ধর্মপাশায় পরকীয়ার টানে প্রেমিকের বাড়ীতে গৃহবধূর অবস্থান

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৭

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় দুলেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ পরকীয়া করতে গিয়ে স্বামী-সন্তানের হাতে ধরা খাওয়ার পর গত দুদিন ধরে তার পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল আজিজের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলা সদর ইউনিয়নের মহিষের বাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানা পুলিশ গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রেমিকের বাড়ী থেকে ওই প্রেমিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। 

এ ঘটনার পর থেকেই প্রেমিক আব্দুল আজিজ বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে গত প্রায় ৩ বছর আগে ট্রেনে দুলেনা আক্তারের সাথে আব্দুল আজিজের পরিচয় হয়। এরপর থেকেই তারা দুজন পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হন। তখন থেকেই তারা দুজনই নিজ-নিজ পরিবারের কাছে একে অপরকে ধর্মের ভাই-বোন পরিচয় দিয়ে তারা উভয়ই পারিবারিকভাবেও সম্পর্কের সৃষ্টি করে তারা তাদের পরকীয়া চালিয়ে আসছিলেন। 

প্রেমিক আব্দুল আজিজ ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউনিয়নের মহিষের বাথান গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে। আর তার প্রেমিকা দুলেনা আক্তারের বাড়ী পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ উপজেলার তেথুলিয়া ইউনিয়নের পশুখালী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সোহেল মিয়ার স্ত্রী ও ৫ সন্তানের জননী। 

এ অবস্থায় গত প্রায় ২০ দিন আগে সন্ধ্যায় প্রেমিক সোহেল মিয়া তার প্রেমিকার বাড়ীতে বেড়াতে যান। ওইদিন রাত ৮টার দিকে ঘরের একটি কক্ষে দুলেনা ও তার প্রেমিক আব্দুল আজিজকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান দুলেনার স্বামী সোহেল মিয়াসহ তার এক মেয়ে। এ সময় প্রেমিক আব্দুল আজিজ কৌশলে ঘর থেকে বেড়িয়ে পালিয়ে যান। আর তখনই দুলেনা তার স্বামী সন্তানদের তোপের মুখে পরেন। এক পর্যায়ে তিনি মোবাইল ফোনে তার প্রেমিক আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করে তারা গোপনে বিয়ের করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ওই রাতেই স্বামীর বাড়ী থেকে পালিয়ে যান প্রেমিকা দুলেনা। আর তখন থেকেই প্রেমিকের কথামতো তিনি তার বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়ীতে প্রায় ১৭-১৮ দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর হঠাৎ করে গত ৩ দিন ধরে প্রেমিক আব্দুল আজিজ দুলেনার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে দুলেনা আক্তার নিরুপায় হয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেমিকের বাড়ীতে গিয়ে অবস্থান নেন।

গৃহবধূ দোলেনা আক্তার বলেন আব্দুল আজিজের জন্য আমার স্বামী, সন্তান, সংসার সবই শেষ হয়ে গেল। এখন সে আমাকে বিয়ে না করলে আমার মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আব্দুল আজিজের মা সবুরের নেছা বলেন ওই মেয়েটি আমার ছেলেকে ধর্মের ভাই বানাইছে। তাকে আমিও আমার নিজের মেয়ের মতোই মনে করি। এমনকি সে গত ৫-৬ মাস আগে আমার ছেলের বিয়েতে এসেও কয়েকদিন আমার বাড়ীতে থাইকা গেছে। আর এখন সে আমার ছেলের সাথে বিয়ে করার কথা বলে। এ কথা বলে তিনি কাঁদতে থাকেন।

এ ব্যাপারে ধর্মপাশা থানার ওসি এজাজুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্লিজ এ বিষয়ে আপনি আমার কোনো বক্তব্য লিখবেননা বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

এবিএন/মো. ইমাম হোসেন/গালিব/জসিম


       


 

এই বিভাগের আরো সংবাদ