চসিকের ৫২তম সাধারণ সভায় মেয়র

চট্টগ্রামের গেজেটভুক্ত ১৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেবে চসিক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৩৩ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৩৫

সভায় মহান বিজয় দিবস ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের গেজেটভুক্ত ১৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে চসিক ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১১শত ৮২ জন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে। তন্মোধ্যে বর্তমান মেয়রের সময়ে সংবর্ধনাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হচ্ছে ৫শ ৮৮ জন।

এই বছর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার ক্ষেত্রে  চসিক সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরা ২ জন করে নগরীর গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা জমা দেবে। নগরীতে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া না গেলে চট্টগ্রাম জেলা-উপজেলা হতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তবে ইতোমধ্যে চসিক হতে সংবর্ধনাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা এই সংবর্ধনায় অন্তর্ভূক্ত  হবে না। আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৫ম পরিষদের ৫২তম সাধারণ সভায়  এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে সাধারন সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন।

সভায় চসিক প্যানেল মেয়র,কাউন্সিলর,সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লেঃ কর্ণেল সোহেল আহমদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস,সিটি মেয়রের একান্তসচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম,  প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরীসহ চসিক বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগন এবং নগরীর সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনায় ছিলেন চসিক সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী।  

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য প্রযুক্তি শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই। একটি সময় এই কথাগুলো রূপকথা বলে মনে হলেও একবিংশ শতাব্দীতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আজ ডিজিটাল শব্দ বহুলভাবে প্রচলিত। রাজধানীর পাশাপাশি ডিজিটাল চট্টগ্রাম ও বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রায় ৫শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে চসিক। প্রকল্পটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে পরিবেষ্টিত করা হবে। এই স্মার্ট সিটির বাস্তবায়নে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম বা জিএস পদ্ধতি অঙ্গাঙ্গীকভাবে জড়িত। এর মাধ্যমে একটি শহরের  সকল তথ্য উপাত্ত আদান-প্রদান নগর পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে জিএস পদ্ধতি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধিতে   জিএস পদ্ধতি সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সকল প্রক্রিয়া অনুসরনের পর চসিক এবং আইডব্লিউএম এর মধ্যকার চুক্তিতে  আবদ্ধ হবে   বলে সিটি মেয়র উল্লেখ করেন । তিনি বলেন, নগরীতে সুষ্ঠু ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট না থাকার কারনে   নগরবাসীর ভোগান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  নগরবাসীকে এই ভোগান্তি থেকে উত্তরনে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা অপরিহার্য। এই ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নগরীতে এসি বাস চালু করবে চসিক ।

যা জানুয়ারিতে ৩টি সড়কে এই বাসগুলো চলাচল করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২ শত এসি বাস রাস্তা নামানো হবে। নগরীর কালুরঘাট হতে পতেঙ্গা,ভাটিয়ারি হতে লালদিঘী,নিউ মার্কেট হতে ফতেয়াবাদ পরীক্ষামূলকভাবে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।  সিট কেপাসিটি ও নির্দিষ্ট স্টেশনে বাসগুলোর যাত্রী-সাধারন  উঠা-নামা করবে। ইতোমধ্যে এই বাসগুলোর জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাসগুলো রক্ষনা-বেক্ষনের জন্য নগরীর মেরিনার্স রোডের পাশে একটি টার্মিনালও নির্মাণ করেছে। একেকটি  রোডের জন্য একেক কালারের  বাস দেয়া হবে, যা যাত্রী সাধারন কালার দেখে রোড চিহ্নিত করতে সহজ হবে।  এতে বিশৃংখলা দূর হবে। নগরীর সৌন্দর্য অনেকগুন বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি বলেন।  
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে সীমিত, স্বল্প আয়ের দরিদ্র ও হতদরিদ্র লোকদের  হেলথ কার্ড প্রদান করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রতি ওয়ার্ডে  ১ হাজার পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হবে। সাধারন কাউন্সিলররা ৮শত এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলররা হেলথ কার্ডের জন্য ২শ জন হত দরিদ্র লোকদের তালিকা প্রদান করবে। হেলথ কার্ড প্রাপ্ত পরিবার চসিক এর সকল ধরনের স্বাস্থ্য সেবা ভোগ করতে পারবে।

এতদসংক্রান্ত বিষয়ে ২৬ নভেম্বর  সিটি কর্পোরেশন কনফারেন্স হলে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৪১টি ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পেশাজীবী এনজিও সংগঠন সংশ্লিষ্ট থানার সমন্বয়ে মাদক, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী  সমাবেশ ডিসেম্বরে ২য় সপ্তাহে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

 সভায় চসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানউন্নয়নে দুইটি মডেল টেস্ট  পরীক্ষা অনুষ্ঠান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও নিয়োগ, গাড়ী সমূহের রেজিষ্ট্রেশন করণ, জাকজমক পূর্ণভাবে বিজয় দিবস উদযাপন, হালিশহর গার্ভেজট্রিটমেন্ট প্লান্টের আধুনিকায়ন, চসিক ডা.জাকির হোসেন হোমিও প্যাথিক কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি , সিজেকেএস আয়োজিত বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা বালক ও বালিকা অনুর্ধ ১৭ ফুটবল টূর্ণামেন্টে অংশগ্রহণ,রাস্তায় অবস্থিত ডাষ্টবিন অপসারন,ওয়ার্ড ভিত্তিক দূর্যোগ মোকাবিলার জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে চলমান সৌন্দর্য বর্ধনসহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।  এছাড়াও  বিগত সভার কার্যবিবরণী আলোচনা সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ ও সংস্থাপন, শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যরক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত, নগর অবকাঠামো নির্মাণ ও সংরক্ষণ,আইন শৃংখলা, যোগাযোগ, নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ ও কমিউনিটি সেন্টার, পরিবেশ উন্নয়ন সম্পর্কিত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র হ্রাসকরণ ও বস্তি উন্নয়ন,পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন, পানি ও বিদ্যুৎ ষ্ট্যান্ডিং ও নামকরণ উপ- কমিটির চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব কমিটির কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন এবং আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভার শুরুতে নগরীতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুণ-উর-রশিদ চৌধুরী।
 

এবিএন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ