয়ে থাকে তাহলে বাজার যাচাই করলেই জানা যাবে কত টাকা কমবেশী হয়েছে। তবে মেশিনের গুনগত মান দেখতে হবে।আর ক্যাশ মেমো দিবেনা কেনো? এটা শিক্ষকরা চেয়ে নেবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এমপি বলেন পাসওয়ার্ড পেতে হলে আলাদা একটা software লাগে ঐটার জন্য কোন বরাদ্ধ দেয়া হয়নি। এটা লাগাতে হলে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্ধ আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
 

এবিএন/কবির হোসেন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ