জগন্নাথপুরে মাওলানা ফয়েজ আহমদের মতবিনিময় সভা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:০৪

মাদীনাতুল খাইরী আল ইসলামীর চেয়ারম্যান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর এলাকার বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের ইক্বরা টিভির ভাষ্যকার বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শায়খ মাওলানা ফয়েজ আহমদ জগন্নাথপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। 

গতকাল শনিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে মাদীনাতুল উলূম হবিবপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় মাওলানা ফয়েজ আহমদ বলেছেন ভালো কাজ করতে গেলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে। মহান আল্লাহ পাক যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাবো। মাদীনাতুল খাইরী আল ইসলামীর উদ্যোগে বাংলাদেশসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে জনকল্যাণে কাজ করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন আমি ১৯৮৪ সালে জগন্নাথপুর থানা ইসলামী পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে এ পাঠাগারটি ব্যারিষ্টার আব্দুল মতিনের দানকৃত ভূমিতে স্থানান্তর করা হলে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে মসজিদটি পাঠাগার মসজিদ হিসেবে পরিচিত। 

তিনি বলেন ছোট বেলা থেকেই আমার লেখালেখির প্রতি ছিল আগ্রহ। যার কারণে আমার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক তাহরিক ও মাসিক অভিযান নামে পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৯৯৪ সালে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সৌদি আরব চলে যাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি সেখানে শেখ মোহাম্মদ ফউজান মসজিদে ইমামতি করি। ২০০১ সালে লন্ডনে চলে যাওয়ার পর সেখানে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার  ইসলামী বিভাগে কাজ করি। ২০১৫ সালে এক বন্ধু মাওলানা ইমাম ক্বাসিমের সহযোগিতায় একটি চ্যানেল ক্রয় করে পরবর্তীতে ইকরা বাংলা টিভি নাম দেই। ইকরা বাংলা টিভি  ইউরোপ ছাড়া আমেরিকা ও মধ্যপাচ্যে সম্প্রচার রয়েছে। বাংলাদেশে ঢাকা ও সিলেটে স্টুডিও রয়েছে। ছোট বেলা থেকে আমার জনসেবার প্রতি আগ্রহ ছিল। ২০০১ সালে হবিবপুর এলাকায় মাদীনাতুল খায়রী আল ইসলামী প্রতিষ্ঠা করি। ২০০৫ লন্ডনে চ্যারিটি ট্রাস্ট্রি হিসেবে মাদীনাতুল খাইর ইসলামী অনুমোদন পায়। অনুমোদনের পর থেকে সরকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। মাদীনাতুল খাইরীর মাধ্যমে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ৫ বছর পূর্বে তারাবীর নামাজরত অবস্থায় বজ্রপাতে মসজিদের ইমামসহ ১৩ জন শহীদ হন। 

এ খবর পাওয়া মাত্রই আমি লন্ডন থেকে দেশে এসে তৎকালিন পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় ধর্মপাশায় যাই এবং তাদের দূরবস্থা দেখে আর্থিক সহযোগিতা করি। সেখানে লাশ দাফনের জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্দশার কথা চিন্তা করে  ১১ ফুট উচু করে প্রায় ৮০ লাখ খরচ করে কবরস্থান নির্মাণের পাশাপাশি নদীর দুপাড়ে দুটি মসজিদ, ঘরবাড়ীসহ টিউবওয়েল স্থাপন করে থাকি। 

এ ছাড়া মাদীনাতুল খাইরীর অর্থায়নে বজ্রপাতে নিহতের পরিবারের ৬ মেয়ের বিবাহের অনুষ্ঠানে ১০ হাজার লোকের উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। মাদীনাতুল খাইরীর মাধ্যমে ঝিনাদহে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়–য়া এক শিক্ষার্থীকে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা করা হলে শিক্ষার্থী সম্পন্ন সুস্থ হয়ে বর্তমানে মাষ্টার্সে অধ্যায়নরত রয়েছে। ওই  এলাকায় ঘরবাড়ী নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। সিলেটের আলোচিত রাজন হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে মাদীনাতুল খাইরীর চেয়ারম্যান হিসেবে আমি সাথে দেশে এসে রাজনের বাড়ীতে যাই। রাজনের ঘরের বেহাল দশা দেখে মাদীনাতুল খাইরীর অর্থায়নে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহ নির্মাণ করে দেই। মাগুড়া জেলায় কোন টাইটেল মাদ্রাসা না থাকায় সেখানে মাদীনাতুল খাইরীর অর্থায়নে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়। 

এ ছাড়া আমার নিজ জন্মভূমী হবিবপুর এলাকায় ঘর নির্মাণ, পৌর শহরের বাদাউড়া এলাকায় আমার মালিকানাধীন ভূমিতে মসজিদ, কবরস্থান নির্মাণ  ছাড়াও  বাদাউড়া এলাকায় ২০/২৫টি ঘর ও মাদ্রাসার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাছা আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছে পৌর এলাকায় আমার মালিকানাধীন ২৫ কেয়ার ভূমিতে একটি আদর্শ গ্রাম স্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। 

বাংলাদেশের পাশাপাশি মাদীনাতুল খায়রী আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র, উগান্ডা, কেনিয়া, সোমালিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কেনিয়ার লামোতে পাটে আইল্যান্ড এ মাদীনাতুল খাইর ওই দেশের গভর্নরের চেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। যার কারণে সেখানে সফরে গেলে সেদেশের গভর্নর আমাদের রাষ্ট্রীয় ফটোকল দিয়ে থাকেন। এ দ্বীপে মসজিদ, হাসপাতাল ও একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন সোমালিল্যান্ড নামে একটি রাষ্ট্রে ৩ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এমন সংবাদে আমি সেখানে যাই। সেখান থেকে ১৬ ঘন্টা পথ অতিক্রম করে মাদীনাতুল খাইরীর অর্থায়নে ১০ ট্রাক খাদ্য নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করে থাকি। পানির সমস্যা দূরকরণে সেখানে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করি এবং ১০টি ট্রাক ক্রয় করে ট্রাকের মাধ্যমে পানি নিয়ে সেখানকার জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করে আসছি। তাদের এ স্মৃতিগুলো আমাকে এখনো কাদায়। দেশে এসে আমি উন্নয়ন জীবনযাপন না করে সাধারণ জীবনযাপনের  মাধ্যমে বাকী সময়টুকু জনসেবায় নিজেকে জড়িয়ে রাখতে সকলের দোয়া সহযোগিতা কামনা করছি। 

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা সৈয়দ শাহিদ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জগন্নাথপুর উপজেলা মাওলানা সাইফুর রহমান সাজাওয়ার, সুরমা ডট টিভির ইসলামীক আওয়াজ বিভাগের পরিচালক মাওলানা এমদাদুল হক, মাদীনাতুল খাইরী আল ইসলামীর কার্য নির্বাহীর সদস্য মিজানুর রহমান সিপন প্রমূখ। 

এবিএন/রিয়াজ রহমান/গালিব/জসিম
   

এই বিভাগের আরো সংবাদ