আদালতে জবানবন্দিতে পুলিশের নাম বলায় ধর্ষিতাকে মারধরের অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৪

আদালতের জবানবন্দিতে পুলিশের নাম বলায় সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের শিকার বিধবা পারুল আক্তার কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

ভিকটিম বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে তাকে ধর্ষনের জন্য পুলিশের এএসআই সুজন চন্দ্র দাসের নাম বলায় তাকে আদালত প্রাঙ্গনে মারধর করে পুলিশ। তারা আমাকে চড় থাপ্পড় কিল ঘুষি মারেন। সে আরো বলেন, থানায় মামলা দায়েরর সময় ভয়ে আমি পুলিশের নাম বলিনি।

প্রতিবেদকের কাছে থাকা ভিডিওতে আদালত প্রাঙ্গনে ভিকটিমকে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করতে দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যরা তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে সিএনজিযোগে হাসাপাতালের নিতে চাইলে তাকে নারী পুলিশ সদস্যদের সাথে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা গেছে।

আদালতের একটি সূত্র জানায়, ২২ধারায় জবানবন্দি প্রদান করার সময় ওই নারীকে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। যার ফলে তিনি অনেক অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন। এছাড়া উপস্থিত পুলিশ সদস্যসহ অনেকের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে।

গত বুধবার ধর্ষণের মামলার দায়েরের পর ভিকটিমকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মডেল থানার ওসি(তদন্ত) খালিদ হোসেন ও দুই জন নারী পুলিশ সদস্য ফেনী আদালতে যায়। ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া হোসেনের আদালতে ফৌজধারী দন্ডবিধি ২২ ধারা মোতাবেক ভিকটিম তাকে ধর্ষনের জন্য এএসআই সুজন চন্দ্র দাসের নাম প্রকাশ করে একাধীক নির্ভরযোগ্য সুত্রে এমনটা জানা গেছে।

জবানবন্দি গ্রহন শেষে বিকালে তাকে নিয়ে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে যায়। সেখানে ডাক্তার না পেয়ে তারা ভিকটিমকে শহরের ট্রাংক রোড় সংলগ্ন প্রেসক্লাবের পাশে সাইকা ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের যায়।

ওই সময় এই প্রতিনিধি সহ কয়েকজন সংবাদ কর্মীর সাথে কথা হয় বিধবা পারুল আক্তারের। পুলিশের উপস্থিতে সে জানায় গত রবিবার রাতে ও সোমবার দুদফা ধর্ষনের শিকার হয়ে মঙ্গলবার থানায় মামলা করলে গেলে তাকে আর বাড়িতে যেতে দেয়নি। তাদের শিখানো জবানবন্দি প্রদানের জন্য তাকে মারধর করা বলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখান।

অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ওসি(তদন্ত) খালিদ হোসেন বলেন, ধষিতা নারীকে পুলিশ নির্যাতন করেনি, সে নারী কনস্টেবলকে কামড় দিয়ে আহত করেছে,তার কথাবার্তা অসংলগ্ন।জবানবন্দিতে কি বলেছে সেটা জানতে পারিনি। প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় অনেক লোকের উপস্থিতিতে ভিকটিক তার হাতে সামান্য আঘাতের চিহ্ন দেখান।

এদিকে এএসআই সুজন চন্দ্র দাস কে প্রত্যাহারের বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, ভিকটিম পারুলের জমিজমা সংক্রান্ত মামলাটি সঠিক তদন্ত করতে না পারায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভিকটিম ২২ ধারায় আদালতে কি বলেছে সেটা জানা যায়নি। ভিকটিমকে শুক্রবার বিকালে তার পিতা মাতার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এরআগে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার বিধবা নারী (পারুল বেগম) মামলা করতে গিয়ে থানার সামনে রহিমা সুন্দরী (৪০) নামে এক নারী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে গণধর্ষণের শিকার হন। ভিকটিম ওসি মঈন উদ্দিনেরর কাছে গেলে তার বর্ননা মতে মামলা রুজু করে গত মঙ্গলবার রাত পুলিশ সঞ্জু শিকদার (৩৫) ও নারী প্রতারক রহিমা সুন্দরী (৪০) কে গ্রেফতার করে।

গত রবিবার গভীর রাতে দিকে শম্ভু শিকদার, আফলাছ সহ ৫ জন যুবক রহিমা সুন্দরীর সহযোগিতায় তার ঘরে ঢুকে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষকদের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সাথে থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি ও ৮ আনা ওজনের চেইন নিয়ে যায়।


এবিএন/আবুল হোসেন রিপন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ