কুমিল্লায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে চলছে বালু উত্তোলন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:০২

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আওতাধীন মেঘনা নদীর ১নং সাতমারা চরেরগাও, ২নং ভাষানিয়া দড়িচর, ৬নং সেনেরচর ও চালিভাঙ্গা মৌজার অভ্যন্তরে বালু উত্তোলন না করার জন্য মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী ”বালুদস্যু সিন্ডিকেট” স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আর্থিক রফার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত বালু উত্তোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। 

ফলে রামপ্রসাদেরচর, মহিশারচর, নলচর, ফরাজিকান্দি, সোনাকান্দা, চালিভাঙ্গাসহ ১০টি গ্রামের মানুষ নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে দিনযাপন করছে। মেঘনা নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে বসতভিটে হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এই অঞ্চল থেকে বালু উত্তোলনের ফলে উক্ত গ্রামের শত শত পরিবার নদী ভাঙ্গনের যন্ত্রনা সইতে হচ্ছে। ফলে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার্থে বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন দফায় দফায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন-নিবেদন করে আসছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নদী ভঙ্গন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কয়েকবার বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ জারি করলেও স্থানীয় প্রশাসনকে আর্থিক ম্যানেজ করে বালুদস্যু সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখে চলেছে। বালুদস্যু সিন্ডিকেটের একটির নেতৃত্বে আছেন জনৈক ওয়াশীম অপরটির নেতৃত্বে আছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ সরকার। 

উক্ত চেয়ারম্যান মেঘনার চাঞ্চল্যকর ট্রলার চালক আমির হোসেন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন ও পরবর্তীতে হত্যা মামলার চার্জশীটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হলে স্থানীয় সররকার মন্ত্রণালয় তাকে পরিষদ থেকে বহিস্কার করেন। পরে আবদুল লতিফ হাইকোর্টে রিট করলে বহিস্কারাদেশ থেকে অব্যাহতি পান। সরজমিন নদী ভাঙ্গনকবলিত কয়েকটি গ্রামে গেলে এসব তথ্য চিত্র ফুটে উঠে।

এলাকার লোকজন জানায় রামপ্রসাদচর গ্রামের জনৈক মহসীন নামে এক ব্যক্তি ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে উক্ত গ্রামগুলোকে রক্ষা করতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। পরে ওই মাসের ১১ এপ্রিল এক শোনানীতে মাননীয় হাইকোর্ট বালু উত্তোলন না করার জন্য সরকারকে ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু ওই বালুদস্যু সিন্ডিকেট হাইকোর্টের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন অব্যাহত চালিয়ে যাচ্ছে। বাড়ী-ঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া শত শত পরিবার উপায়ন্তর না দেখে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আবারও হোসাইন মোহাম্মদ মহসীন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

মাননীয় হাইকোর্ট গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২টি ইজারা বাতিলসহ আশপাশের এলকায় বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশনা পাওয়ার পর বালুদস্যুরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং ভিন্ন কৌশলে রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। বালুদস্যু সিন্ডিকেট খুবই ভয়ঙ্কর। 

রিট আবেদনকারী মোহাম্মদ মহসীন সাংবাদিকদের বলেছেন বালুদস্যুরা খুবই ভয়ঙ্কর যে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মানছে না। 

তিনি বলেন বালু উত্তেলনের ফলে এই অঞ্চলের শত শত পরিবার নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে দিনযাপন করছে। 
        
এবিএন/কবির হোসেন/গালিব/জসিম

                  
   
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ