সোনাগাজীতে স্কুল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষনের পর হত্যা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০১৮, ১৭:৫২

সোনাগাজী (ফেনী) , ২৫ জুন, এবিনিউজ : সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউপির সেনেরখিল গ্রামে গতকাল রবিবার রাতে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে আছমা আক্তার শোভা নামে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের পর হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। স্থানীয় মঙ্গলকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত ছিলো নিহত ছাত্রী। সে ওই গ্রামের আনোয়ারের বাড়ীর মোহাম্মদ দুলালের মেয়ে। বাড়ীর পাশে একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধারের পর রাতেই পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তার শরীরের অসংখ্য স্থানে আঘাতের চিহ্ন, স্পর্শকাতর অংশে ও গোপানাঙ্গে জখমের চিহ্ন থাকায় ধারনা করা হচ্ছে তাকে গনধর্ষন করে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃতদেহ পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহতের  মা বিবি কুলসুম জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় শোভা প্রতিদিনের মতো বাড়ীর পাশে নানার ঘরে তরকারী গরম করতে যায়। ঘরে ফিরে আসতে দেরী হওয়াতে খবর নিতে গেলে তার মামি জানায় সে তরকারী গরম করে চলে গেছে। তারপর আত্মীয় স্বজনদের সাথে নিয়ে চারদিকে অনেক খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত সাড়ে ১১ টার সময় স্থানীয় এলাকাবাসী বাড়ীর ২০০ গজ দুরে জুতা দেখতে পেয়ে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে পুকুরে  অর্ধনমিত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে খবর দিলে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যায়।

নিহতের মা আরো জানায়, তাদের সাথে কারো দ্বন্ধ নেই। শোভার সাথে কারো প্রেম ছিলো বা তাকে কেউ কখনো হুমকি দিয়েছে এরকম সে কখনো জানায়নি।
নিহতের বড় বোন আয়েশা আক্তার জানান, নানার ঘর থেকে ফেরার সময় তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে।বৃষ্টির কারনে আমরা তার চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পারিনি।


মৃতদেহ উদ্ধারকারী স্থানীয় ব্যাক্তি জানিয়েছে , উদ্ধারের সময় তার শরীরে কোন জামা-কাপড় ছিলোনা এবং শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তার মুখ দিয়ে ফেনা ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। তাকে টেনে নিয়ে যে পুকুরে ফেলানো হয়েছে ঘটনাস্থলে তার চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, নিহত শোভাদের পরিবার খুবই দরিদ্র। তার পিতা গত কয়েক বছর পূর্বে চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে। শোভা তার বড় বোন ও মা মিলে গরু, হাস, মুরগি পালন ও ছাটাই বানিয়ে অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছে। পরিবারের সব কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত স্কুলে যেতো শোভা। তার মায়ের পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ৩ শতক ভুমিতে মামারা ঘর তৈরী করে দিলে শোভাদের পরিবার সেখানে বসবাস করছে। মেয়েটা খুবই কর্মঠ ছিলো। এরকম একটা মেয়েকে ধর্ষনের পর হত্যা করা এলাকাবাসী কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা।

স্থানীয়রা আরো জানিয়েছে, সন্ধ্যা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারনে ওই এলাকায় মানুষের তেমন আনাগোনা ছিলোানা। ধারনা করা হচ্ছে ওই সুযোগে দূর্বৃত্তরা তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষনের পর হত্যা করেছে।

আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার, ডিএসবির সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, সোনাগাজী মডেল থানার ওসি তদন্ত সুজন হালদার,সেকেন্ড অফিসার মোস্তাক আহম্মদ। তারা নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে তাদের শান্তনা দিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করে।

পুলিশ রাতেই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই গ্রামের জাহাঙ্গিরের ছেলে সোহেল কে আটক করে।মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য সোমবার দুপুরে ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার জানিয়েছে, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকান্ড। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বুঝা যাবে হত্যাকান্ডের পূর্বে নিহত শোভাকে কোন প্রকার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা? পুলিশ সর্বোচ্চ গুরত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এবিএন/আবুল হোসেন রিপন/জসিম/নির্ঝর

এই বিভাগের আরো সংবাদ