সোনাগাজীতে গৃহবধুর অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:০৩

আত্মীয়সহ এক গৃহবধুকে মারধরের পর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই ইউনিয়নের সফরপুর গ্রামের নাপিত বাড়ির মিন্টু চন্দ্র শীলের স্ত্রী পান্না রানী শীল বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলায় দায়ের করেছেন।

মামলায় আসামীরা হলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ,সফরপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে রিয়াদ,মিলন কানু নাথের ছেলে সঞ্জয় নাথ,নারায়ন চন্দ্র নাথের ছেলে সুমন নাথ,নির্মল চন্দ্র শীলের ছেলে সমীর শীল।
পান্না রানী শীল বলেন, ওমান প্রবাসী ভাইয়ের সাথে প্রবাসে চাকুরীর সুত্রে পরিচয় হওয়া মানিকগজ্ঞ জেলার সাইফুল ইসলাম গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

ওই রাতে আসামীরা বাড়িতে এসে মেহমান কোথায় আছে জানতে চেয়ে আমাকে মারধর করে। পরে তারা আমার জ্যাঠার ঘর থেকে মেহমানকে ধরে এনে বেদম মারধর করে ঘরের একটি কক্ষে জোরপূর্বক আমাদের আপত্তিকর অশ্লীল ছবি তোলে। এসময় ঘরের আলমারী ভেঙ্গে ১০ হাজার টাকা ও মেহমানের ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে আরো এক লাখ টাকা দাবী করে । টাকা দিতে না পারায় তারা আমাদের মেহমানকে বাড়ি থেকে রাস্তায় নিয়ে মারধর করতে থাকে।

ওই সময় স্থানীয় মেম্বার হামিদ তাদের ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করলে হামলাকারী চলে যায়। পরের দিন আমি হামিদ মেম্বারকে নগদ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করি। একই সময়ে তারা আমাদের মেহমানের বিকাশ একাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা কেশ আউট করে নিয়ে যায়। তাদের হুমকি ধামকিতে এলাকা ছেড়ে আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করি।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামীরা থানায় মামলা করলে বা কাউকে জানালে অশ্লীল ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়ায় ভয়ে এতদিন মামলা করতে সাহস করিনি।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, গৃহবধু থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্চে বলে দাবী করেন।


এবিএন/আবুল হোসেন রিপন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ