পলাশবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৬

গাইবান্ধা, ২৩ জুন, এবিনিউজ : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এক মর্মান্তিক নৈশকোচ সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে।দূর্ঘটনায় নারী-পুরুষসহ ১৬ ব্যক্তির প্রাণহানী ঘটেছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এঘটনায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে।

সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান ও প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে রানীশংকৈলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আলম এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৪২২) যাত্রীবাহী দ্রুতগামী অতিরিক্ত যাত্রীবাহী কোচটি পলাশবাড়ী সদরের উত্তরাংশে ব্র্যাকমোড়ের অদূরে বাঁশকাটা (গরুরহাট) নামক স্থানে রংপুর-বগুড়া জাতীয় মহাসড়কে আজ শনিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত যাত্রীদের অনেকেই জানান কোচ চালক ঘুমে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের বাম পাশে একটি বিশাল এন্ট্রিকড়ই গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে।এসময় কোচটির উপরাংশের ছাদ ও সম্মুখ- ভাগসহ গোটা বর্ডি প্রায় দুমড়ে-মুচরে যায়।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টীম ভোর ৫টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, হাইওয়ে ও থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা স্থানীয়দের সার্বিক সহায়তায় সামগ্রিক উদ্ধার তৎপরতা চালান। ঘটনাস্থল থেকে নিহত ৭ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার এবং গুরুতর আহত ৪০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে, দুর্ঘটনাস্থলে গুরুতর আহতদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দুর্ঘটনা কবলিত কোচ হতে যাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতায় নামে স্থানীয়রা। গুরুতর আহত এবং মৃত যাত্রীদের ব্যাগ-ল্যাগেজে থাকা টাকা-পয়সা ও পোষাক-পরিচ্ছদ লুটতরাজসহ মূল্যবান জিনিষপত্র-সামগ্রী হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়।

এসময় বেলা বাড়ার সাথে-সাথে চিকিৎসাধীন আহত- দের মধ্যে আরো ৯ জন যাত্রীর মৃত্যু ঘটে।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাড়ায় ১৬ জন-এ। কোন স্বজন না থাকায় প্রাথমিক ভাবে নিহতদের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহতদের মধ্যে অধিকাংশরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি বিভাগসহ গোটা চত্বরের মেজেতে সংজ্ঞাহীন অজ্ঞাত গুরুতর আশঙ্কাজনকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

গোটা হাসপাতাল চত্ত্বর জুড়ে আহতদের গগনবিদারী আহাজারিতে যখন প্রকম্পিত ঠিক তখনও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. ওয়াজেদ আলী সহ দায়ীত্বশীলরা হাসপাতালে পৌঁছনি।

অনেক বিলম্বে হাসপাতালে আসা এবং চিকিৎসা সেবায় নানা অনিয়ম, অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিতরা এসময় টিএইচওসহ দায়িত্বশীলদের উপর মারমুখি হয়। অবস্থা বেগতিক হয়ে পড়লে পুলিশের তাৎক্ষনিক হস্তক্ষেপে বিরাজমান পরিস্থিতি অবশেষে শান্ত ও স্বাভাবিক হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর পরই পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান,উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আরিফ হোসেন, থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম, উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহীনুর আলম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সাব-ইনচার্জ আব্দুল হামিদ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ সার্বিক দেখভাল করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক নিহতদের মরদেহ সৎকারে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। এছাড়া পরিচয় সনাক্ত সাপেক্ষ স্বজনদের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন কুষ্টিয়া জেলা সদরের সুমন (৩৫), মঞ্জুর (৩৫), ঠাকুরগাঁওয়ের নূর আলম (৩৫), মমতা বেগম (৩৫), নীলফামারীর হাফিজুর রহমান (৪০), সুরেশ (৫০), চয়ন (৮), সিরাজগঞ্জের বাদশাহ (৩৫), টাঙ্গাইলের আবু সাঈদ (৩৫), তেঁতুলিয়ার আশরাফুল (৩৫), দিনাজপুরের নাঈম ইসলাম (৩৫) ও যশোরের আলী হোসেন (৪০)।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি গুরুতর আহতদের সকলকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। 

এবিএন/ আরিফ উদ্দিন/জসিম/নির্ঝর